Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৬
আ- মরি বাংলা ভাষা
সংসদেও অনেকে অশুদ্ধ বাংলায় কথা বলেন
করুণাময় গোস্বামী
সংসদেও অনেকে অশুদ্ধ বাংলায় কথা বলেন

শিশুর জন্ম থেকে শুরু হয় মাতৃভাষার পাঠ। তার আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ পায় মাতৃভাষার মাধ্যমে।

এজন্য মাতৃভাষা সব মানুষের পরম সম্পদ। এর জন্য সবারই একান্ত ভালোবাসা থাকে। মাতৃভাষার জন্য আমরা লড়াই করেছি। এ ঘটনা সারা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। আমাদের ঐতিহাসিক ভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপিত হয়। এ দিবসের উদ্দেশ্য স্ব স্ব জাতির মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের দায়িত্ব অনেক। অথচ বাংলা ভাষার সর্বত্র ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। মাতৃভাষা হিসেবে বাংলার রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। দিনে দিনে বাংলা ভাষার ব্যবহারে নানা রকমের বিকৃতি দেখা যাচ্ছে। পরিবার পর্যায়ে ভাষার শুদ্ধ ব্যবহারে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অন্যদিকে বিদ্যালয়, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারে সচেতন নন। অথচ ভাষাপ্রেম দেশপ্রেমের অবধারিত অংশ। পরিস্থিতি বিবেচনা করলে বাংলা ভাষার অবস্থান সন্তোষজনক নয়। সংসদ থেকে শুরু করে রেডিও, টেলিভিশন, পত্রপত্রিকায় ভাষার অপব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়। জাতীয় সংসদে অনেক সদস্য রয়েছেন যারা ভুল উচ্চারণে, অশুদ্ধ বাংলায় কথা বলেন। টেলিভিশনের টক-শোয় একই অবস্থা। এফএম রেডিওর জকিগুলো ইংরেজি বাংলা মিশিয়ে একটা বাজে পরিস্থিতির অবতারণা করে। স্কুলের বাচ্চারা এসব অনুষ্ঠান শোনে। তারা অনেক কিছু মুখস্থ করে ফেলে। এজন্য সবার সচেতনতা প্রয়োজন। নিয়ম করে বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধ সম্ভব হবে না। সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এগুলো নিয়ন্ত্রণের কথা বললে কে শুনবে। কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। আমার ধারণা, পৃথিবীর বহু জাতি এখনো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে জানে না। এ ব্যাপারে আমরা তেমন কিছুই করছি না। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যচিত্র নির্মাণ করে দেশ-বিদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজে তা প্রচার করা প্রয়োজন। ভাষার সঠিক ব্যবহারে পরিবার থেকে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। দেশের মিডিয়াগুলো এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। লেখক : শিক্ষাবিদ-প্রাবন্ধিক

এই পাতার আরো খবর
up-arrow