Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৬
শেখ হাসিনার অধীনেই ভোট প্রস্তাব দেবে বিএনপি
মাহমুদ আজহার
শেখ হাসিনার অধীনেই ভোট প্রস্তাব দেবে বিএনপি

সংবিধানের আলোকেই নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক’ সরকারের প্রস্তাব দেবে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রেখেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেতে পারে দলটি।

সে ক্ষেত্রে সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনায় থাকতে পারে কয়েকটি শর্ত। প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস করতে হবে। বিশেষ করে তিনি কোনো নির্বাহী আদেশ দিতে পারবেন না। দায়িত্বে থেকেও যেতে পারেন ছুটিতে। তাছাড়া নির্বাচনকালীন তিন মাস সময়কালে সব মন্ত্রী শুধু রুটিন ওয়ার্ক কাজ করবেন। প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ চার মন্ত্রণালয় থাকতে হবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। এমনই নানা দিক বিশ্লেষণ করে মার্চের মাঝামাঝি বিএনপির সহায়ক সরকারের প্রস্তাব আসছে। প্রস্তাবনায় থাকছে বেশ কিছু বিকল্প। দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সহায়ক সরকারের বিকল্প প্রস্তাবনায় থাকছে সর্বদলীয় সরকার ব্যবস্থা। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দল কিংবা নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এ সরকার হতে পারে। এ ছাড়া সংবিধানের মধ্য থেকেই সংসদ ভেঙে দিয়ে তিন মাসের জন্য হতে পারে ছোট পরিসরের মন্ত্রিসভা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে না রাখার প্রস্তাবও থাকবে বলে জানা গেছে।  

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোটের দাবিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া নতুন ইসি গঠন নিয়ে কিছু দিন আগে ১৩ দফা প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ‘তত্ত্বাবধায়ক’ শব্দটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আবার সাংবাদিকদের সামনে আসার আভাস দেন। ওই সময় খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন  সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে যথাসময়ে জাতির সমীপে উপস্থাপন করব। ’   এ প্রসঙ্গে গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের একটি রূপরেখা নিয়ে কাজ হচ্ছে। তা এখনো দলীয় ফোরামে তোলা হয়নি। আশা করছি, শিগগিরই ওই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ’ তবে রূপরেখায় কী থাকছে তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন ড. মোশাররফ। এদিকে গতকাল এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘যিনি সরকারের প্রধানমন্ত্রী আছেন, তার অধীনেই নির্বাচন হবে। তিনি যদি ইচ্ছা করেন, মনে করেন, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবেন। যেটা সংবিধানে আছে। যাদের নিয়ে করার ইচ্ছা, তিনি তা-ই করবেন। ’

জানা যায়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে হোম ওয়ার্কের কাজ শেষ করেছে বিএনপি। এখন প্রস্তাবের কৌশলগত নানা দিক নিয়ে কাজ করছেন বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবীরা। এরপর বিষয়টি দলীয় ফোরামে তোলা হবে। সর্বশেষ দলের স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিয়ে আগামী মার্চের মাঝামাঝি সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনা তুলে ধরবেন বিএনপি প্রধান বেগম জিয়া। তবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাবনার মতো কয়েকটি বিকল্পও থাকতে পারে। বিএনপি মনে করে, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এ প্রস্তাব গ্রহণ করলে সব পক্ষই সন্তুষ্ট হবে।

সূত্রমতে, বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাবনায় প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্রেট কোটায় ‘অবিতর্কিত’, ‘দক্ষ’ ও ‘গ্রহণযোগ্য’ ব্যক্তি দায়িত্বে থাকতে পারেন, যারা প্রশাসনিক বিষয়গুলো দেখভাল করবেন। নির্বাচন কমিশনকে তারা সহযোগিতাও করবেন। তারা নির্বাচনের আগে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন করতে পারেন। দলের সিনিয়র একাধিক নেতা জানান, বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে সহায়ক সরকার প্রস্তাব দেবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাবেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। দলীয় কোনো ব্যক্তিকে বিএনপি সুপারিশ করেনি। একইভাবে সহায়ক সরকারের প্রস্তাবও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে বিরোধিতার খাতিরে সরকার গ্রহণ নাও করতে পারে। নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক’ সরকারের রূপরেখায় কী থাকছে— এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব সময়মতো উপস্থাপন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর আগে রূপরেখা নিয়ে কিছু বলা যাবে না। ’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তখনকার মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি। এর বদলে ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর একজন ‘সম্মানিত নাগরিকের’ নেতৃত্বে সাবেক ১০ উপদেষ্টাকে নিয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পাল্টা প্রস্তাব  দেন তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।

জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধির দূতিয়ালিতেও সে সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমঝোতা হয়নি। জাতীয় পার্টি ও পুরনো শরিকদের কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় এনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করেন। সেই সরকারের অধীনেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোট হয়। বিএনপি ও শরিকদের বর্জনের মধ্যে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow