Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১১
কাজ শুরু মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে
মাহবুব মমতাজী

ভাষা নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন বছর ধরে এ দেশের নৃভাষাবৈজ্ঞানিক সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন করেছে, যার লিখিত প্রতিবেদন প্রকাশ জুনের মধ্যে করার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনটি মোট ২০ খণ্ডে প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে ১০ খণ্ড থাকবে বাংলায় আর বাকি ১০ খণ্ড ইংরেজিতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সমীক্ষার কাজটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এর জন্য বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল মোট তিন কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এর কাজ ২০১৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ায় ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত আরও এক বছর সময় বাড়ানো হয়।

এ সম্পর্কে কর্মকর্তারা বলছেন, ভাষা নিয়ে কাজটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। যে কারও ওপর যে কোনো ধরনের ভাষা চাপিয়ে দেওয়া যায় না। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা সারা দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করেন। তাদের ভাষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা ও বোঝা অত সহজ বিষয় নয়।

সেটি সময়সাপেক্ষ। সমীক্ষার কাজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান ও বাংলা বিভাগের দুজন শিক্ষককে দিয়ে পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের সমীক্ষায় দেশে ৪১টির বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা আছে, যেগুলোর নিজস্ব বর্ণমালা কিংবা লিখিত রূপ পাওয়া গেছে মাত্র পাঁচটির মতো।

জানা গেছে, সব শিশুকে মাতৃভাষার মাধ্যমে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষাদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে শিক্ষানীতি-২০১০-এ। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অবস্থান, তাদের ভাষা পরিস্থিতি ইত্যাদি যথার্থভাবে নির্ণয় ও চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া প্রমিত বাংলা উচ্চারণের জন্য গত বছর থেকে পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার, ধরন ও তা সংরক্ষণের জন্য একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। এ নিয়ে গত বছরের ৬ নভেম্বর খুলনা বিভাগের কাজ শুরু করা হয়। ১৩ নভেম্বর শুরু করা হয়েছে রংপুরে। আঞ্চলিক ভাষা সংরক্ষণের কাজের জন্য প্রায় সাত কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভাষার বিলুপ্তি ঠেকাতে এসব কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

দুই-তিন মাসের মধ্যে বরিশাল ও সিলেটে কাজ শুরু হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু হতে ৮-১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ মো. কাবেদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নৃভাষাবৈজ্ঞানিক সমীক্ষার কাজ আমরা সম্পন্ন করেছি। এর প্রতিবেদন মোট ২০ খণ্ডের হবে। এরপর আমরা দেশের উপভাষা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগের এ কাজ চলবে। ’

জাতিসংঘে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ২০০১ সালের ১৫ মার্চ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানকে সঙ্গে নিয়ে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূত্র জানায়, এই ইনস্টিটিউটের মূল কার্যক্রম ভাষা নিয়ে গবেষণা করা। এ কাজের গতিও মন্থর। কারণ এটি সময়সাপেক্ষ। এ ছাড়া প্রশাসন ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে সমন্বয়ের বিষয় রয়েছে। বর্তমানে ভাষা জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হলেও পায়নি জনপ্রিয়তা। গত বছরের অর্জনের মধ্যে রয়েছে দেশি-বিদেশি ভাষা শিক্ষার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রাখা। লাইব্রেরি ও ল্যাঙ্গুয়েজ ডকুমেনটেশন স্থাপন করা। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে পাঁচ দিনের নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে। আজ মঙ্গলবার বিকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বলে জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় দিন বুধবার ল্যাঙ্গুয়েজ ডকুমেনটেশন নিয়ে এবং তৃতীয় দিন মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার হবে। চতুর্থ দিন আয়োজন করা হয়েছে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। পঞ্চম দিন ‘বাংলাদেশের উপভাষা : সংগ্রহ ও সংরক্ষণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow