Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৭
‘বাংরেজি’ থেকে ছেলেমেয়েদের সরিয়ে আনতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘বাংরেজি’ থেকে ছেলেমেয়েদের সরিয়ে আনতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা —পিএমও

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবন-জীবিকার জন্য অনেক সময় অন্য ভাষা শিখতে হয় এবং অনেক সময় জ্ঞান পিপাসার জন্যও ভাষা শিখতে হয়। কিন্তু সেজন্য নিজ ভাষা ভুললে চলবে না।

নিজের আঞ্চলিক বা কথ্য ভাষায় কথা বলা স্বকীয়তার পরিচায়ক। কিন্তু বাংলা ভাষাকে কোনোভাবেই বিকৃত করা যাবে না। বাংলা ও ইংরেজির মিশেলে ‘বাংরেজি’ থেকে ছেলেমেয়েদের সরিয়ে আনতে হবে। গতকাল বিকালে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনীতে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এবং বলি। কিন্তু ইদানীং ইংরেজির সঙ্গে বাংলা মিশিয়ে একটা বিচিত্র শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে এটা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। তারা এমন ভাব দেখায়, যেন এভাবে কথা না বললে তাদের মর্যাদাই থাকে না। এই জায়গা থেকে তাদের সরিয়ে আনতে হবে। ’ নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যখন যা বলবে তা ঠিকমতো সঠিকভাবে বলবে, সঠিকভাবে উচ্চারণ করবে এবং ব্যবহার করবে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাষাশহীদরা এই ভাষা আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন। অনেক রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে এই ভাষা অর্জন। এর যেন অমর্যাদা না হয়। ’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জিনিসই আমাদের সংগ্রাম করে অর্জন করতে হয়েছে। কোনো কিছু সহজে আসেনি। বার বার আমাদের ওপর আঘাত এসেছে। কিন্তু বাঙালি কখনো কারও কাছে মাথানত করেনি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের শাসক আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে। কিন্তু এ দেশের মানুষ কখনো বাইরের কাউকে মেনে নেয়নি। ’ বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও সংগ্রামের বীরত্বগাথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস বিশ্বের মানুষের সামনে তুলে ধরা দরকার। মায়ের ভাষায় কথা বলতে এবং ভাষার অধিকার আদায়ে এত মানুষ শহীদ হয়েছেন, জীবন উত্সর্গ করে গেছেন। সেই ইতিহাসও সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার। ’ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকায় ইউনেস্কো প্রতিনিধি বিট্রেস কালডুন, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জিনাত ইমতিয়াজ আলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনেস্কোর ভাষাবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যানভিটা আর্বি।

বাংলা ভাষার মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা ৭ মার্চের ভাষণে গোপালগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি এ ভাষা সব সময় ব্যবহার করতেন। ’ বঙ্গবন্ধুর আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে তার শিক্ষকদের আলোচনার স্মৃতিচারণা করে বঙ্গবন্ধুতনয়া বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়তাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষক মাঝে মাঝে বলতেন, ‘উনি (বঙ্গবন্ধু) এভাবে বলছেন কেন?’ তখন আমি বলতাম, ‘স্যার উনি (বঙ্গবন্ধু) যখন কথা বলেন জনগণের জন্যই বলেন। এটাকে সংশোধন করা যায় না। এটা স্বতঃস্ফূর্ত’। ”

বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা ঘোষণায় তার সরকারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ প্রদান করে বিশ্বের দরবারে এ ভাষার গৌরব ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব লাভ করে আমি নিজেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিয়মিত বাংলায় ভাষণ দিয়ে আসছি। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মধ্যে বাংলা ভাষাভাষীর স্থান ষষ্ঠ। জাতিসংঘ যাতে বাংলাকে দাফতরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পাকিস্তানের যে শাসনতন্ত্র রচিত হয় সেখানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি এবং ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, ’৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের সবকিছু ওলট-পালট করে দেওয়া হয়। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল ঠিক তার উল্টো পথে দেশকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রয়াত রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামের সহযোগিতা এবং তার সরকারের প্রচেষ্টায় অমর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রদানের বৃত্তান্তও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের ১৯০টি দেশ এ দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow