Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৪৯
গঠনতন্ত্র নেই দুই দলে
চার মাস পর আওয়ামী লীগে ছাপানোর তোড়জোড়
রফিকুল ইসলাম রনি
গঠনতন্ত্র নেই দুই দলে

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের চার মাস পেরিয়ে গেলেও ছাপা হয়নি দলটির গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র। গত বছরের ২২ ও ২৩ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাস হওয়া গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করতে আসা নেতারা রাজধানীতে এসে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় কাউন্সিলে দলীয় গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি সম্মেলনে দলীয় ঘোষণাপত্র যুগোপযোগী করে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্য ১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৭, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ তিন থেকে বাড়িয়ে চারজন, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ সাত থেকে বাড়িয়ে আটজন এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা ২৬ থেকে বাড়িয়ে ২৮ জন করা হয়। এর বাইরে জাতীয় কমিটির আকার ১৭০ থেকে বাড়িয়ে ১৮০ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাসিক চাঁদার হার ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির এবারের কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটির আকার বাড়ানো হলেও ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা যাচ্ছে না। গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করতে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে এলেও তাদের খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে। গত সোমবার গুলিস্তানের যুবলীগ কার্যালয়ের সামনে এক বই বিক্রেতার কাছে আওয়ামী লীগের নতুন গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র কিনতে চান কুষ্টিয়ার খোকসা পৌর আওয়ামী লীগের নেতা মিজানুর রহমান বিটু। নতুন গঠনতন্ত্র আসেনি-দোকানদার এমন তথ্য জানালে তিনি ছুটে যান ধানমন্ডি দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে। কিন্তু সেখানেও অফিস স্টাফরা জানান, এখনো গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র ছাপা হয়নি। শুধু মিজানুর রহমান বিটুই নয়, ওইদিন দেখা মেলে পটুয়াখালীর হামিদুর রহমান ও নেত্রকোনার আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তারা জানালেন, এবারের কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সে সব বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নিতেই গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করতে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পাওয়া যায়নি।

জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। জেলা কমিটি ৭১ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ সদস্য, উপজেলা কমিটি ৬৯ থেকে ৭১ সদস্য, ইউনিয়ন কমিটি ৬৫ থেকে ৬৯ সদস্য ও ওয়ার্ড কমিটি ৫১ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ সদস্যের করা হয়েছে।

গঠনতন্ত্রের ৪৯ নম্বর ধারায় দলের তহবিল পরিচালনা অংশের শেষে ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল এবং নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করা হবে’-যুক্ত করা হয়েছে সংশোধনীতে। এ ছাড়া এবারই প্রথমবারের মতো গঠনতন্ত্রে নতুন দুটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। একটি ধারা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনি পরিবারের সদস্যরা কোনো দিনও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবে না। দ্বিতীয়টি হচ্ছে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দল মনোনীত প্রার্থী বাছাইয়ে ‘স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড’ গঠন। এ বোর্ডের সদস্য সংখ্যা করা হয়েছে ১৯ জন। অন্যদিকে নতুন ঘোষণাপত্রেও বেশ কিছু অধ্যায় এবং ধারায় সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কয়েকটি ধারাও যুক্ত হয়েছে। গঠনতন্ত্র ও ঘোষণা পত্রের প্রকাশ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র ছাপানোর কাজের অগ্রগতি হয়েছে। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আশা করছি, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই ছাপা কপি হাতে পাব। উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, এখন গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের সম্পাদনার কাজ চলছে। সম্পাদনা শেষ হলেই তা ছাপাখানায় দেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow