Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৫৩
পরিকল্পিত নগরায়ণে সমন্বয়ের অভাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিকল্পিত নগরায়ণে সমন্বয়ের অভাব
হোসেন জিল্লুর রহমান

বরেণ্য অর্থনীতিবিদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, পরিকল্পিত নগর উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এজন্য ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের শতভাগ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না।

এ ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম চলার সময় নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এজন্য রাজধানী ঢাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিরূপণে একটি জরিপ পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও পিপিআরসির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্টেকহোল্ডার ডায়ালগ ঢাকাস ইকনোমিক ফিউচার অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন হোসেন জিল্লুর। তিনি বলেন, মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে সমানভাবে ঢাকা ও মফস্বলের উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশে তৈরি পোশাক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তবে সময় এসেছে অন্যান্য সামাজিক সেবা খাত বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন এবং পর্যটন প্রভৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করার। এসএমই খাতের বিকাশে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। পুরান ঢাকার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা ও সমস্যা বিষয়ে মতিবিনিময় সভার আয়োজন করে সমস্যাগুলোর সমাধান করা প্রয়োজন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে পিপিআরসি পরিচালতি একটি জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা শহরে বসবাসকারী প্রতিটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ৩৮ হাজার টাকা। মানুষের আয় বেড়েছে। জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু গুণগত উন্নয়ন হওয়া জরুরি। সরকারের উন্নয়নমুখী সুশাসনের নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। এজন্য ঢাকার সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে রাজউক, সিটি করপোরেশন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য স্টেকহোল্ডারদের নিয়মিত সমন্বয় সভা করার আহ্বান জানান হোসেন জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা ঢাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ডিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, সহসভাপতি হোসেন এ সিকদার, পরিচালক আসিফ এ চৌধুরী, ইমরান আহমেদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ঢাকা শহরে যানজটের কারণে প্রতি বছর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের শহরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ শতাংশই ঢাকায় বসবাস করে। ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমাতে এর পাশের এলাকাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সামাজিক সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা তার উপস্থাপিত তথ্যচিত্রে বলেন, বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অনেক সংস্থার অংশীদারিত্বের কারণে এ শহরের অবকাঠামো ও সেবা খাতের উন্নয়ন বিঘ্নিত হচ্ছে। ঢাকা শহরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রচুর তবে তা অর্জনে সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সদস্য এম এস সিদ্দিকী, এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক আবদুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রকৌশলী নূর উল্লাহ, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow