Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৪৫
আবার রমরমা এমএলএম ব্যবসা
দুই ডজন হায় হায় কোম্পানির বিপুল অর্থ পাচার, সব হারিয়ে পথে অনেকে
সাঈদুর রহমান রিমন
আবার রমরমা এমএলএম ব্যবসা

গ্রাহকদের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারক মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল গ্রুপ’ও অবশেষে উধাও হয়ে গেল। পুরানা পল্টনের দেওয়ান কমপ্লেক্সে আইডিয়েল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সব গা ঢাকা দিয়েছেন।

বিজয়নগরের টেপা কমপ্লেক্সে আইসিএল গ্রুপের অফিসে ঝুলছে তালা। অন্যান্য স্থানের ৩৪টি শাখা কার্যালয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, সংস্থাটির কর্ণধার এম এন এইচ শফিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা এরই মধ্যে শক্তিমানদের ছত্রচ্ছায়ায় বহাল তবিয়তেই টিকে রয়েছেন। কিন্তু এর আগেই আইসিএল গ্রুপের অধিকাংশ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচারে সক্ষম হন তারা। প্রতারক চক্রটির মূল হোতারা সেখানেই গড়ে তুলেছেন নিজেদের সেকেন্ড হোম।

শুধু আইসিএল নয়, গত কয়েক মাসে একইভাবে গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রায় দুই ডজন ‘এমএলএম প্রতারক’ কোম্পানি গা ঢাকা দেয়। তারা হুন্ডির মাধ্যমে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করে সপরিবারে নিজেরাও পাড়ি জমিয়েছে বিদেশে। হাজার হাজার অসহায় মানুষকে নিঃস্ব করে লুটে নেওয়া টাকায় প্রতারকরা গড়ে তুলেছেন নিরাপদ আবাস, অভিজাত জীবন। আরও অর্ধশতাধিক এমএলএম প্রতারক টাকা পাচার ও দেশত্যাগের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি ‘দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা’র তালিকা বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়েও প্রতারকদের বিদেশ পালানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। থামানো যাচ্ছে না এমএলএম নামের ভুঁইফোড় হায় হায় কোম্পানিগুলোর প্রতারণা-জালিয়াতি।

ইউনিপেটুইউ, ডেসটিনি-২০০০, ইউনিগেটটুইউসহ শতাধিক এমএলএম কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়ও আইসিএল থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা বাধা-নিষেধের মধ্যেই আইসিএল ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহে সক্ষম হয়। প্রতারণা প্রতিষ্ঠান আইসিএলের মাত্র ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ দৃশ্যমান থাকলেও বাকি সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার হদিস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইসিএলের জমি ও সম্পদের বেশির ভাগই গোপনে বিক্রি করে টাকা পাচার করা হয়েছে মালয়েশিয়ায়। রাজধানীর বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লার মিঞাবাজার, ধনিজকরা, চৌদ্দগ্রামসহ অন্যান্য স্থানে থাকা আইসিএলের বাকি সম্পদও বিক্রির পাঁয়তারা চলছে। এভাবেই সাধারণ মানুষের কষ্টে জমানো আমানত লুটে নিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারকরা রাতারাতি উধাও হয়ে যাচ্ছে। প্রতারক চক্র অবাধে কোটি কোটি টাকা লুটে নেওয়ার পরই কেবল হইচই হয়, চলে নানা ভঙ্গিমায় তদন্ত। একপর্যায়ে সবকিছুই চাপা পড়ে যায়। কিন্তু প্রভাবশালী এসব লুটেরা প্রতারক বরাবরই থেকে যায় বহাল তবিয়তে। শুধু থামে না সর্বস্ব হারানো লোকজনের হাহাকার, কষ্টকান্না।

এমএলএম প্রতারণার বিরুদ্ধে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশসহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই প্রতারকরা দলে দলে নির্বিঘ্নে দেশত্যাগের সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি দেশের সব মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি বন্ধের সুপারিশ করে। এ ছাড়া এমএলএম কোম্পানির নামে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশও করে কমিটি। অতিসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এমএলএম প্রতারণার ব্যাপারে জরুরিভাবে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত, সুপারিশ, বিশেষ নির্দেশনা কোনো কিছুই কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বন্ধ হচ্ছে না এমএলএম প্রতারণা, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লুটে নেওয়ার বাণিজ্য।

থামছে না লুটের দৌরাত্ম্য : সম্প্রতি গ্রেট ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি এমএলএম কোম্পানির কর্মকর্তারা প্রায় ২৫০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশ এলাকায় নয়টি শাখার মাধ্যমে তারা এ প্রতারণা করে। গ্রেট ইন্টারন্যাশনালের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত মানুষজনের বুক চাপড়ানো আহাজারিও কারও হৃদয় ছুঁতে পারছে না। অল্প দিনে অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চল থেকেই অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইজেন ও স্পিক এশিয়া মাল্টি লেভেল কোম্পানি। প্রতিষ্ঠান দুটির শীর্ষ কর্মকর্তারা অফিসগুলোয় তালা ঝুলিয়ে রাতারাতি লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তবে অন্য নামে তারা নির্বিঘ্নে এমএলএম বাণিজ্য চালালেও প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ৫০টি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই প্রতিদিন দেড় ডলার করে পাবেন। মাসে ৪৫ ডলার, যা বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পৌনে ৪ হাজার টাকা। কেবল সাড়ে ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সদস্য হলেই কমপক্ষে ১২ মাস এ ডলার আয়ের সুযোগটি পাওয়া যাবে। এমন লোভনীয় প্রস্তাব ছড়িয়ে দিয়েই ১৫-২০টি নামসর্বস্ব ইন্টারনেটভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বেকার তরুণ, যুবক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গৃহবধূরাও এই প্রতারণার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছেন। নিত্যনতুন কৌশলে নিরীহ মানুষজনের তিল তিল করে জমানো সঞ্চয় লুটে নেওয়ার দৌরাত্ম্য বন্ধ করা যাচ্ছেই না। পাম অয়েল ব্যবসার নামে প্রজেক্ট এশিয়ান কিং লিমিটেড, বগুড়া টেম্পল রোডের ড্রিম লাইফ লিমিটেড, রূপালী সঞ্চয়ী সমিতি, বছরে চার গুণ মুনাফার লোভ দেখিয়ে মনপুরার লাইফওয়ে প্রাইভেট লিমিটেড, এমএলএম কোম্পানির নতুন কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত ড্রিম টাস হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। মাল্টিপারপাসের নামে কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছেন আল-আক্সা ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মালিকসহ কর্মকর্তারা। ভোলার মনপুরার লাইফওয়ে প্রাইভেট লিমিটেড গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা তুলে তা জনৈকা হামিদা বেগমের নামে সোনালী ব্যাংক, উত্তরা মডেল টাউন শাখা, ঢাকা-১২৩০, সঞ্চয়ী হিসাব ০০২০২৯০৭৬ নম্বরে টিটি করত। হাতের কবজিতে ব্যবহারযোগ্য ‘অপ্রয়োজনীয় ব্রেসলেট’কে পুঁজি করেও সাত-আটটি এমএলএম কোম্পানি টাকা হাতানোর ফাঁদ পেতে বসেছে। অভিজাত মার্কেট বা অ্যাপার্টমেন্টে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চাকচিক্যময় অফিস সাজিয়ে বসছে প্রতারকরা। চীন থেকে লাগেজ পার্টির মাধ্যমে অবৈধভাবে আনা ১৭০ টাকার ব্রেসলেট বিক্রি করা হচ্ছে ৫,৮১০ টাকায়। বলা হচ্ছে, এটা ‘বায়ো এনার্জেটিক ব্রেসলেট’। ব্যবহারকারীকে ২০০ রকম রোগমুক্তির গ্যারান্টিও দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক সমাজের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও সেসব ব্রেসলেট সংগ্রহের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। কিন্তু প্রকৃত দামের চেয়ে ৪০ গুণ বেশি দামে ব্রেসলেটটি কেনাবেচা করার বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলছেন না। ‘নিউনেশন’ নামের একটি এমএলএম কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে জয়েন্ট স্টক কমিশন। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ করছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তালিকা অনুসারে শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৫৬ কোম্পানির হুন্ডি : বহু স্তরবিশিষ্ট বিপণন ব্যবস্থা বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন নয়। তাদের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের ১৫৬টি এমএলএম প্রতিষ্ঠানের তালিকা সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এসব প্রতিষ্ঠান মুদ্রা পাচারের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে দুদক। এ বিষয়ে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান মুদ্রা পাচারের বিষয়টি দুদকের কার্যতালিকাভুক্ত করার কথা জানিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলেও এমএলএম কোম্পানির প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দৃশ্যমান হচ্ছে না। দেশের সব বিমানবন্দর ও সীমান্ত চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন পুলিশের দফতরে এমএলএম প্রতারকসহ ৫৮ জনের নামের তালিকা ঝুলছে। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্তদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন এমএলএম ব্যবসায়ীর কেউ কেউ ইমিগ্রেশনে তালিকা আসার আগেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এর মধ্যে ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী বিসমিল্লাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরিন হাবিব, ইউনিপেটুইউর উপদেষ্টা মিঠু চৌধুরী, আইসিএলের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শফিকুর রহমানও রয়েছেন।

ডেসটিনি-যুবক থেকে টাকা পাননি কেউ : বছরের পর বছর ধরে ডেসটিনির প্রতারিত গ্রাহকরা আশায় বুক বেঁধে আছেন। অথচ এক টাকাও ফেরত পাননি। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেহাত হচ্ছে সম্পত্তি। কোনো কোনো কারখানার যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। অন্যান্য সহায়-সম্পদও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক সম্পদ রয়েছে জবরদখলকারীদের কবজায়। পার্বত্য এলাকায় কোম্পানির অধীনে থাকা গাছ চুরি হচ্ছে হামেশা। বিভিন্ন ব্যাংকে ডেসটিনি গ্রুপের ৫৩৩টি হিসাবও জব্দ অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় প্রায় ৪৫ লাখ বিনিয়োগকারীর ভাগ্যে কী ঘটবে, তা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ডেসটিনির বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। বিচার শেষে যে রায় হবে, তা-ই বাস্তবায়ন হবে। ডেসটিনির যেসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে, তা আদালতের নির্দেশেই রয়েছে। প্রত্যাহারও হবে আদালতের নির্দেশেই। ডেসটিনির সব প্রতিষ্ঠানে ডেসটিনি-২০০০-এর শেয়ার রয়েছে। কিন্তু এমএলএম কোম্পানিটিরই যেখানে বৈধ অনুমোদন নেই, সেখানে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো আলাদাভাবে খুলে দেওয়ারও সুযোগ নেই।

আরেক বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান যুব কর্মসংস্থান সোসাইটির (যুবক) প্রতারণায় পড়ে অর্থ খুইয়ে যারা তা উদ্ধারের জন্য সরকারের পদক্ষেপের আশায় ছিলেন, তারাও দিন দিন চরম হতাশার মুখে পড়েছেন। যুবকের প্রতারিত গ্রাহক ৩ লাখ ৪ হাজার। তাদের দাবির পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকা। যুবকের কার্যক্রম বন্ধের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রাহকদের অর্থ দেওয়ার কোনো উপায় বের করতে পারেনি সরকার। জানা গেছে, ‘স্বল্প সময়ে বেশি সুদ পাবে’ প্রচারণা চালিয়ে যুবক সারা দেশে মানুষের কাছ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তা আত্মসাতের পর ২০০৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুবকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে সাবেক যুগ্ম-সচিব মো. রফিকুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে সরকারের গঠিত ‘যুবক কমিশন’ ২০১৩ সালে যুবকের সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের সুপারিশ করে। এরপর একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো উপায় বের হয়নি।

up-arrow