Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৫০
সাজা হলেও নির্বাচন করতে পারবেন খালেদা জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাজা হলেও নির্বাচন করতে পারবেন খালেদা জিয়া
মওদুদ আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আদালতে বিচারাধীন মামলার রায়ে সাজা হলেও নির্বাচন করতে পারবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় দল ও জোটের নেতৃত্বও দিতে পারবেন তিনি।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, মিথ্যা অভিযোগে দায়ের মামলায় সাজা দিয়েও বিএনপি চেয়ারপারসনকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যাবে না। এ দেশে আর কোনো দিন একদলীয় নির্বাচন হবে না। বিএনপির আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি দুটিই একসঙ্গে চলবে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক। বিএনপি জোটের শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টি পিলখানা হত্যাকাণ্ড স্মরণে এর আয়োজন করে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হলে তার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে যাবে এবং সেই মামলায় উচ্চ আদালতে আমরা আপিল করব। আর তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের সব ধরনের কাজে তিনি অংশ নিতে পারবেন। কাজেই খালেদা জিয়ার শাস্তি হলে নির্বাচন করতে পারবেন না, এটা ঠিক নয়।

বরং এসব মিথ্যা অভিযোগে দায়ের মামলায় সাজা হলে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাবে। ’

মওদুদ আরও বলেন, ‘ধরে নিলাম মামলার রায়ে তার সাজা হয়ে গেল। ভালো কথা, আমরা আপিল ফাইল করব। আপিলটা হলো যে বিচার হয়েছে সে বিচারের ধারাবাহিকতা। তখন আমরা তার জন্য ইনশা আল্লাহ জামিন নেব। আর তখন বেগম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হলেও নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিতে পারবেন এবং তার পাশাপাশি দল ও জোটের নেতৃত্বও দিতে পারবেন। ’ ব্যারিস্টার মওদুদ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচন কমিশন কিংবা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারও বড় কথা নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা শুধু নির্বাচনের এক মাস আগে নয়, এখন থেকেই সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সব নেতা-কর্মীর নামে থাকা রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে। আর বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন করতে চায়। অন্যথায় আন্দোলন ছাড়া বিকল্প থাকবে না। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, একদলীয় কোনো নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে আর হবে না। সে ধরনের পরিকল্পনা কারও থাকলে তারা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন আছেন। গণতান্ত্রিক এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপির আন্দোলনও চলবে, চলবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও। ব্যারিস্টার মওদুদ অভিযোগ করে বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নায়কদের বিচার করা হয়নি। বিডিআর বিদ্রোহ দমনে সরকার তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কারা এই সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পেছনে ছিল, কী উদ্দেশ্য ছিল তাদের, এসব জনগণকে জানাতে হবে। কারণ কেউ এর দায় এড়াতে পারে না। আর নৃশংস এই ঘটনার নেপথ্যের লোকদের বিচার হলেই নিহতদের আত্মা শান্তি পাবে।

up-arrow