Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৫২
থলের বিড়াল বেরিয়েছে মন্ত্রীদের বক্তব্যে
নিজস্ব প্রতিবেদক
থলের বিড়াল বেরিয়েছে মন্ত্রীদের বক্তব্যে

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে ভূমিকা পালন করার কথা। কিন্তু থলের বিড়াল বের হয়ে গেল দুই মন্ত্রীর কথায়।

দুই মন্ত্রীই বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির যে সুপারিশ করা হয়েছিল সে অনুযায়ীই গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ২৮ ফেব্রুয়ারি আধাবেলা হরতালের পক্ষে সিপিবি ও বাসদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় হরতাল ডাকার কারণ ব্যাখ্যা করে সিপিবি ও বাসদ নেতারা বেসরকারি উদ্যোগে গ্যাসের দাম কমানোর প্রস্তাব নিয়ে শিগগিরই গণশুনানি আয়োজনের ঘোষণা দেন। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি, অপচয়, অব্যবস্থা, মাথাভারী প্রশাসনের চাপ জনগণের উপর চাপিয়ে দিতেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধিতে সরকার লাভ করবে ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে জনগণের ক্ষতি হবে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার উপরে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার দুই চুলায় মাসে ৯২ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের হিসাব ধরলেও বাস্তবে গ্যাস ব্যবহার হয় ৪৫ ঘনমিটার। ৪৭ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার না করেও তারা দাম দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দুই চুলার জন্য বিল দিতে হয় ৬৫০ টাকা, যার ৫৫ শতাংশ ভ্যাট। অর্থাৎ গ্যাসের দাম ২৯৩ টাকা আর ভ্যাট বাবদ সরকার নেয় ৩৫৭ টাকা। সরকারকে এই বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স দেওয়ার পরও গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন? এই প্রশ্ন তুলেছে বাম দল দুটি। একই সঙ্গে পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়, গত অর্থবছরে গ্যাস বিক্রি বাবদ সরকার মোট ৮১.১০ শতাংশ ট্যাক্স বা ১৩ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারের গ্যাস ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে জমা আছে ১৯ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় বাদ দিলে কোম্পানির লাভ ৫ শতাংশ বা ৮৩১ কোটি টাকা। লাভ হওয়া সত্ত্বেও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কেন?  গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে পিছু হটার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যর লক্ষ্মী চক্রবর্তী, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, রফিকুজ্জামান লায়েক, অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, জাহেদুল হক মিলু, আব্দুর রাজ্জাক, খালেকুজ্জামান লিপন উপস্থিত ছিলেন।

up-arrow