Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩২
সংসদে সৈয়দ আশরাফ
প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদে জানিয়েছেন, প্রশাসনের অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের সৃজনশীল কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জনপ্রশাসন পদক প্রবর্তন করা হয়েছে।

গতকাল জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে রহিম উল্লাহর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সৈয়দ আশরাফ বলেন, জনবান্ধব সরকারি সেবা-ব্যবস্থাপনা এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের আইনসম্মত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সরকারি কর্মচারী আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্স, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, গ্রিভেন্স রিড্রেস সিস্টেম, অডিট কার্যক্রম, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ দাখিল, আয়কর রিটার্ন দাখিল, বেতন কমিশন গঠন কার্যক্রম প্রভৃতি। তিনি আরও জানান, প্রশাসনকে গতিশীল ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত চার লাখ ৬০ হাজার ৬৯৮ পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশের সব জেলায় একটি করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক করে (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোট ৬৪টি এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) নামে আরও ৪৩টি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইসিটি শাখার জন্য ২৮৮টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৭৫৩ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও পাঁচ হাজার ৫৩৪ জন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ৩৫তম, ৩৬তম এবং ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যথাক্রমে ২১৭২, ২১৮০ এবং ১১৮২ জন কর্মকর্তা নিয়োগের কার্যক্রম চলমান আছে। জনপ্রশাসনমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসনের অদক্ষতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও আইন এবং প্রশাসন কোর্স (প্রবেশ পর্যায়ে), উচ্চতম প্রশাসন ও উন্নয়ন কোর্স (মধ্যম পর্যায়ে) এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সিনিয়র স্টাফ কোর্স, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং পলিসি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও জাইকার যৌথ উদ্যোগে একটি প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৩০ জন কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দফতরে ২ হাজার ৩০টি ক্ষুদ্র উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ‘রূপকল্প-২০২১’ এর আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় উপজেলা পর্যায়ে ইনোভেশন টিম গঠন করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow