Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৬
সর্বনাশে যথেষ্ট এক আসলামই
ডোবা-নালা ফুটপাথ থেকে শুরু করে কলেজের জমি দখল, তার সাম্রাজ্যে প্রতিবাদ করে না কেউ
সাঈদুর রহমান রিমন
সর্বনাশে যথেষ্ট এক আসলামই

ঢাকা-১৪ আসনে দখলবাজির অভিযোগে তিনি রয়েছেন শীর্ষে। তিনি আসলামুল হক আসলাম।

সরকারি দল আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য। ডোবানালা, খাল-বিল, সরকারি জায়গা, রাস্তা-ফুটপাথ, মার্কেট, কলেজ এমনকি মুক্তিযোদ্ধার ভিটেমাটিও তার দখলবাজি থেকে রেহাই পায়নি। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিস্ট্যান্ড, খেয়াঘাট থেকে বেড়িবাঁধ সবর্ত্র তার দখলবাজির থাবা বিদ্যমান। কেবল দখলবাজি করেই সংসদ সদস্য আসলাম আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। আট বছরের ব্যবধানে তিনি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আদালতে তিনি নিজেই তা দাবি করেছেন। মিরপুর-শাহআলী-দারুসসালাম হয়ে উঠেছে তার বৃহত্তর অপরাধ সাম্রাজ্য। সেখানে জায়গাজমি জবরদখল, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক-জুয়ার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা একেকটি অপরাধ সেক্টর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আসলামুল হক আসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আপনাদের যা খুশি তাই লিখেন। ’ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও ভূমিদস্যুদের কাছে জিম্মি ঢাকা-১৪ আসনের অন্তভুর্ক্ত  মিরপুর-গাবতলী এলাকাবাসী। গাবতলী বাস টার্মিনালে বেভু বাহিনী, তুরাগ নদে বাবু বাহিনী, রাইনখোলায় খোরশেদ বাহিনীর চাঁদাবাজি ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের বাসিন্দা। চাঁদাবাজ নেতারা সংসদ সদস্যের ডান হাত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই খাসজমি দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মদদ রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। কল্যাণপুর খালের বিরাট অংশও দখল করে নিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। সেখানে সংসদ সদস্যের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় স্থাপন হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট ও বস্তি। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে জেলা পরিষদের খাসজমি দখলের অভিযোগ রয়েছে আসলামের বিরুদ্ধে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিভিন্ন অংশ ও রূপনগরের ঝিল অবৈধ দখলের অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচিসহ পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হওয়ায় তার দখলবাজি থামানো যায়নি।

আসলামুল হক আসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বাঙ্লা কলেজের প্রায় চার বিঘা জমি নিজ কোম্পানি মায়িশা গ্রুপের নামে দখলে নেওয়ার অভিযোগ আছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু জমির সঙ্গে কলেজের জমি মিলিয়ে সেখানে মায়িশা গ্রুপের সাইনবোর্ড দেওয়া হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মুক্তিযোদ্ধাদের নামে লিজ নেওয়া জমি দখলেরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। রাজধানীর দারুসসালামের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিউনিটি সেন্টারের পশ্চিম পাশে মুক্তিযোদ্ধাদের সাড়ে তিন একর জায়গা দখল করে ভবন তৈরি করছেন আসলাম। অথচ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থার সঙ্গে ওই জমি নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মামলা চলছে। মীমাংসা হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো স্থাপনা তৈরি না করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। কিন্তু আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেখানে ভবন তৈরি করছেন সংসদ সদস্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২৩ মার্চ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ওয়াকফ প্রশাসন থেকে ২৩ দশমিক ২৩ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থা। ২০০৭ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ওই জমির মালিকানা দাবি করলে মুক্তিযোদ্ধা সংস্থার পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল সংসদ সদস্য আসলাম তার লোকজন নিয়ে জমি দখল করতে গেলে মুক্তিযোদ্ধারা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসলাম মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান বাবুকে কলার ধরে টেনে থানায় নিয়ে যান। পরে সংস্থাটির মহাসচিব হাবিব ও বাবুর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেন তিনি। সেখানেই প্রস্তাবিত সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং প্রস্তাবিত দারুসসালাম থানা কমপ্লেক্স লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পুরো জায়গাটি আসলামের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানসংলগ্ন ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে বালু ভরাট করেছেন আসলাম। কিন্তু এ জমিটি মতিউর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মতিউর রহমান আর প্রবেশ করতে পারেননি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মতিউর রহমান অভিযোগ নিয়ে গেলে দারুসসালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান তা আমনে নেননি। এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমার জানা মতে, এমন কেউ এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসেননি। ’

অফুরন্ত সম্পদ তার : আসলামের সম্পদ নিয়ে বরাবরই বিতর্ক রয়েছে। তার সম্পদ দ্বিগুণ হতে লেগেছে মাত্র ৬০ দিন। আর পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ৩০ গুণ। ২০০৮ সালে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় আসলামুল হক উল্লেখ করেছেন, তিনি ও তার স্ত্রী এখন ১৪৫ দশমিক ৬৭ একর জমির মালিক। জমির দাম উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা। পাঁচ বছরে স্বামী-স্ত্রীর জমি বেড়েছে ১৪০ একরের বেশি। আর বাড়তি এ জমির মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অথচ ২০১৫ সালে তিনি উচ্চ আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন, তার ৫-৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের জোগান কোত্থেকে কীভাবে এলো তা নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে জনমনে।

ডিএনসিসিতে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসলামুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৪-এ ঠিকাদারি পুরোটাই তার কব্জায় নিয়ে যান। সেখানে নিজ নামে ঠিকাদারি করার আইনি বিধিনিষেধ থাকায় তার আপন শ্যালক মনসুরকে এ দায়িত্ব দেন। সেখানে স্বপন, ডন, পিয়ার তার হয়ে কাজ করেন। তারা মিরপুর অঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ সব ধরনের উন্নয়ন কাজের দরপত্র বাগিয়ে নিচ্ছেন প্রভাব খাটিয়ে। তাদের ভয়ে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র দাখিলের সাহসই পান না। এ ছাড়া ডিএনসিসির মিনিওয়েস্ট ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণকাজও করেছেন আসলামের লোকজন। শুরুতে ঠিকাদারি নিয়ে ডিএনসিসির সঙ্গে কিছুটা বিরোধ থাকলেও পরে তিনি তা মিটমাট করে নেন।

একজন ঠিকাদার বলেন, ‘আসলামের কথা ছাড়া ডিএনসিসির জোন-৪-এর একটি কাজও কেউ পায় না। এসব কাজ থেকে তাকে পার্সেন্টিজ দিতে হয় বলে শুনেছি। ’

চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের হোতা : এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী বাস টার্মিনালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বড় ভাই মফিজুল হক বেভুর নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি চলছে নির্বিঘ্নে। পুরো বাস টার্মিনালই রয়েছে নিরাপত্তাহীনতায়। একাধিক বাস মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি সপ্তাহে বাস মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা তুলছেন তিনি। চাদা না দিলেও তাদের যেমন সমস্যা, আবার তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া রয়েছে।

এ ছাড়া কল্যাণপুর থেকে মিরপুর ব্রিজ পর্যন্ত যে পরিবহন কাউন্টার রয়েছে তার অধিকাংশই অবৈধ। সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ’র অনুমোদনহীন এসব কাউন্টার থেকেও সপ্তাহে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি কাউন্টারের সুপারভাইজার জানান, কাউন্টার থেকে ওপর মহলেও যেমন টাকা দিতে হয়, তেমনি সংসদ সদস্যের সমর্থকদের অর্থ দিতে হয়। গাবতলী টার্মিনালসহ আশপাশের শত শত কোচ কাউন্টারের চাঁদা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সংসদ সদস্যের ভাইয়ের যোগসাজশ রয়েছে।

৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাইনখোলা সমবায় মার্কেট, চিড়িয়াখানা রোডের ফুটপাথে অবৈধ হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি করছে খোরশেদ বাহিনী। হকাররা জানান, ফুটপাথে বসার জন্য তারা ডিসিসিকে নয়, খোরশেদ ও আলমকে ভাড়া দিচ্ছেন। এমনকি রাইনখোলা সমবায় মার্কেটেও তারা চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেন একাধিক ব্যবসায়ী। মিরপুরের গাবতলী, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আসলামুল হক আসলামের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইনসান চৌধুরী চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে নিরীহ মানুষের জমি দখল করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইনসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় জিডিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

ডিসিসির পাবলিক টয়লেটে অবৈধ দোকান বসিয়েছেন সংসদ সদস্যের আরেক সহযোগী ১৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের মো. সাইফুল। চিড়িয়াখানার গেটের বাইরে-ভিতরে অবৈধ দোকান বসিয়েও দেদার চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া তুরাগ নদসংলগ্ন শিয়ালবাড়ী থেকে মিরপুর ব্রিজ পর্যন্ত অবৈধ ইজারা দিয়ে খোদ সংসদ সদস্যের নামেই চলছে বালু ও পাথর ব্যবসা। একাধিক বালু ব্যবসায়ী জানান, বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। কিন্তু মুখ খোলার উপায় নেই। সেখানেও বাবু নামের একজন প্রতিদিন পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংসদ সদস্যের নামে চাঁদা তুলছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

আরও যত দখলবাজি : আসলামুল হক আসলাম নিজেকে জমিদার পরিবারের সদস্য বলে দাবি করলেও তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ সব সময়ই। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের জায়গাজমি তো আছেই, খোদ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও তার দখলবাজির থাবা থেকে রেহাই পান না। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের কর্মী আবদুল লতিফের লালকুঠি বড় মসজিদসংলগ্ন বাড়ির জায়গা জবরদখল করে নেন। এ সময় আবদুল লতিফের বৃদ্ধ বাবাকেও ব্যাপকভাবে মারধর করা হয়। দখলবাজির মাত্র চার দিনের মধ্যেই আবদুল লতিফের বৃদ্ধ বাবা মারা যান।

 

মিরপুর বড়বাজার (হরিরামপুর) বেড়িবাঁধ এলাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনভেনশন সেন্টার নাম দিয়ে ব্যক্তিমালিকানার জমি দখল করে নেন তিনি। বিরোধপূর্ণ জায়গায় সরকারি বিপুল অর্থের অপচয় ঘটানো হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কনভেনশন সেন্টারটি চালু করতে পারেননি। মাজার রোডের অদূরে যমুনা সিএনজি স্টেশনসংলগ্ন সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের অনেক দামি জায়গা হাতিয়ে নেন আসলাম।

আমিনবাজার ব্রিজের নিচে (পূর্বপাশে) তুরাগ তীরের ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় সরকারি ইজারা বাতিল রেখে ‘এমপির ঘাট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে পণ্যবাহী শত শত বার্জ, ট্রলার, নৌকা থামানোর চাঁদা থেকে শুরু করে মালামাল লোড-আনলোড বাবদও টাকা আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি রাজস্ব খাতে এসব টাকা জমা হচ্ছে না। প্রতি বছর ঘাটের কোটি কোটি টাকা সংসদ সদস্য ও তার সহযোগীদের পকেটেই যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিতর্কে সংসদ সদস্যের বিদ্যুৎ কেন্দ্র : সংসদ সদস্য আসলামের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বছিলায় এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে সাধারণ মানুষের জমি দখলে নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় অর্ধশত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা মিলে বছিলায় কিছু জমি কিনেছিলেন। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র তাও দখলে নিয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রের বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। এ অপরাধে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে পরিবেশ অধিদফতর জরিমানা করে মামলা করেছে। আসলাম নিজের মালিকানাধীন মায়িশা গ্রুপের নামে তুরাগ নদের বছিলা অংশে একাধিক স্থাপনা গড়েছেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ প্লান্ট করার জন্য সরকার যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করে দিয়েছে তার বেশি তিনি দখল করে ব্যবহার করছেন।

up-arrow