Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৮
উন্নয়ন কাজেও বাধা আসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুধু দখল আর অবৈধ সম্পদ অর্জন নয়, সংরক্ষিত আসনের এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের সঙ্গেও বৈরী সম্পর্ক আসলামুল হক আসলামের। অনেকটা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে দুই এমপির দ্বন্দ্ব।

মিরপুর এ এলাকায় উন্নয়ন করতে গিয়ে নানামুখী বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তুহিন এমপি। এর পরও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা একদিকে, অন্যদিকে এমপি আসলাম। নিজস্ব বলয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন তিনি। কয়েক মাস আগেও গত বছরের শেষ দিকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মিরপুরে সরকারদলীয় দুই এমপির সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঢাকা-১৪ আসনের এমপি আসলাম ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের তিন সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। মিরপুর-১-এর মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াতের হরতালবিরোধী মিছিল ঘিরে এ ঘটনার সূত্রপাত হলেও কার্যত স্থানীয় কমিটি নিয়ে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সূত্রমতে, সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে যুব মহিলা লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাবিনা আক্তার তুহিনের সঙ্গে খুবই সুসম্পর্ক ছিল আসলামের। কিন্তু ২০১৪ সালে তুহিন সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ায় আসলামের রোষানলে পড়েন। তুহিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আসলাম একদমই সহ্য করতে পারেন না। আসলামের অবস্থান এমন যে, তুহিনের সঙ্গে মুখ-দেখাদেখি তো দূরের কথা, তার নাম পর্যন্ত শুনতে পারেন না। এ নিয়ে আসলামকেই দুষছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। জানা যায়, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তুহিনকে ডাকেন না আসলাম। অবশ্য তুহিন যে কোনো কর্মসূচিতে সব সময় আসলামকে আমন্ত্রণ জানান। দারুস সালাম, মিরপুর ও শাহ আলী থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি থেকে শুরু করে স্থানীয় অধিকাংশ নেতাই আসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু একটি নিজস্ব বলয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন এমপি আসলাম। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, মিরপুর শাহ আলী (রহ.) মাজার শরিফের দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রেও স্থানীয় ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতারা বঞ্চিত। সেখানে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদেরও সঙ্গে রেখেছেন আসলাম। স্থানীয় বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার ও মহানগর নেতা মাসুদ খান, মোশাররফ হোসেন মশু ও হাসানের সঙ্গেও ব্যাপক সখ্য এমপি আসলামের।

সাবিনা আক্তার তুহিন এমপি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নেত্রীর নির্দেশমতো আমি এলাকার মানুষের পাশে আছি, থাকব। কে আমাকে কী মনে করলেন, তা নিয়ে কিছু মনে করি না। আমার অধিকার যেখানে আছে, সেটি আদায়ের ক্ষমতা আমার আছে। ’

up-arrow