Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৫
জঙ্গিবাদ থেকে ফিরলে পুনর্বাসন : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গিবাদ থেকে ফিরলে পুনর্বাসন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নিয়েছে। ভবিষ্যতে যেসব বিপথগামী জঙ্গি সদস্য জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফিরে আসবে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়াসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত সরকারি দলের দুজন এমপির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে।  তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কিছু সফল অভিযানে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাসহ বেশ কিছু সদস্য গ্রেফতার ও নিহত হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এসব অভিযানের ফলে বর্তমানে জঙ্গি তত্পরতা বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। জঙ্গি দমনে এ সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হয়েছে। একাদশ আসেম সম্মেলন ও ৭১তম জাতিসংঘ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দও বাংলাদেশের জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জঙ্গিবাদবিরোধী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গি সদস্য ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাদের মোটিভেশন ও সহযোগিতার মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন সন্দেহভাজন নিখোঁজ ব্যক্তি এবং পলাতক জঙ্গিদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। অনেকে তাদের ঘরে ফিরে এসেছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনলাইনভিত্তিক প্রচারণার দিকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। জঙ্গিবাদবিরোধী ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, মসজিদের ইমাম, আলেম সমাজ, শিক্ষক-ছাত্র সমাজ, অভিভাবকবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। নরসিংদী-২ আসনের কামরুল আশরাফ খানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ২২৭টি ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে তার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা, বেশ কিছু মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিষিদ্ধ, জনগণকে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান। এ ছাড়া তিনি মোটরযান দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত, ক্ষতিগ্রস্ত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে ক্ষতিপূরণ প্রদানকল্পে প্রক্রিয়াধীন সড়ক পরিবহন আইনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব যুক্ত করার কথা জানান।

ঘরে ঘরে আলো জ্বালব : দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইনের পাশাপাশি আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঘরে ঘরে আলো জ্বালব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি ঘরও আর অন্ধকারে থাকবে না। শেখ হাসিনা বলেন, উদ্বোধন করা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মোট এক হাজার ৩৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এতে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। প্রকল্পগুলো চালু হলে বিভিন্ন জেলার ১০টি উপজেলা এবং বান্দরবানের একটি উপজেলায় বিদ্যুৎ শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রূপালী ব্যাংকের ‘শিওর ক্যাশের’ মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিজয় সরণি এলাকার প্রস্তাবিত বর্ধিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর একটি উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করেন। সেনাবাহিনীর প্রধান প্রকৌশলী মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান এটি উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন আলোচনায় অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি, যার সুফল এখন দেশের মানুষ পাচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার অবস্থা ছিল। আমরা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বহুমুখীকরণের এবং বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিই। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও দিয়েছিলেন খাম্বা। কারণ তার ছেলে খাম্বা ইন্ডাস্ট্রি করেছিলেন। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন তো বাড়ায়নি বরং কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সততা ও দক্ষতার সাহায্যে উৎপাদন বৃদ্ধি করে বর্তমানে আমরা ১৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব করেছি। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে দেশের মান যে উন্নত করা যায়, তা আমরা প্রমাণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘদিন এখানে একটি অশান্ত পরিবেশ ছিল। আমি প্রথমবার সরকারে আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করি এবং এরপর সেখানে সত্যিই শান্তি ফিরে আসে এবং সার্বিক উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজ আমরা করে দিচ্ছি। পাশাপাশি এখানে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সেখানে যেন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারে, সেই নেটওয়ার্ক আমরা করে দিয়েছি। বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার মো. জুবায়ের সালেহীন, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow