Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৫
ঘুরেফিরে এফবিসিসিআইর একই নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘুরেফিরে এফবিসিসিআইর একই নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী

প্রধানমন্ত্রীর সফরে যাওয়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিনিধি দলে থাকা বেশির ভাগ সদস্যই বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) সদস্য। তারা বড় শিল্প কারখানার মালিকও নন। এমনকি বড় ধরনের বিনিয়োগকারীও নন। অথচ দেশের শীর্ষ পর্যায়ের শতাধিক বড় শিল্প গ্রুপের প্রতিনিধিকে কোনো সরকারের আমলেই প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলে দেখা যায়নি। জানা যায়, এফবিসিসিআই এভাবে নিজেদের রাজনীতি করতে গিয়ে দেশের বিনিয়োগ পেছনে ফেলে দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যারা বিদেশ সফর করেন, তাদের একটি ব্যবসায়িক ক্রাইটেরিয়া থাকা উচিত। কাউন্টার ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশে  বিনিয়োগে উৎসাহিত করার যোগ্যতা থাকা জরুরি। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতোও দক্ষ হওয়া জরুরি। এমন কারও প্রতিনিধি দলে সম্পৃক্ত করা ঠিক নয়, যারা নিজের দেশকেই সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন না। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেখেশুনে গবেষণা করে বিনিয়োগ করেন। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে পারেন। জানা যায়, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিদেশে গিয়ে স্বাগতিক দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা দূরের কথা হোটেলে বসে আড্ডা দিয়ে শপিং করে দেশে ফিরে আসেন। স্বাগতিক দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তারা কোনো দিক দিয়েই সামঞ্জস্যপূর্ণ হন না। বিশেষ করে বড় বড় দেশগুলোয় কাউন্টার পার্ট শিল্পোদ্যোক্তা সফরসঙ্গী না হওয়ার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের প্রয়োজন মনে করেন না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হন নিজেদের খরচে। তালিকা করে দেয় এফবিসিসিআই। সেই তালিকা অনুমোদন দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ ক্ষেত্রে এফবিসিসিআই নিজেদের ভোটাভুটির রাজনীতি ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকা তৈরি করে। এখানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বা বিনিয়োগ বাড়ানো মুখ্য নয়। কে কাকে ভোট দেবেন, সে বিষয়টিই গুরুত্ব পায় সফরসঙ্গীর তালিকায়। ঢাকার বাইরেও কে কার লোক সে বিবেচনায় ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করা হয়। অনেক সময় দেখা যায়, এ তালিকায় মুদি দোকানদার, ঠিকাদার, গাড়ির শোরুমের মালিক, ছোটখাটো প্লাস্টিক কারখানার স্বত্বাধিকারী, দোকান মালিক সমিতির নেতা, জেলা চেম্বারের সাধারণ ব্যবসায়ী, মত্স্য খামারের মালিক, ব্যবসায়ীর নামে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ নিম্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা থাকেন প্রতিনিধি দলে। জানা যায়, পরবর্তী ভোটের কথা চিন্তা করে এফবিসিসিআই এ তালিকা তৈরি করে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসও বিব্রত হয়। একাধিক কূটনীতিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে পরিচয় করিয়ে দিতেও বিব্রতবোধ করতে হয়। কাউন্টার পার্ট হিসেবে সফরকারী ব্যবসায়ীদের বসানোও যায় না। জানা যায়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ব্যবসা সম্প্রসারণ দূরের কথা গল্পগুজব করে ঘুরেফিরে দেশে ফিরে আসেন। এ নিয়ে সব সময় অস্বস্তিতে থাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বিস্মিত হন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। অবশ্য সফরকারী দলে গুটিকয় দেখা যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। বাকিদের প্রায় সবাই বড় ধরনের কোনো ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারী নন। দেশের প্রথম সারির ৩০০ শিল্পোদ্যোক্তার কাউকেই কখনো সফরসঙ্গী হিসেবে দেখা যায় না। গুটিকয় যারা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, তারা সফরসঙ্গী হন নেতা হওয়ার সুবাদে। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেসব দেশ সফর করেন, সেই দেশের ব্যবসা পরিস্থিতি বুঝে কমিউনিকেশন্স স্কিলদের প্রতিনিধি দলে রাখা উচিত। নিজ দেশের ব্যবসার পরিবেশ তুলে ধরতে পারেন, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও উৎসাহিত হন।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow