Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৮
সেই ট্রাকচালকের ফাঁসি যে কারণে
সাভার প্রতিনিধি

ট্রাকচালক মীর হোসেন মীরুর মৃত্যুদণ্ডাদেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। সাভারের ঝাউচরে ট্রাকচাপা দিয়ে খোদেজা বেগম নামে এক নারীকে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।

সোমবার ঢাকার পাঁচ নম্বর জজ কোর্ট এ রায় দেয়।

২০০৩ সালের ২০ জুন ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে নিছক সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে মঙ্গলবার পরিবহন ধর্মঘট শুরু করে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যমতে, এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়। বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেদিন কী হয়েছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঝাউচর গ্রাামের নাসিমা বেগম, সলিম মিয়া ও জুলেখা বেগম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২০০৩ সালের ২০ জুন ওই গ্রামের নূরু গাজীর স্ত্রী খোদেজা বেগমকে তাদের পারিবারিক রাস্তায় ট্রাকচাপা দেওয়া হয়। তারা বলেন, ওই ঘটনার কয়েক দিন আগে ট্রাক দিয়ে খোদেজা বেগমের বাড়ির পাশের একটি জমি ভরাটের কাজ করছিলেন ট্রাকচালক মীর হোসেন মীরু। খোদেজা বেগমের পারিবারিক রাস্তার ওপর দিয়ে পাশের একটি গ্রাম থেকে মাটি আনার কাজ করা হচ্ছিল। অনুমতি না নিয়ে ও বাতাসের সঙ্গে ধুলা-ময়লা ছড়িয়ে পড়ার কারণ দেখিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে মাটি আনার প্রতিবাদ জানান খোদেজা বেগম ও তার স্বামী। তারা ওই রাস্তা দিয়ে ট্রাক চলাচল বন্ধ করার কথা বলেন।

এ নিয়ে ট্রাকচালক মিনুর সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। ২০০৩ সালের ২০ জুন খোদেজা বেগমের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই রাস্তা দিয়ে আবারও মাটির ট্রাক নিয়ে আসেন ট্রাকচালক মীরু। এ সময় ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেন খোদেজা বেগম, তার স্বামী ও প্রতিবেশীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মীরু সবাইকে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন। অন্যথায় সবার ওপর ট্রাক চালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এর পরও তারা রাস্তা থেকে না সরলে মীরু গাড়িতে উঠে প্রথমে একটু পেছনে নিয়ে আসেন ট্রাক। পরে দ্রুতবেগে এসে রাস্তায় অবস্থানকারীদের ওপর ট্রাক চালিয়ে দেন। এ সময় অন্যরা রাস্তা থেকে সরে যেতে পারলেও খোদেজা ট্রাকের সামনের চাকা এবং পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খোদেজা বেগমের ছেলে বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই দুই দফা তদন্ত করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাটি যে একটি হত্যাকাণ্ড তা পুলিশের তদন্ত ও আদালতের সাক্ষ্য-প্রমাণেও প্রমাণিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের বিচারাধীন এই মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত। খোদেজার স্বামী নুরু গাজী বলেন, ‘এটি অন্য সড়ক দুর্ঘটনার মতো নয়। ঘটনাটি সড়ক কিংবা কোনো মহাসড়কে ঘটেনি। শুধু ট্রাকের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলেই একে সড়ক দুর্ঘটনা ধরা যায় না। এটি একটি ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড। নিজের পেশিশক্তির জোরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন মীরু। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমার স্ত্রী হত্যার এমন বিচারে অন্য কোনো ট্রাকচালক ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করার সাহস পাবেন না। ’ ঝাউচর গ্রামের বাসিন্দারাও একই কথা বলেছেন। এটি অন্য সড়ক দুর্ঘটনার মতো নয় দাবি করে তারা চালক মীরুর দণ্ডকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। এ রায়কে কেন্দ্র করে চলমান পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম দস্তগীর বলেন, ঠাণ্ডা মাথায় ট্রাকচাপা দিয়ে খোদেজা বেগমকে নিজ পারিবারিক রাস্তায় হত্যার ঘটনায় ৩০২/৩৪ ধারায় আসামি মীর হোসেন মীরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে। এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়, ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। আদালতের রায়ে বলা হয়, ঘটনার দিন পারিবারিক রাস্তা দিয়ে ট্রাক নিতে বাধা দেন খোদেজা বেগম ও তার পরিবারের লোকজন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মীরু ট্রাকচাপা দিয়ে খোদেজা বেগমকে হত্যা করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow