Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ০২:২১
এসডিজি অর্জনে আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে হবে
—ড. হোসেন জিল্লুর
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে হবে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত ২৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তৈরি পোশাকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

কিন্তু সামনের দিনগুলোয় কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাই দেশের ব্যবসায়ীদেরও কৃষি খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য উদ্যোগী  হতে হবে। গতকাল মতিঝিলের চেম্বার ভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি—ডিসিসিআই আয়োজিত ‘এসডিজি থেকে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক সম্ভাবনার কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার—পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ। আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, ডিসিসিআইর সভাপতি আবুল কাসেম খান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, ইউএনডিপির বাংলাদেশের সহকারী কান্ট্রি ডিরেক্টর খুরশেদ আলাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বিগত কয়েক দশক যাবৎ আমরা সারা বিশ্বে বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক অরাজকতা লক্ষ্য করছি। তিনি সত্যিকার অর্থে দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমানে ব্যবহৃত উন্নয়নের মডেলসমূহ সংস্কারের পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাত ও সরকারের অংশীদারিত্ব যথাক্রমে ৭০ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ, তাই এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসার খাতভিত্তিক টাক্সফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যাংক থেকে সরকারের স্বল্প ঋণ গ্রহণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, দেশের মোট বিনিয়োগে বেসরকারি খাত ও সরকারের অবদান যথাক্রমে ৭৮ শতাংশ এবং ২২ শতাংশ। তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং অর্জনে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার ওপর জোরারোপ করেন। ডিসিসিআইর সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ফলে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জসমূহ ব্যবসায়ে নতুন নতুন খাত তৈরির সম্ভাবনা জাগিয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এসডিজি অর্জনে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ এবং কর ও জিডিপির অনুপাত বাড়াতে হবে। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম বলেন, এসডিজির ফলে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, কাগজ ও পাল্প, পানি সংশোধন, খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow