Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৪
এসডিজিতেও নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ
৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির টার্গেট
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) অর্জনে সামনের কাতারে ছিল বাংলাদেশ। খোদ জাতিসংঘ এর স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এমডিজি পদক তুলে দিয়েছে।

দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সাফল্য এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেই এমডিজি যুগ শেষ হয়েছে ২০১৫ সালে। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি বাস্তবায়নের কার্যক্রম। বাংলাদেশ এখন এটিতেও লিড দিচ্ছে। এসডিজিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমডিজি অর্জনের মেয়াদ ২০১৫ সাল ধরা হলেও এর আগেই বেশিরভাগ লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এখন এসডিজি অর্জনেও তাই চাইছে সরকার।   পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, আমাদের যে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চলছে, সেখানে ২০১৯ সালের মধ্যে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পরবর্তী ৮ম পঞ্চবার্ষিকীতে ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি এসডিজিতে প্রাক্কলিত টার্গেটের চেয়ে বেশি। প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ এসডিজির টার্গেটের চেয়ে এগিয়ে আছে।

১৭টি লক্ষ্যের ১০টিই বাংলাদেশের : জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের বাস্তবায়ন ও লক্ষ্য নির্ধারণেও বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়েছে। এসডিজি লক্ষ্য নির্ধারণে প্রায় ৬০টি দেশ প্রস্তাব দেয় জাতিসংঘে। এতে প্রায় ৯০ লাখ ব্যক্তি প্রস্তাব রেখেছিল। বাংলাদেশকেও প্রস্তাব দিতে বলা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এসডিজির জন্য ১১টি লক্ষ্য জাতিসংঘে জমা দেয়। সেখান থেকে ১০টি প্রস্তাব গৃহীত হয়। অর্থাৎ এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ১০টিই ছিল বাংলাদেশের প্রস্তাবিত লক্ষ্যের সঙ্গে সমন্বিত। প্রফেসর শামসুল আলম বলেন, বাকি যে একটি লক্ষ্য ‘অসমতা কমিয়ে আনা’ সেটি অভীষ্ট লক্ষ্যে স্থান না পেলেও এসডিজি টার্গেটের মধ্যে রয়েছে। সে অর্থে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত অভীষ্ট লক্ষ্যের সবই এসডিজিতে প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থাৎ এমডিজির মতো এসডিজিতেও লিড দিচ্ছে বাংলাদেশ।

কী আছে এসডিজিতে : ১. দারিদ্র্য বিমোচন, ২. ক্ষুধামুক্তি, ৩. সুস্বাস্থ্য, ৪. মানসম্মত শিক্ষা, ৫. জেন্ডার সমতা, ৬. বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, ৭. ব্যয়সাধ্য ও টেকসই জ্বালানি, ৮. সবার জন্য ভালো কর্মসংস্থান, ৯. উদ্ভাবন ও উন্নত অবকাঠামো, ১০. বৈষম্য হ্রাসকরণ, ১১. টেকসই শহর ও সম্প্রদায়, ১২. (সম্পদের) দায়িত্বশীল ব্যবহার, ১৩. জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ, ১৪. সমুদ্রের সুরক্ষা, ১৫. ভূমির সুরক্ষা, ১৬. শান্তি ও ন্যায়বিচার এবং ১৭. লক্ষ্য অর্জনের জন্য অংশীদারিত্ব এই ১৭টি লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করার জন্য বিশ্বের প্রায় সব দেশ একমত হয়েছে জাতিসংঘের এক অধিবেশনে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসডিজি চূড়ান্তকরণ ওই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন।

বাস্তবায়নে লাগবে কত টাকা : এমডিজিতে যেখানে বিগত ১৫ বছরে (২০০০-২০১৫ সাল) আটটি লক্ষ্য অর্জন করতে হয়েছে, সেখানে এসডিজি অর্জনে পরবর্তী ১৫ বছরে (২০১৫-২০৩০ সাল) দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ১৭টি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। এসব লক্ষ্য অর্জনে কত টাকা ব্যয় হবে? কীভাবে আসবে সেই অর্থ? বাংলাদেশ কি পারবে এতগুলো লক্ষ্য অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে? এসব প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর শামসুল আলম জানান, এসডিজি বাস্তবায়নে সারা বিশ্বে ৩ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে। সেই অনুপাতে বাংলাদেশে কত খরচ হবে সেটি নিয়েও আলোচনা চলছে। চলতি মাসেই এটি চূড়ান্ত করা হবে। আর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজির সমন্বয় করার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে সবার মতামত। ফলে এসডিজি হচ্ছে আমাদের জন্য এমন একটি উন্নয়ন লক্ষ্য যেটি সরকারি-বেসরকারি-উন্নয়নসহযোগীসহ সব শ্রেণিপেশার অংশীদারিত্বে বাস্তবায়ন হবে।

এক বছরে অগ্রগতি : পরিকল্পনা কমিশন জানায়, এসডিজির ১৭টি গোলের মধ্যে যে ১৬৯টি টার্গেট রয়েছে সেগুলো কোন মন্ত্রণালয়, কীভাবে বাস্তবায়ন করবে— এ জন্য এরই মধ্যে পথ নির্দেশিকা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় পর পর বৈঠক হচ্ছে। ওই বৈঠকে অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন লিড মিনিস্ট্রিগুলো ভালোভাবেই জানে, কী করতে হবে তাদের। শুধু তাই নয়, এসডিজি বাস্তবায়ন কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তখনকার মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সচিব পদ থেকে তিনি অবসরে গেলেও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমন্বয়ক হিসেবে তাকেই দায়িত্বে রেখেছেন। এতে এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বজায় রয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow