Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৭
জনগণের আস্থা ফেরানোই নতুন ইসির প্রথম চ্যালেঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণের আস্থা ফেরানোই নতুন ইসির প্রথম চ্যালেঞ্জ
এ টি এম শামসুল হুদা

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন, মানুষের আস্থা অর্জন করা নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের কথাবার্তায়, কাজেকর্মে জনমনে আস্থা তৈরি করতে হবে।

তারা দলবাজি করবে না সেটি প্রমাণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের আচরণে কোনো ধরনের সংশয় যেন তৈরি না হয়। তিনি নতুন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করারও  পরামর্শ দেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গতকাল সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত ‘নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। শামসুল হুদা বলেন, শুধু ইসির সদিচ্ছা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, এ জন্য নির্বাচনকালীন সরকারের  মনোভাব ইতিবাচক হতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নাম নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ লেখার প্রয়োজন ছিল না। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হলে কমিশনে বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে অফিসার নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কারণ, নির্বাচনের সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ দেওয়া অফিসারদের ওপর কমিশনের তেমন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। গত নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে জনমনে কমিশনের প্রতি আস্থা কমে গেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে যে তারা নির্বাচনের সময় কেমন পরিবেশ চান। এ ছাড়া ইভিএম তৈরি করতে এমন লোকদের দায়িত্ব দিতে হবে, যেন তাদের ওপর সবার আস্থা থাকে। যাকে তাকে দিয়ে এটা করা ঠিক হবে না। মানুষের প্রশ্ন তারা ভোট দিতে পারবেন কি না। নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচন নিয়ে মানুষের এই ধারণা পাল্টানো। মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, আস্থা অর্জন করা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক নয়। তাই উপজেলা বা সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রমাণ হবে না। কারণ, আমাদের মনে রাখতে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের বিষয়। বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব। নৈতিক বলপ্রয়োগ ছাড়া শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। এই নির্বাচন কমিশনের সামনে দুটি বিকল্প আছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে প্রশংসিত হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে ইতিহাসে নিন্দনীয় হওয়া।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম, সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মানুষের ধারণা পাল্টানো এই কমিশনের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ। এখন প্রশ্ন, মানুষ ভোট দিতে পারবে কি না। ভোট নিয়ে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই প্রথম চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। সে কারণে কোড অব কন্ডাক্ট সংশোধন করা যায় কিনা এটাও কমিশনকে ভাবতে হবে। এটি মাথায় রেখে এখন থেকেই ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন করার জন্য কাজ করতে হবে। আইনের প্রচুর সংস্কার করতে হবে। শুধু নির্বাচন কমিশন দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব নয়, নির্বাচনকালীন সরকারের মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ। মূল প্রবন্ধে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার নতুন কমিশনের সামনে ১৯টি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কমিশনারের সংখ্যা, কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন রাখা, প্রেষণে কর্মকর্তা নিয়োগ, সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা, আইনের প্রয়োগ, ভোটার তালিকা তৈরি, সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা, মনোনয়নের ক্ষেত্রে উড়ে এসে জুড়ে বসার সমস্যা দূর করা, সহিংসতা রোধ, আচরণবিধি  মেনে চলা নিশ্চিত করা ইত্যাদি। বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, গত কমিশনের ব্যর্থতা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে খাদে ফেলে দিয়েছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জন-অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল বলেন, কমিশনের যোগ্যতা ও সদিচ্ছা থাকলেও তা প্রয়োগের পরিবেশ আছে কি না,  সেটি দেখতে হবে। নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার ব্যবস্থা না থাকলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সুজনের নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার বলেন, স্টেক হোল্ডারদের মতামত নিয়ে ই-ভোটিংয়ের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে বর্তমান কমিশনকে। ছোট-ছোট নির্বাচন করে তারা প্রমাণ করবে যে তারা সৎ, দক্ষ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক। যাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সীমিত পর্যায়ে ই-ভোটিং চালু করার পরামর্শ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান। এ সময় সাবেক বিচারপতি আবদুল মতিন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow