Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২২:৪০
নব্য জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা গ্রেফতার
গুলশান হামলার অনুমোদন দিয়েছেন কাসেম, চার্জশিট বছর শেষে : পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
নব্য জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা গ্রেফতার

রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নব্য জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুরকে (৬০) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসিটি) ইউনিটের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর সেনপাড়া পর্বতা এলাকা থেকে কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস ৭দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিসিটি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, কাশেমকে সংগঠনের সবাই বড় হুজুর বলে ডাকতেন। তিনিই গুলশান হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে এই হামলায় তার সম্পৃক্ততা কতটুকু তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হলি আর্টিজান হামলা মামলার চার্জশিট চলতি বছরের শেষের দিকে দেওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মনিরুল বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কাশেমের বাড়ি কুড়িগ্রাম। তিনি দিনাজপুরের রানীরবন্দর এলাকার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। নব্য জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে ২০১৫ সালে তার নাম জানতে পারে পুলিশ। তার আরেক নাম শায়েখ আবু মোহাম্মদ আইমান হাফিজুল্লাহ। তাকে সংগঠনের সবাই বড় হুজুর বলে ডাকতেন। তবে কাশেমের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারপর এ বিষয়ে বলা যাবে। সিটিসিটি প্রধান বলেন, জেএমবির (জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) শীর্ষ নেতা মাওলানা সাইদুর রহমান ২০১০ সালে  গ্রেফতার হন। এরপর কাশেম জেএমবির বিদ্রোহী অংশের (নব্য  জেএমবি) আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি তার নিজস্ব মনগড়া ধর্মীয় মতবাদ দিয়ে নব্য জেএমবিকে হিংস্র করে তোলেন। নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা তামিম চৌধুরী ২০১৩ সালে কানাডা থেকে আসার পর রাজশাহীতে যে বৈঠক করেছিলেন, সেখানে কাশেম উপস্থিত ছিলেন।

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী সম্প্র্রতি  গ্রেফতার হওয়ার পর তার কাছ থেকে কাশেমের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায় উল্লেখ করে মনিরুল বলেন, রাজীব গান্ধীর দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। দিনাজপুরের ওই মাদ্রাসা থেকে প্রায় দেড় বছর আগে পালিয়ে গিয়েছিলেন কাশেম। সর্বশেষ নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী চক্রের প্রধান মো. মিজান ওরফে বড় মিজান গ্রেফতারের পর কাশেমের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেফতারের সময় কাশেম বিকাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো টাকা আনতে যাচ্ছিলেন। এক ভক্ত তাকে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল।

চলতি বছরেই হলি আর্টিজান হামলার চার্জশিট : হলি আর্টিজান হামলা প্রসঙ্গে মনিরুল বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০-২২ জনের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন নিহত হয়েছে। তবে জড়িত ব্যক্তির মোট সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫ জন হতে পারে। গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানে ওই সন্ত্রাসী হামলায় ২০ জন নিহত হন। এর মধ্যে ১৭ জন বিদেশি, তিনজন বাংলাদেশি (একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন)।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow