Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২২:৪১
গ্রামে গ্রামে সোলার অ্যাম্বুলেন্স
জিন্নাতুন নূর
গ্রামে গ্রামে সোলার অ্যাম্বুলেন্স

শহরে রোগীদের হাসপাতালে বহনের জন্য যে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে দেখা যায় এটি তেমন নয়। তিন চাকার ভ্যানগাড়ির ওপর রোগীদের বহনের জন্য একটি অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

আর এটি চালানো হয় সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে। রাতে সোলার ব্যাটারিও ব্যবহূত হয়। ‘সোলার অ্যাম্বুলেন্স’ নামে পরিচিত এই বাহনের ব্যবহার আরামদায়ক ও নিরাপদ। গতিও ভালো। আর গ্রামের সরু মেঠোপথে এটি সহজেই ব্যবহার করা সম্ভব এবং মানুষের কাছে এটি সাশ্রয়ীও। আশার কথা, গ্রামে মানুষের কাছে এটিই দেশের প্রথম রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। বর্তমানে এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে। আশা করা হচ্ছে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি বাজারজাত করা হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সোলার অ্যাম্বুলেন্স নির্মাণের সঙ্গে জড়িতরা জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্র্যাক, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং একটি পরিবহন উৎপাদনকারী সংস্থা সোলার অ্যাম্বুলেন্সের নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে বহনের জন্য এখনো রিকশা বা ভ্যানগাড়ি ব্যবহার করা হয়। গ্রামের অনেক কাঁচা রাস্তা ও সরু পথে যেখানে বড় অ্যাম্বুলেন্স গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না, সেখানে তিন চাকার নতুন এই ‘সোলার অ্যাম্বুলেন্স’ অনায়াসেই প্রবেশ করতে পারবে। অন্যদিকে এর ব্যবহার অনেক রোগীর কষ্ট কমাবে এবং জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা যায়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন রিসার্চ সেন্টার এই প্রকল্পটি বেভটেকের সঙ্গে পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক এখানে আর্থিক সহযোগিতা করছে। এতে আরও সহযোগিতা করছে ইউএস ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার।

একটি ভালো মানের অ্যাম্বুলেন্সের দাম যেখানে প্রায় ২৫ লাখ টাকা সেখানে একটি সোলার অ্যাম্বুলেন্সের সর্বোচ্চ দাম পড়বে দুই লাখ টাকা। আর এতে একসঙ্গে তিনজনের বসার ব্যবস্থা আছে। এটি প্রতি ঘণ্টায় ২০ কি.মি. থেকে সর্বোচ্চ ৫০ কি.মি. বেগে চলে। দিনের বেলা ১০০ মেগাওয়াটের চারটি সোলার প্যানেল দিয়ে চালিত হয়। আর রাতে চারটি ১২ ভল্টের ব্যাটারি দিয়ে চালানো হয়। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সোলার অ্যাম্বুলেন্সে চার্জ করা হয়। এরই মধ্যে পাঁচটি সোলার অ্যাম্বুলেন্স তৈরি এবং এর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর পরিচালিত ক্লিনিকগুলোতে সোলার অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রথম সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় তার স্ত্রীর অবস্থা বেশ গুরুতর ছিল। জাহিদুল জানান, সে সময় স্ত্রীকে তিনি রিকশা করে কাছের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। কারণ রিকশা ছাড়া অন্য বড় কোনো যানবাহন তার ঘরের কাছে পৌঁছায় না। আর রিকশায় ক্লিনিকে যেতে প্রচুর সময় লাগে। কিন্তু জাহিদুল যদি তার স্ত্রীকে কিছুটা আগে ক্লিনিকে নেওয়ার সুযোগ পেতেন তবে তার স্ত্রীর শারীরিক কোনো সমস্যা হতো না। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং সোলার অ্যাম্বুলেন্স প্রকল্পের দলনেতা অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আবদুল মালেক আজাদ এই প্রতিবেদককে জানান, গ্রামের বেশিরভাগ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো, ব্যয়বহুল হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দিতে পারে না। কিন্তু সোলার অ্যাম্বুলেন্স সে তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এগুলো সহজেই কিনতে ও ব্যবহার করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, গ্রামের এই ক্লিনিকগুলোর জন্য স্বল্প মূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বেশ কার্যকরী একটি উদ্যোগ হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সোলার রেসিং কার দেখেই এই অধ্যাপক ‘সোলার অ্যাম্বুলেন্স’ নির্মাণে উৎসাহিত হন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow