Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৮
দুর্গম চরে কাসেমের জঙ্গি আস্তানা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ঢাকায় গ্রেফতার নব্য জেএমবির ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ আবুল কাসেমের জঙ্গি আস্তানা ছিল কুড়িগ্রাম রাজীবপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে। রাতের আঁধারে সেখানে চলত জঙ্গি প্রশিক্ষণ।

সূর্য ওঠার আগেই তাদের আবার ফিরিয়ে নেওয়া হতো লোকালয়ে। যাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গি বানানো হতো, তারা প্রত্যেকেই কুড়িগ্রামের হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন আবুল কাসেম। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার পর বিষয়টি ফাঁস হয়। স্থানীয়রা জোটবদ্ধ হয়ে জঙ্গি তৈরির ওই মাদ্রাসাটি গুঁড়িয়ে দেয়। জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা আবুল কাসেম গ্রেফতারের পর তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে জঙ্গি প্রশিক্ষণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। গতকাল স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আবুল কাসেমের বিষয়ে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, আবুল কাসেমের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার দুর্গম উত্তর কোদালকাটি চরে। প্রথমে তিনি অষ্টমীচর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর বাজারে পল্লী চিকিৎসক এবং হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছে ‘বড় হুজুর’ হিসেবে পরিচিত কাসেম ২০০৪ সালের গোড়ার দিকে ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হতো এই দুর্গম চরে। সারা রাত চলত প্রশিক্ষণ। মাদ্রাসাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আবুল কাসেম এলাকা ছেড়ে চলে যান। ব্রহ্মপুত্র নদের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের অংশ ডাটিয়ারচরের বাসিন্দা মজিবুর রহমান, সোলেমান মাস্টার, করিম মণ্ডল ও ইদ্রিস আলী জানান, আবুল কাসেম ডাটিয়ারচর হাফেজিয়া মাদ্রাসাকে জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। কাসেম তখন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিচিত যুবক, তরুণ ও কিশোররা সেখানে যেত। রাতে মাদ্রাসায় হতো আলোচনা। তাদের সবার খাবার রান্না হতো কাসেম ‘হুজুরের’ বাড়িতে। তারা বলেন, ‘প্রথম প্রথম চরের মানুষ অতটা বুঝে উঠতে পারেনি। কিন্তু দেশজুড়ে গ্রেনেড হামলার পর আমরা বুঝতে পারি যে ওটা ছিল জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। পরে তো চরের মানুষ ওই মাদ্রাসা ভেঙে দেয়। এরপর আবুল কাসেমকে আর দেখা যায়নি। ’ জানা গেছে, আবুল কাসেম সুন্দর করে বয়ান দিতেন। তার বয়ানে আকৃষ্ট হতো লোকজন। ফলে দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চলে জেএমবি সদস্যদের কাছে দ্রুত তিনি ‘জনপ্রিয়’ হয়ে ওঠেন। ডাটিয়ারচর থেকে তাড়া খেয়ে আবুল কাশেম রাজীবপুরের করাতিপাড়া ও জিয়ারার চরেও জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র খোলার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা যায়। প্রথমে হাফেজ বানানোর কথা বলে মাদ্রাসা চালু করতেন তিনি। পরে রাতে সেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। রাজীবপুরের কোদালকাঠি ইউনিয়নের উত্তর কোদালকাঠি চরে আবুল কাসেমের বাড়িতে দোচালা দুটি টিনের ঘর। তার সাত ছেলে ও তিন মেয়ের প্রত্যেকেই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছেন। আবুল কাসেমের স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, ‘উনি (স্বামী) গত বছর ১৬ মে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। ’ উত্তর কোদালকাঠির ইউপি মেম্বার কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা জানি আবুল কাসেম জঙ্গি নেতা। সে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গি হিসেবে গড়ে তোলেন। ’ আবুল কাসেমকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow