Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪০
প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ নারী কর্মী থাকতে হবে : তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ নারী কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি নীতিমালার পাশাপাশি প্রতিটি পত্রিকা অফিসের নিজস্ব নীতিমালা থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে নীতিমালা হচ্ছে। তবে প্রতিটি পত্রিকা অফিসে সাংবাদিকদের কোন নীতি মেনে চাকরিতে    যোগদান করানো হচ্ছে, কোন স্কেলে বেতন দেওয়া হচ্ছে, কোন ক্ষমতাবলে ও কী কারণে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এর সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। গতকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন গণমাধ্যম চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমীমা হোসেন। বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সিনিয়র নারী সাংবাদিক মকবুলা পারভীন, নাসিমুন নাহার মিনু, কবি হাসান হাফিজ, মাহফুজা ইয়াসমীন, শান্তা মারিয়া, আঙ্গুর নাহার মন্টি প্রমুখ। অনুুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউজ টোয়েন্টিফোর-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সেমিনার উপকমিটির আহ্বায়ক শ্যামল দত্ত। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর উচিত কোন কোন অফিস এসব নীতিমালা অনুসরণ করছে তা দেখভাল করা। প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। এ বিষয়ে প্রতিটি হাউসে তদারকির মাধ্যমে খোঁজখবর নিতে হবে। এমনকি এ বিষয়ে মালিকপক্ষকে চাপ দিয়ে হলেও চাকরি ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে এ বিষয়ে আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করে আগামী বছরের ৮ মার্চের আগে নারী কর্মীর কর্মক্ষেত্রে অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের অগ্রগতির প্রতিটি বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে তথ্য মন্ত্রণালয়কে রিপোর্ট করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তাসমীমা হোসেন বলেন, ‘সমাজে নারীরা সব সময়ই ভারপ্রাপ্তই থেকে যায়। এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। আমি পারি না, পারব না এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে মনোবল সবল করে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ’ গণমাধ্যমে নারীদের সুরক্ষায় আলাদা নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মত দেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র একটা দিন যদি গণমাধ্যমে নারীদের অবস্থা, অধিকার নিয়ে কথা বলা হয়, তবে এতে বোঝা যায়, বর্তমানে নারীবৈষম্য কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, নারীরা কী পেলেন আর কী পেলেন না, ভবিষ্যতে কী অর্জন বাকি থেকে গেল, সবকিছুর হিসাব করার দিন হলো ৮ মার্চ। তিনি বলেন, নারীরা সব পারে। লক্ষ্য স্থির, আন্তরিকতা, কঠোর পরিশ্রম থাকলে সামাজিক আর পারিবারিক হোক, কোনো প্রতিবন্ধকতাই নারীর চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। নারী যখন লড়াকু সৈনিক হয়, মাঠে তখন তাদের জয় নিশ্চিত। সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা অত্যন্ত জরুরি। নীতিমালা হোক আর যা-ই হোক, বাস্তবায়নটা অত্যন্ত জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে সবাইকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow