Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪০
নির্বাচনী ট্রেনে দুই দল
বিতর্কিত এমপিদের সতর্ক করে জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা
রফিকুল ইসলাম রনি
নির্বাচনী ট্রেনে দুই দল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দুই বছর বাকি থাকলেও নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বত্রই চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি।

নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে এমপিদের আমলনামা। বিতর্কিত এমপি ও নেতাদের ডেকে সতর্ক করার পাশাপাশি বিতর্ক এড়িয়ে চলতে কঠিন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। মাঠ গোছাতে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলায় জেলায় সফর করছেন। এমপিরাও নিজ নিজ এলাকায় উঠোন-বৈঠক থেকে শুরু করে মুখোমুখি অনুষ্ঠানে এলাকার মানুষের কথা শুনছেন। তুলে ধরছেন সরকারের উন্নয়নের কথা। চাইছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট। পিছিয়ে নেই সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে তৃণমূল থেকে হাইকমান্ডে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সংবিধানমতে সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অুনযায়ী ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে পরবর্তী নির্বাচনের এখনো এক বছর ৯ মাস সময় হাতে রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বিভিন্ন বৈঠকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার আদমদীঘিতে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী এমপিদের আগামী নির্বাচনের জন্য ভোটারের দ্বারে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন মাথায় রেখে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী বাছাইয়ে আগে থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ জন্য সরকারি ও দলীয় গোয়েন্দাদের একাধিক টিম কাজ করছে। এসব গোয়েন্দা প্রতিবেদন সরাসরি যাবে দলের হাইকমান্ডের কাছে। ইতিমধ্যে বর্তমান এমপি ও আসনভিত্তিক মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আমলনামাভিত্তিক একাধিক প্রতিবেদন জমাও পড়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। দলের নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন নেতা বলেন, ‘দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে এখন দল গোছানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দলের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা একটি কার্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ের পাশে আলাদা একটি ভবনে এ কার্যক্রম চলবে। বৃহৎ পরিসরে এ কার্যালয় থেকে নির্বাচনী সব কার্যক্রম পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ জন্য আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। ’

নির্বাচনের আগে দলের তৃণমূলে ঐক্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলে চিঠি দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চিঠিতে দলীয় কোন্দল নিরসনের তাগিদ দিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে আর কোনো কমিটি বিলুপ্ত কিংবা কাউকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনার জন্য বলা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের তত্পরতা লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি তিনি বেশ কয়েকজন এমপিকে সভানেত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় ধানমন্ডিতে ডেকে তাদের সংশোধন হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত ১০ জন এমপিকে সতর্ক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে খুলনার এমপি নুরুল ইসলামকে সতর্ক করা হয়। আওয়ামী লীগের চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যেককে দুটি করে বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে নিয়ে দলে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি কার্যালয়ে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আগামী নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির কাজ শুরুর নির্দেশনা দেন। এর পরই দলীয় এক বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, তিন মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা হবে। সূত্রমতে, উন্নয়ন, সুশাসন ও জননিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তৈরির কাজ চলছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে উন্নয়ন ধরে রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেবে। সেভাবেই ঠিক হবে নির্বাচনী মূল স্লোগান। নির্বাচনী ইশতেহারও সেভাবে ঠিক করা হচ্ছে। সহযোগী সংগঠন এবং তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতেও চলছে নানামুখী তত্পরতা। ইতিমধ্যে মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরও তিনটির সম্মেলন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই সব সংগঠনের সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে সব সময় নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে যেমন এ প্রস্তুতি ছিল, এখনো রয়েছে, সামনেও থাকবে। আমরা সেভাবেই দলকে গুছিয়ে নিচ্ছি। ’ দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দুই বছর বাকি থাকলেও আমরা নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তৃণমূলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করছি। এ জন্য জেলায় জেলা সাংগঠনিক সফর, মতবিনিময় সভা করছি। প্রতিটি জেলায় নৌকার পক্ষে জনমত গঠন করছি। ভোটের প্রস্তুতি নিতে এমপি ও নেতাদের নির্দেশনা দিচ্ছি। ’ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বগুড়ায় জনসভায় আগামী নির্বাচনের ভোট চেয়েছেন। নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের দল। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল, যারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে, তারা অবশ্যই নির্বাচন ঘিরেই সবকিছু চিন্তাভাবনা করে। দুই বছর কোনো কথা নয়। একটি নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরই আরেকটি নির্বাচন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা দরকার। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ থাকে। দল হিসেবে আমাদের যে উদ্দেশ্য, আমাদের যে আদর্শ, তা বাস্তবায়ন করার জন্য নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং নির্বাচন সম্পর্কে দুই বছর নয়, সব সময় আমাদের প্রস্তুতি থাকা উচিত। নেত্রীর নির্দেশে আমরা তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করছি। ’ এদিকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলায় জেলায় জনসভায় অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিটি জেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের মোড়ক ও ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরবেন। পাশাপাশি নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুর, ২১ মার্চ মাগুরা, ২৮ মার্চ ফরিদপুর, ১৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও, ২৩ এপ্রিল বরগুনা, ২৯ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভা করবেন। সেখানে বগুড়ার মতোই নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলায় সফর করবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow