Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪১
তিন খাতে চায় সীমাহীন বিনিয়োগ
শেয়ারবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিএমবিএর চিঠি
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে অর্থায়নের যে সীমা রয়েছে (ব্যাংক এক্সপোজার লিমিট), তিন খাতে বিনিয়োগকে সেই সীমার বাইরে রাখতে চায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। এই সুযোগ চেয়ে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতারা।

এতে তারা পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, অতালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এবং মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ এই তিন খাতের বিনিয়োগ সীমার বাইরে রাখার সুযোগ চেয়েছেন। একই চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক করে বিএমবিএ আরও বলছে, ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সীমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুঁজিবাজারে যে নজরদারি বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে, সেটি বাস্তবে ঘটলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে। এতে অপ্রয়োজনীয় শেয়ার বিক্রির চাপ সৃষ্টি হবে। নতুন করে উদ্বেগ ছড়াবে যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় সংকট তৈরি করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে উদ্দেশ করে এই চিঠি পাঠান সংস্থাটির সভাপতি ছায়েদুর রহমান ও মহাসচিব খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ। কয়েক বছর ধরে মন্দা অব্যাহত থাকার পর গত ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা ফিরে আসতে শুরু করে। ডিএসই সাধারণ সূচক বাড়ছিল তরতর করে। বাড়ছিল লেনদেনের পরিমাণও। আচমকা ওই তেজিভাব নিয়ে যাতে কোনো ধরনের উদ্বেগ না ছড়ায় তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ (ডিএসই)।   ১৯ জানুয়ারি মতিঝিলে ডিএসই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ২০১০ সালের পুঁজিবাজারে ধসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংস্থাটির পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ওই সময় অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছিলেন। এরপর গত ছয় বছর ধরে বাজার পড়তির দিকে হলেও এই বছরের শুরু থেকে তেজিভাব দেখা যাচ্ছে। তবে সূচক ও লেনদেন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে ভয়ের কোনো কারণ নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর ২৯ জানুয়ারি মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ২০১০ সাল থেকে শেয়ারবাজারে বিরাজমান মন্দা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি যাতে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে থাকে এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারি অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সতর্কতামূলক নীতি পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা করে বিএমবিএ-এর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আমাদের সবিনয় অনুরোধ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দয়া করে আগের মতোই সংকুলানমুখী নীতি অব্যাহত রাখুন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে আমরা কিছু সুবিধা চেয়েছি। বিশেষ করে পুঁজিবাজারে যেসব দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ রয়েছে তা ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার যে হিসাব তার আওতামুক্ত রাখতে অনুরোধ করেছি। ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে ৪ নম্বর সার্কুলার রয়েছে সে অনুযায়ী এটি বিনিয়োগ সীমার বাইরে পড়ে। অতালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যে বিনিয়োগ তাও বিনিয়োগ সীমা সংক্রান্ত নীতির আওতামুক্ত রাখার সুযোগ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ প্রচলিত অর্থে যেটি সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নয়, এই ধরনের বিনিয়োগকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার বাইরে রাখার অনুরোধ করেছি।

জানা গেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ছিল মোট দায়ের (মূলধন ও আমানত) ১০ শতাংশ। কিন্তু ২০১০ সালে ব্যাংকগুলো এ সীমা অতিক্রম করে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিয়োগ কমিয়ে আনা হলে শেয়ারবাজারে বিপর্যয় হয়। এরপর ২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে ব্যাংকের বিনিয়োগ ইক্যুইটির ২৫ শতাংশ করা হয়। আর এই ইক্যুইটির মধ্যে রয়েছে পরিশোধিত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ রিজার্ভ এবং রিটার্ন আর্নিংস। আর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের মেয়াদ ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া হয়। অবশ্য এই বিনিয়োগ সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow