Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২৮
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে পাটকল বন্ধ করে দেয় বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী
দেশবাসী ইউনূসের বিচার করবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে পাটকল বন্ধ করে দেয় বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাটপণ্য উপহার দেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক ও প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম —বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে একের পর এক পাটকল বন্ধ করে পাটকে ধ্বংস করে দিয়েছিল বিএনপি। সোনালি আঁশ পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকার অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

যার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী পাট দিবস এবং পাটপণ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে পাটজাত পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজেও পাটের শাড়ি পরে আসেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের উদ্যোগে পাটের সোনালি দিন আবার ফিরে এসেছে। প্রযুক্তির এই উত্কর্ষের যুগেও পাটের অমিত সম্ভাবনা রয়ে গেছে। পাটের সঙ্গে হাজার হাজার কৃষকের জীবন জড়িত। যে জমিতে পাট চাষ হয় তা প্রাকৃতিকভাবেই শস্যবর্তনের কারণে জমির উর্বরতা বাড়ায়। কাজেই পাটের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পাট খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করেন। পাট বিষয়ে সারা দেশে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝেও তিনি পুরস্কার বিতরণ করেন।

‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ’— এ স্লোগানে প্রথমবারের মতো সারা দেশে জাতীয় পাট দিবস পালন করছে সরকার। এ উপলক্ষে আট দিনের কর্মসূচি পালন করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে গতকাল কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও পাট পণ্য মেলার আয়োজন করা হয়। মেলা আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলায় ১৩৫ রকমের পণ্য পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পাট শিল্পকে অবহেলা করেছে। বিএনপি বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে একটা চুক্তি সই করে। এই চুক্তিতে ছিল কী? তারা বাংলাদেশের পাটকলগুলো একে একে বন্ধ করে দেবে। ঠিক একই সময় বিশ্বব্যাংক নতুন নতুন পাটকল তৈরি করার জন্য ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। পার্লামেন্টে আমি এবং আমরা অনেকে এ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছিলাম যে আড়াই লাখ বেল পাট রপ্তানির মার্কেট যদি বিদেশে থেকে থাকে, তাহলে বাংলাদেশে কেন পাটকল বন্ধ হবে? আর ভারত কেন নতুন পাটকল করার সুযোগ পাবে? প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বলেছিলাম, আমাদের তো সব সময় ভারতের দালাল বলেন। কিন্তু এই দালালির যে একটা জ্বলন্ত উদাহরণ সামনে, এটার কী করবেন? তাদের কোনো জবাব ছিল না। কারণ ওই একটাই, টাকা পাবে আর বিশ্বব্যাংক বলেছে। বিশ্বব্যাংক যা বলেছে, মনে হয় ফেরেশতা এসে বলেছে। যা বলেছে সেটা করতে হবে। এভাবে তারা আমাদের পাটকলগুলো একে একে ধ্বংস করে দেয়। তিনি বলেন, এক সময় পাট বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বৃহত্ খাত থাকলেও পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশে যে হত্যা, ক্যু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়, সেখানেই পাটেরও কপাল পোড়া শুরু। বিএনপি সরকারের আমলে পাট শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯১ সালে বিএনপি যখন সরকারে তখন পাট শ্রমিকরা আন্দোলন করেছিল। আওয়ামী লীগ তখন পাট শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে যুগপত্ আন্দোলন করে পাটের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে। সে সময় বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি চালিয়ে ১৭ জন শ্রমিককে হত্যা করে। তিনি বলেন, যে শাড়িটা পরে এসেছি এটা পাটের তৈরি। যে ব্যাগটা ব্যবহার করছি সেটাও পাটের তৈরি। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে পাটের বহুমুখীকরণ করে যাচ্ছি। পাট থেকে উন্নত তন্তু, পলিথিনের মতো হালকা উন্নত মানের পাটের ব্যাগ, ঔষধিগুণসম্পন্ন চায়ের মতো পাট পাতার পানীয়, পাটের বস্ত্র, ব্যাগ, নিত্য ব্যবহার করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আমরা বন্ধ থাকা খুলনার খালিশপুর জুটমিল, সিরাজগঞ্জের কওমি জুটমিলসহ ৫টি পাটকল ও ২টি বস্ত্রকল চালু করেছি। এতে প্রায় ২১ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে। তিনি বলেন, তার সরকার সে সময় থেকে পাটপণ্য গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছিল বলেই আজ পাট থেকে প্রায় ৩৫ রকম পণ্য উৎপাদন করা যাচ্ছে। এমনকি প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পাটের পলিথিন ব্যাগও তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন আমাদের বিজ্ঞানীরা। তিনি বলেন, আমাদের বিজ্ঞানী মরহুম ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে পাটের জিন রহস্য উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে পাটের উন্নত চাষাবাদের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পাটের মেধাস্বত্ব অধিকার অর্জন করেছি। এখন থেকে পাট আমাদের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের চাহিদা সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা-২০১৩’ কার্যকর করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৭টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের ব্যবহার বেড়েছে। পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে ড. ইউনূসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা ব্যাংকের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) পদ, এই এমডি পদ বয়স হয়ে গেলে তো থাকতে পারবে না। সেটা নিয়ে কত বড় একটা ষড়যন্ত্র করল। ব্যাংকের সামান্য একটা এমডি পদের লোভে একটা দেশের এত বড় সর্বনাশ যে করতে পারে, সে বিচার দেশবাসী করবে। তিনি বলেন, আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। তারা অনেক প্রলোভন দিয়েছিল যে, এটা করলে টাকা দেবে, ওটা করলে টাকা দেবে। আমি বললাম, মিথ্যা অপবাদ মাথায় নিয়ে ওই টাকা আমরা নেব না, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণ করতে না পারবে। কিছু দিন আগে কানাডার আদালত রায় দিয়েছে। তারা প্রমাণ করতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকের সব অভিযোগ ভুয়া, বানোয়াট। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow