Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩২
ফেনীতে বিক্রেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষে আনসার নিহত
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী বদরপুর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় এক আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত আনসার সদস্যের নাম মো. মীর নওশাদ আলী (৫২)।

তিনি ব্যাটালিয়ন আনসার বাহিনীর ল্যান্স নায়েক ছিলেন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার সোহেল রানাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ীরা এ সময় মো. সুমন (৩০) নামে এক সোর্সকে মারধর শেষে অপহরণ করে সীমান্তের ওপারে ভারত নিয়ে যায়। একই সঙ্গে আনসার সদস্যের অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায় তারা। সকালে আনসার সদস্যের লাশ কাঁটাতারে বেড়ার নিচে পড়ে থাকতে দেখে বিএসএফ নিয়ে যায়। এদিকে গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আনসার বাহিনীর উপমহাপরিচালক দিলীপ কুমার বিশ্বাস। ওই সময় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক শেষে বদরপুর সীমান্তে নওশাদ আলীর লাশ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু নওশাদ আলীর অস্ত্র ও অপহূত সুমনের বিষয়ে কিছুই জানায়নি বিএসএফ। আহত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানাকে প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার দল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ ১৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে আত্মরক্ষা করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতীয় সীমান্ত এলাকার ভেতরে খানাবাড়ীতে আশ্রয় নেয়। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিসিঞ্জার চাকমা জানান, বুধবার রাত ৯টায় উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম বদরপুরে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এতে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সোহেল রানার সঙ্গে পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা ছিলেন। অভিযানের একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। তাদের হামলায় আনসারের ল্যান্স নায়েক নওশাদ আলী নিহত হন এবং তার অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। সোর্স দুলালকে মারধর করে জোরপূর্বক অপহরণ করে ভারতীয় অংশে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতেই বিষয়টি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জানানো হয়। গতকাল বিকালে বদরপুর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নওশাদের লাশ হস্তান্তর করা হলেও অপহূত দুলালকে ফেরতের বিষয়ে কিছুই জানায়নি বিএসএফ। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে ফেনীর ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আশ্রাফ, ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উক্য সিং, ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আলিম এবং ভারতের পক্ষে ৮৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সুরেন চন্দ্র দাস ও উপ-অধিনায়ক নীরেশ মনোহর উপস্থিত ছিলেন।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow