Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৪
নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বৈঠক ইসিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধা-১, সুনামগঞ্জ-২ শূন্য আসন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী এলাকায় জঙ্গি হামলা বা নাশকতার বিষয়ে সতর্ক থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

গাইবান্ধা-১, সুনামগঞ্জ-২ শূন্য আসন ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি  আস্থার ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। গতকাল দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিইসি। পরে ইসির সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে আমাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন। যারা এখানে কর্মকর্তারা এসেছেন তারা বলেছেন এই নির্বাচন কমিশনের ওপর যেন আস্থার একটা ক্ষেত্র তৈরি হয় তা এই নির্বাচন থেকে বেরিয়ে আসে। তিনি জানান, দেশে একসঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনের নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়ার নজির রয়েছে। তাই মাত্র ২-৩টি নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে,  ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে সে ব্যবস্থা থাকবে।   ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকবেন তারা কোনো অনিয়ম করবেন না। অনিয়ম করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অযথা হয়রানি নয় : বৈঠকে নির্বাচনী এলাকায় জঙ্গি হামলা বা নাশকতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সিইসি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে আমরা সুন্দরগঞ্জ নিয়ে বেশি সতর্ক থাকব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা  মোকাবিলায় তত্পর থাকবে। সিইসি জানান, যদি কারও নামে আগে থেকে কোনো মামলা না থাকে, তাহলে নতুন করে কাউকে হয়রানি করা হবে না।

কুমিল্লায় সেনা প্রস্তুত : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নিয়ে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানান সিইসি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আপাতত কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো সিদ্ধান্ত  নেই। সে রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাদের তাত্ক্ষণিকভাবে নামানো হবে। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহাপুলিশ পরিদর্শক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়/জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ/র‍্যাব /কোস্টগার্ড/আনসার ও ভিডিপি/ ডিজিএফআই/এনএসআই ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তফসিল অনুযায়ী, গাইবান্ধা-১ আসনে ২২ মার্চ এবং ৩০ মার্চ সুনামগঞ্জ-২ উপনির্বাচন ও কুমিল্লা সিটিতে ভোট গ্রহণ হবে। বৈঠকে গাইবান্ধা-১ আসনের উপনির্বাচনে সাধারণ  ভোট কেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ২২ সদস্য আর ঝুঁকিপূর্ণ  কেন্দ্রে ২৪ জন করে নিয়োজিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটলিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ৫০টি টিম মোবাইল ফোর্স হিসেবে, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ১৭টি। এ ছাড়া র‍্যাবের ১৭টি টিম কাজ করবে। আর বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ নিয়োজিত থাকবে ৫ প্লাটুন। সুনামগঞ্জ-২ আসনের উপনির্বাচনের সাধারণ ভোট কেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ২২ সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবে। আর পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে মোবাইল টিম ৪৪টি, স্ট্রাইকিং টিম ১৫টি, র‍্যাবের ১৫টি টিম ও ৪ প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের  ভোট কেন্দ্রেও উপনির্বাচন দুটির মতো ফোর্স মোতায়েন করা হবে। আর পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে  মোবাইল টিম ২৭টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯টি থাকবে। এ ছাড়া র‍্যাবের ২৭টি টিম ও ১৭ প্লাটুন বিজিবিও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow