Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১৬
নির্বাচনী মাঠে প্রধানমন্ত্রী
দুই বছর আগেই প্রচারণা শুরু, গণভবনে শুনবেন তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, মার্চ-এপ্রিলে ছয় জেলায় জনসভা
রফিকুল ইসলাম রনি
নির্বাচনী মাঠে প্রধানমন্ত্রী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছানো এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে জেলা সফরে নামছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা আট বছরের বিভিন্ন খাতের অভাবনীয় উন্নয়ন প্রচার এবং নিজের পরিকল্পনায় দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়িত নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখবেন তিনি।

এর পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন জনগণের কাছে। নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আনতে কাজ করবার দিকনির্দেশনা দেবেন। ইতিমধ্যে মার্চ ও এপ্রিলে ছয়টি জেলা সফর চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছয়টি জনভায় বক্তৃতার মাধ্যমেই মূলত দুই বছর আগেই নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন তিনি। দুই মেয়াদে সরকারপ্রধান থাকা অবস্থায় যেসব জেলায় এখনো সফর করেননি সেসব জেলায় প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে দল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। জেলা সফরের পাশাপাশি গণভবনে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করে শুনবেন তৃণমূল নেতাদের কথা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুর, ২১ মার্চ মাগুরা, ২৮ মার্চ ফরিদপুর, ১৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও, ২৩ এপ্রিল বরগুনা, ২৯ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় সফর করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। যোগ দেবেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায়। সেখানে সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াসহ হামলার চিত্র তুলে ধরবেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকার আমলের আইনশৃঙ্খলার বিষয়গুলোও জনগণের সামনে আনবেন। ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী যে কয়েকটি জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন প্রতিটিতেই সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়া জেলা সফরকালে বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পুনরায় সমর্থন চেয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চান তিনি। দলীয় সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কয়েকটি জেলায় জনসভা করেছেন সেসব জেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও তৃণমূলের অবস্থা কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে। নেতা-কর্মীরাও নির্বাচন সামনে রেখে কাজ করছেন নতুন উদ্যমে। যে কারণে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের উদ্যমী করতে কর্মসূচি চাঙ্গা রাখতে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা, বিরোধী দলের অপপ্রচারের জবাব দিতে তৃণমূলে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। সূত্রমতে, সাংগঠনিকভাবে দুর্বল জেলা-উপজেলাগুলো আগে সফর করবেন শেখ হাসিনা। এখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং একটি করে জনসভায় বক্তৃতা করবেন তিনি। সেসব জনসভায় বক্তৃতার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরা হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণার পাশাপাশি এ সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করা ও কিছু জেলায় স্থবির সাংগঠনিক কাজে গতি আনার নির্দেশ দেবেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নেত্রীর সারা দেশে সফরে বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে তিনি কয়েকটি জেলায় সফর করেছেন, জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছেন। সরকারের গৃহীত উন্নয়নচিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা চেয়েছেন তিনি। এজন্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। চলতি মাস ও আগামী মাসে ছয়টি জেলায় সফর করার কথা রয়েছে। সেগুলোয়ও একইভাবে নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন।

সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা নেতাদের গণভবনে ডেকে তাদের কথা শুনেছেন। ওইসব বৈঠকে স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরেছেন স্থানীয় নেতারা। বৈঠক থেকে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে বেশকিছু জেলা নেতার সঙ্গে বৈঠক হয়নি। বাদ পড়া জেলাগুলোকে এবার প্রাধান্য দিয়ে গণভবনে জেলা নেতাদের ধারাবাহিক বৈঠকও শুরু হচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে। মূলত তৃণমূলকে চাঙ্গা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলকে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আনতে দুই বছর আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow