Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ মার্চ, ২০১৭ ২২:৩০
র-আমেরিকা জোটে হারতে হয় আওয়ামী লীগকে : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত ইস্যুতে বিএনপির দ্বৈত-নীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। অথচ আজ বিএনপি ভারত বিরোধিতার কথা বলছে।

ভারতবিরোধী কথা বিএনপির মুখে মানায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের গ্যাস বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ একসঙ্গে কাজ করেছে। এই জোটের কারণেই ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারতে হয়েছিল। রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউটে গতকাল দুপুরে যুব মহিলা লীগের দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  উদ্বোধনী ভাষণে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সে সময় তারা গ্যাস কিনতে চেয়েছিল। আমি দেইনি বরং বলেছিলাম, আমার দেশের সম্পদ আগে দেশের মানুষের কাজে লাগবে, ৫০ বছরের রিজার্ভ থাকবে। তারপর আমরা ভেবে দেখব বিক্রি করব কি করব না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন শুনি খুব ভারতবিরোধী কথা! আমার প্রশ্ন, ২০০১ সালের নির্বাচনে যখন আমেরিকান কোম্পানি আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে চাইল ভারতের কাছে, তখন এই গ্যাস বিক্রির মুচলেখা দিয়েছিল কে?’ শেখ হাসিনা বলেন, এখন ভারতবিরোধী কথা বললেও আমেরিকান অ্যাম্বেসির লোক, ‘র’-এর লোকেরা তো হাওয়া ভবনে বসেই থাকত এবং সেই নির্বাচনটায় সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগকে হারাবে আর এখান থেকে গ্যাস নেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ল্যান্ড বাউন্ডারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি করে রেখে যান। আইন পাস করে রেখে যান। সংসদে সেই আইন পাস হয়। কই বিএনপি, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া যারাই ক্ষমতায় ছিলেন, কেউ তো কখনো একবারের জন্যও সীমানার দাবি করেননি। সীমানা নির্দিষ্ট করার পদক্ষেপও নেননি। করার সাহসও পাননি আমি বলব। দালালি এমনভাবে ছিল যে, ওরা সে কথা উচ্চারণই করেননি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসীমার সেই আইনও জাতির পিতা করে রেখে যান। জিয়া, খালেদা, এরশাদ কোনো সরকার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সমুদ্রসীমা নিয়ে কোনো আলোচনা, কোনো মামলা বা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে? নেয়নি। কেন নেয়নি? যদি এতই দেশপ্রেমিক হবে দেশের এ সমস্যার কথা তোলেনি কেন?

গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটা প্রশ্ন রাখি— ’৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলো। ক্ষমতায় এসে ভারত গেল। ভারত গিয়ে উনি বেশ ঘুরেটুরে এলো। যখন এখানে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন, গঙ্গার পানির কী হলো? গঙ্গার পানির কথা, ওহ হো, ওটা বলতে তো আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভারতবিরোধী কথা বললেন, তার আগে উনি গঙ্গার পানি আদায়ের জন্য ফারাক্কা পর্যন্ত লংমার্চও করেছিলেন। আন্দোলন করেছিলেন কিন্তু ভারত গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলেই গেলেন। দালালিটা করে কে? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই আমরা কিন্তু গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। বিএনপি নেতাদের রাজপথে নামার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা নাকি ভয়ে রাস্তায় নামতেই পারে না। তো, এতই যদি ভয় থাকে, তাহলে রাজনীতি কেন? অবশ্য এটা তাদের অভ্যাস। যুব মহিলা লীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা ক্ষমতায় আছি। কই, বিএনপির ওই রকম নেতা-কর্মী বা মহিলাদের ওপর নির্যাতন করি না। করলে তো করতে পারি, করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করি না। নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সফলতার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, সমাজের অর্ধেক অংশ নারী। এই নারীদের পেছনে রেখে একটা সমাজ গড়ে উঠতে পারে না।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

up-arrow