Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৫
দেশের নিরাপত্তায় সাবমেরিন যুগ
বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশের নিরাপত্তায় শুরু হলো আধুনিক সাবমেরিন যুগ। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌবাহিনীর বহরে সংযোজিত হলো আধুনিক দুটি সাবমেরিন ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’। এর মধ্য দিয়ে জলে, স্থলে ও আকাশে কার্যক্রম পরিচালনার  ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জন করল নৌবাহিনী। এই দুটি সাবমেরিন  নৌ-বাহিনীর বহরে সংযুক্ত হওয়ার ফলে বঙ্গোপসাগরে পাওয়া বিপুল সমুদ্র সীমায় মূল্যবান সমুদ্র সম্পদ আহরণ, সমুদ্রসীমা পাহারা এবং নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের নৌ ঘাঁটি বানৌজা ঈসা খানে গতকাল সাবমেরিন দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে কমিশনিং করেন ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, চীন হতে সংগ্রহ করা সাবমেরিন দুটি কনভেনশনাল ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার এবং প্রস্থ ৭.৬ মিটার। সাবমেরিন দুটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭ নটিক্যাল মাইল এবং ডিসপ্লেসমেন্ট ১৬০৯ টন। টর্পেডো ও মাইন অস্ত্রে সজ্জিত এই সাবমেরিন দুটি শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিনে আক্রমণ করতে সক্ষম। এ ছাড়া, এ সাবমেরিনগুলো শত্রু জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ বিশেষ যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বানৌজা বঙ্গবন্ধু, নেভাল এভিয়েশনের দুটি হেলিকপ্টার ও দুটি এমপিএ এবং দক্ষ নৌ কমান্ডো  দল সোয়াডসের অংশগ্রহণে নৌবাহিনীর ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জনের পরিচিতিমূলক একটি প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেন। সাবমেরিন দুটি নৌবহরে অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশের বিশাল জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ব্লকসমূহে অধিকতর নিরাপত্তাসহ ‘ব্লু-ইকোনমি’ উন্নয়নে এই সাবমেরিন দুটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরের মধ্যে নৌবাহিনীর বহরে আরও ১১টি যুদ্ধজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি চীন ও একটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হচ্ছে। বাকি ছয়টি নৌ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow