Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৭
সব দল অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে : সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, কুমিল্লার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আপাতত সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই। তবে যদি আমাদের কাছে প্রয়োজন মনে হয়— তাহলে সেনাবাহিনী আসবে।

এ জন্য তাদের (সেনাবাহিনী) প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টায় তিনি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের চট্টগ্রাম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি জানান, নির্বাচনে যারা কাজ করবেন তাদের সঙ্গে মিটিং করা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নিরাপদে যাতে সবাই ভোট দিতে পারেন এবং ভোট দিয়ে ফিরে যেতে পারেন— সেই ব্যবস্থা করা হবে। সিইসি আরও বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনও সব দলের অংশগ্রহণে হবে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি। ‘মাগুরা স্টাইলে’ নির্বাচন আর হবে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য আমরা অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছি। সব দলের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রও তৈরি করছি।

কুমিল্লা নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে যাতে কোনো রকমের কারচুপি না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট যারা আছেন— তাদের তত্পর রাখা হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আমরা সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছি। সামনে যে নির্বাচন পরিচালনা করার পরিকল্পনা সেগুলোও আশা করি ভালোভাবে হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে— জানিয়ে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যেসব ইস্যু নিয়ে আমাদের আলোচনা দরকার, সেগুলো নিয়ে কথা বলতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কীভাবে রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ হবে— এসব বিষয় নিয়ে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব। রাজনৈতিক দলগুলোর যদি পরামর্শ থাকে, তারা সেগুলো দিলে আমরা ওয়েলকাম জানাব।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামশুল আরেফিনের সভাপতিত্বে স্মার্ট কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক আবদুল বাতেন। উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. অনুপম সেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

স্মার্ট কার্ড পেলেন ছয় বিশিষ্টজন : গতকাল সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনসহ চট্টগ্রামের ছয় বিশিষ্টজনের হাতে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের হাতে প্রথমে স্মার্ট কার্ড তুলে দেন সিইসি। এ ছাড়া একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম এবং মহিলা সমিতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারা বেগম পেয়েছেন স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র।

ইঁয়ান লই আঁই কিত্তাম : স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের কাছে আপত্তি জানান সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, কার্ডে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তাতে ব্যবহূত আমার ছবি ২০ বছর আগের। স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুরাহাইল্যা ফটো উগগা লাগাই দিয়ে। ফটত মইধ্যে আঁর দাড়ি হডে? ইবা ত আঁর হন কাজত ন আইব। ইঁয়ান লই আঁই কিত্তাম? (ছোটবেলার ছবি একটা লাগিয়ে দিয়েছে। ছবিতে আমার দাড়ি কোথায়? এটা তো আমার কোনো কাজে আসবে না। এই কার্ড নিয়ে আমি কি করব?)’। এরপর মহিউদ্দিন চৌধুরীর কার্ড দ্রুত সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম।

up-arrow