Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৯
দুদক নখ-দন্তহীন বাঘ নয়
মোস্তফা কাজল
দুদক নখ-দন্তহীন বাঘ নয়
ইকবাল মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, নখ ও দন্তহীন বাঘের অপবাদ দূর করেছে দুদক। গত এক বছরে অর্থ আত্মসাৎ, জাল-জালিয়াতির বিভিন্ন মামলায় জনপ্রতিনিধি, সেবা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীসহ ৪৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে দুদক।

কার্যক্রম ও তত্পরতায় ভিতর থেকে বদলে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা দুদক। তিনি বলেন, তিনটি ধাপে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দুদক সামনের দিকে এগোতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে— প্রেষণে দুদকে এক ব্যাটালিয়ন আর্মড পুলিশ নিয়োগ, হাজতখানা নির্মাণ ও প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট সেলের কার্যক্রম চালু করা। গতকাল দুদক প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, দুর্নীতি মামলায় কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত হলে তার সম্পদও সম্পৃক্ত থাকবে। তখন সেই সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। আর সেই দায়িত্ব কমিশনের। প্রস্তাবিত খসড়ায় দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পদ অনেক ক্ষেত্রে (মৃত্যুজনিত কারণে) মামলা চলমান অবস্থায় বেহাত হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেখা যায়, মামলা করার সময় তার যে সম্পদ ছিল সেটি মামলার পর অন্য হাতে চলে গেছে। এমতাবস্থায় দুদকের মামলা থেকে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজরা। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এত দিন দুদকের নিজস্ব কোনো হাজতখানা ছিল না। আমরা হাজতখানা নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পত্র দিয়েছি। গতকাল হাজতখানা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আমরা শিগগিরই ১০ জনের ধারণক্ষমতার হাজতখানা নির্মাণ করব। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ কারিগরি সহযোগিতা দেবে। এ ছাড়া প্রেষণে আর্মড পুলিশের কর্ম পরিচালনার অনুমতি পেয়েছি। আমরা ৫০ সদস্যর আর্মড পুলিশ সদস্য পাচ্ছি। এখন থেকে দুদকের মামলায় আসামি ধরতে আর বেগ পেতে হবে না। দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, গত বছরের ১৪ মার্চ বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে। গত এক বছরে দুদক তাদের দায়ের করা মামলায় সাজার হার ২৫ ভাগ থেকে ৫২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এটা দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের পরিশ্রমের কারণে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া যে কোনো ধরনের অভিযান ও গ্রেফতার কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এক ব্যাটালিয়ন আর্মড পুলিশ প্রেষণে প্রেরণের অনুমতি পেয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধারে প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট সেল করবে দুদক। দুদকের এক বছর মেয়াদি (২০১৭) কৌশলগত কর্মপরিকল্পনায় এসব কর্মপরিকল্পনা গঠনের উদ্যোগ  নেওয়া হয়েছে। অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধারে কমিশন সেল স্থাপনের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গত এক বছরে সারা দেশে দুদকের দায়ের করা মামলার সংখ্যা ৩৪০। একই সময়ে পূর্বতন মামলাসহ অভিযোগপত্র দিয়েছে ৫২৫টির। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পূর্বতন মামলাসহ চলমান মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে ৪৮২টি মামলার। তিনি আরও বলেন, অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ দেশে যেরকম আহরণ হচ্ছে, তেমনিভাবে বিদেশেও হরহামেশায় পাচার হচ্ছে। দুর্নীতির অর্থ উদ্ধারে এটা আশানুরূপ একটি ফলাফল নিশ্চত করবে এ সেল। তিনি বলেন, এই ইউনিট গঠনে দুটি বিষয়ে কমিশন গুরুত্ব দেবে। সেল গঠনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে। কেননা বিভিন্ন মানি লন্ডারিং বা অবৈধ সম্পদ মামলায় আসামির সম্পদ পুলিশ বা জেলা প্রশাসকের জিম্মায় রাখা হয়। কিন্তু অবৈধ সম্পদের মামলা চলাকালে তথা আদালত থেকে রায় না হওয়া পর্যন্ত এটা দুদকের সম্পদ। তাই অবৈধ সম্পদ দুদকের হেফাজতে রাখার এখতিয়ার রয়েছে। মানি লন্ডারিং আইন ২০১৫ সংশোধনীতে সম্পদ উদ্ধার/রক্ষণাবেক্ষণ দুদকের হেফাজতে রাখার বিধান রয়েছে। দুর্নীতির মামলা চলাকালে বিভিন্ন সম্পদ পুলিশের কাছে রাখায় তার অধিকাংশ নষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে দুদকের ইমেজে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। এটা আমরা রোধ করতে চাই।

up-arrow