Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:১৭
সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, গ্রেনেড উদ্ধার
ছায়ানীড় ঘিরে রেখেছে পুলিশ
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ফের জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলেছে। একটি আস্তানা থেকে অস্ত্র-বোমাসহ কথিত দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ছায়ানীড় নামের আরেকটি আস্তানায় গত রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। রাত সাড়ে ৯টায় পুলিশ ওই ভবনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ও গুলি ছোড়ে। এর পর থেকে পুলিশ দফায় দফায় এগোতে চাইলেও জঙ্গিদের গুলির মুখে সামনে যেতে পারেনি। পুলিশ ভবনটি ঘিরে রেখেছে। সূত্র জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত যে এই জঙ্গিরা জেএমবির সদস্য। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করা বোমা ও গ্রেনেডগুলো নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছিলেন। চট্টগ্রামের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ মুহূর্তে অন্ধকারের মুখে অভিযান চালানো সম্ভব নয়। ভোরের আলোর উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ভবনে জঙ্গিরা ছাড়াও আরও নিরীহ সাতটি পরিবার রয়েছে। তাদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই সুযোগ বুঝে অভিযান পরিচালনা করা হবে। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূর এ আলম মিনা বলেন, ‘দুটি আস্তানার মধ্যে ছায়ানীড় ভবন নামের জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আস্তানার ভেতর প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে বলে ধারণা করছি। কৌশলগত কারণে এখন পুরো ভবন ঘিরে রাখা হয়েছে। অভিযান চালানোর জন্য অন্যান্য সংস্থার সাহায্য চাওয়া হয়েছে। সুবিধামতো সময়ে অভিযান চালানো হবে। এর আগে আরেক আস্তানা ‘‘সাধন কুটির’’ থেকে জিহাদি বই, ল্যাপটপ, গ্রেনেড ও বোমা উদ্ধার করা হয়। ওই আস্তানা থেকে নারীসহ দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা নিজেদের দম্পতি বলে পরিচয় দিয়েছেন। ” পুলিশ জানায়, সীতাকুণ্ডের লামার বাজার এলাকার সাধন কুটিরের মালিকের সচেতনতার কারণে গ্রেফতার হন জঙ্গি জসিম উদ্দিন ও আকলিমা আকতার। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধান মেলে চৌধুরীপাড়ার ‘ছায়ানীড়’ ভবনের দ্বিতীয় তলার জঙ্গি আস্তানার। ওই ভবনে অভিযান চালাতে গিয়েই বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। ভবনে ঢুকতে চাইলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়তে থাকে জঙ্গিরা। এরপর পিছু হটে পুলিশ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পুরো ভবন ঘিরে ফেলা হয়। জঙ্গিরা পুলিশের ওপর থেমে থেমে গুলিবর্ষণও করছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও আমাদের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, ছায়ানীড়ে আরও কয়েকটি পরিবার ভাড়া থাকে। বর্তমানে আস্তানার ভেতর কয়েকজন জঙ্গি রয়েছে। ওই ভবনে অভিযান শুরুর পর পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি হ্যান্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। ছায়ানীড় ভবনে অভিযানের ফলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জঙ্গি আস্তানার ভেতর আটকে পড়েছেন ওই ভবনে বসবাসকারী অন্যরা। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া উত্সুক জনতাও ভিড় করছে। তবে পুলিশ সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিয়ে পুরো বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। ঘটনাস্থলে রয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শামসুল আরেফিন, এসপি নূর এ আলম মিনা, ইউএনও ইকবাল হাসান প্রমুখ।

যেভাবে সন্ধান মেলে : সীতাকুণ্ডের লামার বাজারের আমিরাবাদের সুভাষ দাশের মালিকানাধীন দ্বিতল ভবনটির নাম সাধন কুটির। এ মাসের শুরুতে সাধন কুটিরের নিচতলা ভাড়া নেন তিন পুরুষ ও এক নারী। মঙ্গলবার ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণের জন্য তাদের কাছে পরিচয়পত্র চান সুভাষের স্ত্রী। ওই রাতেই পালিয়ে যান দুই পুরুষ। গতকাল সকালে জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে কথিত দম্পতি জসিম উদ্দিন ও আকলিমা আকতার একটি পরিচয়পত্র দেন। তাদের দেওয়া পরিচয়পত্র অনলাইনে যাচাই করলে তা ভুয়া হিসেবে ধরা পড়ে। ভুয়া পরিচয়পত্রের বিষয়ে জানতে ঘরে ঢুকলে বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখতে পান বাড়িওয়ালা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন ও আকলিমা আকতার বাড়ির মালিকের ওপর হামলা চালান। পরে প্রতিবেশীরা এসে দুজনকে আটক করেন। তারপর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কলেজ রোড এলাকার ছায়ানীড় ভবনের সন্ধান দেন।

সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউর রহমান বলেন, সাধন কুটিরে অভিযানের সময় আকলিমা কোমরে হাত দিয়ে বোমা ফাটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় তা বিস্ফোরিত হয়নি। জঙ্গি দম্পতির বাসা থেকে প্রচুর বোমা তৈরির সরঞ্জাম, গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বাড়ির মালিক সুভাষ দাশ বলেন, ‘বাসা ভাড়া নেওয়ার পর থেকে তারা কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলতেন না। সব সময় দরজা বন্ধ রাখতেন। তাই তাদের ওপর সন্দেহ হয়। অনেকটা জোর করে তাদের ঘরে প্রবেশ করে কিছু সার্কিট দেখি। পরে এর মধ্য থেকে একটি সার্কিট নিয়ে আসি। এ সার্কিট একজন বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে দেখালে এটা টাইমার বলে জানান। ’

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুই জঙ্গিই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। তাদের দুজনের বাড়িই কক্সবাজারে। তাদের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। শিশুটি পুলিশ হেফাজতে আছে।

up-arrow