Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:১৭
বিতর্কের দিন শেষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের যাত্রা শুরু
গোলাম রাব্বানী
বিতর্কের দিন শেষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের যাত্রা শুরু
কে এম নূরুল হুদা

বিতর্কিত নির্বাচনের দিন শেষ। সুষ্ঠু নির্বাচনের যাত্রা শুরু হয়েছে।

কিছু ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন অতীতে হলেও দেশে অনেক ভালো নির্বাচনের দৃষ্টান্ত রয়েছে। এ মেয়াদে সুষ্ঠু ভোটের যাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নতুন নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার আগারগাঁয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সিইসি আগামী দিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব দলের অংশগ্রহণে তা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার জন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি। এ ক্ষেত্রে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিতেও কার্পণ্য নেই বলে উল্লেখ করেন সিইসি। প্রথম এক মাসের নিজেদের আন্তরিকতা ও সবার সহযোগিতা পেয়ে ভবিষ্যতে ভোটের জন্য আস্থা অর্জনেও আস্থাবাদী নূরুল হুদা। ১৫ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে তাদের এক মাস পার করতে চলেছে, যাদের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন ইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ও তার শরিকরা ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ উল্লেখ করে ‘সন্দেহ’ প্রকাশ করছে। এমন আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই পৌরসভা ও উপজেলার কিছু নির্বাচন করেছে নতুন কমিশন। সামনে গাইবান্ধা-১, সুনামগঞ্জ-২ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভোট রয়েছে। ইতিমধ্যে সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করেছেন, প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত দলীয় উপজেলা নির্বাচন ও বেশ কিছু উপনির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণভাবে করেছে নতুন নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজও চলছে। এ অবস্থায় প্রথম এক মাসের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশার কথা বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে তুলে ধরেন সিইসি খান মো. নূরুল হুদা। সার্চ কমিটিতে দল প্রস্তাবিত নাম থেকে পাঁচ সদস্যের ইসি গঠিত হলেও কারও প্রতি বিশেষ দুর্বলতা দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সব ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সিইসি। বাংলাদেশ প্রতিদিন : নতুন ইসির এক মাস হতে চলল। মানুষের আস্থা তৈরির কথা বলেছিলেন। স্বল্প সময়ে কেমন মনে হচ্ছে?

সিইসি : আমি আশাবাদী। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এখানে আন্তরিকতা ও পরিবেশের ঘাটতি নেই। সুতরাং এটা অর্জন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন : মানুষ বিতর্কিত নির্বাচন দেখতে চায় না। আগামী দিনে কেমন নির্বাচন হবে? সিইসি : (আগামীতে বিতর্কিত কোনো নির্বাচন হবে বলে) আমার মনে হয় না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে অংশ নিতে হবে। আর তা না করলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এককভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা কঠিন। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ করা, না করা, তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার ওপর যতটা না নির্ভর করে, রাজনৈতিক ইস্যু তার চেয়ে ভিন্ন বলে আমি মনে করি। তারা যদি যোগদান করে তাহলে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে। নির্বাচন ভালো হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন : আপনারা নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য একটি রোডম্যাপের কথা বলছেন। সিইসি : নির্বাচন কাছাকাছি এলে, আরও কিছুদিন পর আমরা চেষ্টা করব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করার। রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণ কী ধরনের হবে এসব বিষয় নিয়েও আমরা আলোচনা করব। বাংলাদেশ প্রতিদিন : একাদশ সংসদ নির্বাচনের তারিখ কখন হতে পারে? সিইসি : সাংবিধানিকভাবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অথবা ২০১৯ সালের জানুয়ারির শুরুতে (ভোট হবে)। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করব। তবে আগে কোনো ইস্যু থাকলেও দলগুলোর সঙ্গে বসা হতে পারে। এখন আলোচনার কোনো ইস্যু নেই। আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করব; করে যাচ্ছি। তবে নির্বাচনের সময় তাদের কী কী চাওয়া তা আমরা পুরোপুরি পূরণ করব। বাংলাদেশ প্রতিদিন : আওয়ামী লীগ-বিএনপি অংশ নিচ্ছে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দলগুলোর ইসির প্রতি আস্থা তৈরির ক্ষেত্র কি এ ভোট থেকে হতে পারে? সিইসি : অবশ্যই আশা করি। এ নির্বাচনকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আশা করি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন : দলের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে এই প্রথম কমিশনের সদস্যরা নিয়োগ পেয়েছেন।

up-arrow