Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২২:৫৮
ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শিশু তানিশার
নিজস্ব প্রতিবেদক, সীতাকুণ্ড থেকে ফিরে

সীতাকুণ্ড এভারগ্রিন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা সুলতানা তানিশা (৮)। বুধবার বেলা ৩টায় প্রাইভেট পড়তে যায় ‘ছায়ানীড়’ ভবনের ভাড়াটিয়া ও কথাকলি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক মর্জিনা ইয়াসমিনের কাছে।

প্রাইভেট পড়তে গিয়েই জঙ্গি আস্তানায় আটকা পড়ে শিশু তানিশা। ওই ভবনে অন্যদের সঙ্গে তানিশাও আটকে থাকে ১৯ ঘণ্টা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’ নামের দুর্ধর্ষ অভিযানে নিরাপদে বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসে এই শিশু। বন্দীদশা থেকে মুক্ত হলেও তানিশার চেহারায় ছিল আতঙ্কের চাপ। ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’ সদস্যরা তাকে মুক্ত করে তুলে দেন দাদা নিজাম উদ্দিনের কোলে। দাদার কোলে করেই হাসপাতালের পথে রওনা হয় তানিশা। এ সময় তানিশা বলে, ‘আপুর কাছে পড়তে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বড় একটি শব্দ হওয়ার পর আপুসহ সবাই কান্না শুরু করে। তাদের সঙ্গে আমিও কেঁদেছি। আগে কখনো আম্মুকে ছাড়া থাকিনি। তাই সারা রাত আম্মু-আব্বুর জন্য কেঁদেছি। রাতে আমি খুব ভয় পেয়েছি। আংকেলরা আমাকে মুক্ত করেছে। ’ দুই ভাই-বোনের মধ্যে তানিশা বড়। বুধবার বিকালে জঙ্গি আস্তানায় শিশুসন্তান আটকে থাকার পর থেকেই উৎকণ্ঠায় ছিলেন তার বাবা-মা। নিজের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে তানিশার মা বিবি জোহরা (৩০) বলেন, ‘প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই আটকে পড়ে তানিশা। শুরুতে কয়েক ঘণ্টা কথা বলতে পারলেও পরে সব মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমাদের পরিবারের সবাই কান্নাকাটি শুরু করে। তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিই। তবে আমি সারা রাত নামাজ পড়ে ওর সুস্থতা কামনা করেছি। রোজা মানত করেছি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow