Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০১
স্বামীর হাতে খুন
নিরাপত্তা চেয়েও বাঁচতে পারলেন না আরিফা
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরাপত্তা চেয়েও বাঁচতে পারলেন না আরিফা

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুন্নেছা আরিফা। পুলিশকে জানিয়েছিলেন, নিজের জীবন নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

তার সাবেক স্বামী রবিন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। অফিসে যাওয়ার পথে তাকে হত্যা করা হবে বলে তিনি হুমকি পাচ্ছেন। পুলিশ আরিফার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রাণ নিয়ে যে আশঙ্কা করেছিলেন আরিফা, ঠিক সেভাবেই তিনি খুনের শিকার হলেন। সাতসকালে অফিসে যাওয়ার পথে তার সেই সাবেক স্বামী রবিনের হাতেই খুন হন তিনি। শুধু তাই নয়, খুন করেই রবিন তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে আরিফার কয়েকজন আত্মীয়র নাম উল্লেখ করে তাদেরও হুমকি দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘বলেছিলাম বাঁচতে দে, জীবন নষ্ট করিস না... এখন বুঝো?? অনিক, তানজিনা, শিল্পী, রিয়াদ, পলাশ, মাসুদ— দেখা হবে মনে রাখিস। ’ পুলিশ আরিফার ঘাতক রবিনকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গতকাল রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকার সেন্ট্রাল রোডের রাস্তার ওপর রবিন যখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরিফাকে ক্ষতবিক্ষত করছিল, আশপাশে দাঁড়িয়ে থেকে তা অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু অসহায় আরিফাকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে যাননি। রাস্তার ওপর রক্তাক্ত আরিফা লুটিয়ে পড়লে ঘাতক রবিন পালিয়ে যান। আরিফাকে প্রথমে সেন্ট্রাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরে তিনি মারা যান। আরিফার পরিবারের অভিযোগ, রবিনের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে আরিফা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি। আরিফার ভাই বুলবুলের অভিযোগ, জিডির তদন্তও করেনি পুলিশ। তদন্ত করে যদি রবিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত, তবে তার বোনকে এভাবে খুনের শিকার হতে হতো না। আরিফার গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদরে। তিনি এক বছর ধরে যমুনা ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে আরিফা সিটি ব্যাংকেও চাকরি করেছেন। সেন্ট্রাল রোডে তিনি তার মায়ের সঙ্গে থাকতেন। আরিফার পারিবারিক সূত্র জানায়, ইডেন কলেজে পড়ার সময় রবিন নামে এক ছেলের সঙ্গে পরিচয় হয় আরিফার। একই এলাকায় গ্রামের বাড়ি হওয়ায় দুজন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। ২০১৩ সালে তারা নিজেরাই বিয়ে করেন। একপর্যায়ে ব্যাংকে চাকরি হয় আরিফার। কিন্তু বিয়ের দুই মাস যেতে না যেতেই আরিফার ওপর নির্যাতন শুরু করেন রবিন। বিয়ের পর রবিন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। আর আরিফার ওপর নির্যাতন দিন দিন বাড়তে থাকে। গত ডিসেম্বরে রবিনকে তালাক দেন আরিফা। এর পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে পড়েন রবিন। আরিফাকে প্রায়ই পথরোধ করে শাসাতেন। সব সময় রাস্তায় ওত পেতে থাকতেন। বাসার সিঁড়ির নিচেও অপেক্ষায় থাকতেন আরিফাকে ধরার জন্য। নিহতের ভাই আল আমিন বুলবুল জানান, আরিফাকে পথে পথে হুমকি দিতেন রবিন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আরিফা কলাবাগান থানায় একটি লিখিত অভিযোগও (জিডি) করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। তিনি বলেন, সকাল সোয়া ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হন আরিফা। তিনি সেন্ট্রাল রোডের ১৩ নম্বর ওয়েস্টিন স্ট্রিট বাসার সামনে পৌঁছামাত্র তার ওপর হামলা করেন রবিন। স্থানীয়রা দেখেছেন।

পরে তারাই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. জেসমিন নাহার জানান, ‘আরিফাকে জরুরি বিভাগে আনার পর আমরা নিজেরাই অবাক হই। এই রোগী এতক্ষণ বেঁচে আছেন কীভাবে? আরিফার হাত-পা, গাল ও গলার ডান পাশে বেশ কয়েকটি কোপের আঘাত রয়েছে। হাত-পায়ের আঘাত বড় না হলেও গলার আঘাতটি বড়। এতে শ্বাসনালি ও রক্তনালি কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। ’

পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আরিফা খুন হওয়ার স্থানটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আরিফা ও রবিন কিছু মালামাল নিয়ে বাসায় ঢুকছেন ও বের হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিবাহবিচ্ছেদের পর তাদের মধ্যে ফের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সিসি ক্যামেরা দেখে এমনটিই মনে হচ্ছে। বাসার সিঁড়ির সামনেই রবিন তাকে হত্যা করেছেন। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রবিনকে ধরতে অভিযান চলছে। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow