Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০২
শিশু দুরন্ত হত্যা
লাশের পাশে শাড়ি কামিজ স্যান্ডেল কার?
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের বৈকণ্ঠপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী কৃষক শহীদুল ইসলামের ছেলে দুরন্ত (৭)-এর লাশের পাশে পাওয়া গেছে শাড়ি, কামিজ ও স্যান্ডেল। প্রশ্ন উঠেছে এসব কার? পুলিশ ধারণা করছে, এ প্রশ্নের উত্তরের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় জড়িয়ে থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, দুরন্ত গত ৯ মার্চ বিকালে নিখোঁজ হয়। পরদিন ভোরে বাড়ির পেছনে একটি বাঁশঝাড়ে গলায় কাপড় পেঁচানো অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। এসঙ্গে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া  যায় শাড়ি, কামিজ ও স্যান্ডেল। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এক খণ্ড জমির জন্য অবুঝ শিশুকে হত্যা করেছে পাশের জমির মালিক নাছির হোসেন ও তার স্বজনরা। কেননা দুরন্তের লাশের পাশে শাড়ি, কামিজ ও স্যান্ডেল পাওয়া গেছে, যার সঙ্গে নাছিরের ভাগ্নে ইউসুফ আহম্মেদের স্ত্রী লিপি, ইউসুফের মা চায়না বেগম এবং তাদের সহযোগী শুকুর আলীর ব্যবহূত সামগ্রীর মিল রয়েছে। এদিকে শিশু দুরন্ত হত্যায় তার বাবা শহীদুল বাদী হয়ে ঘিওর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আসামিরা হলেন— নাছির হোসেন, তার বোন চায়না বেগম, ভাগ্নে ইউসুফ আহম্মেদ, নাছিরের ভাইয়ের স্ত্রী লাভলি বেগম ও ভায়রা আনোয়ার হোসেন। দুরন্তর বাবা শহীদুল ইসলাম জানান, তারা তিন ভাই। বড় ঠাণ্ডু, মেজো মজিদ এবং তিনি ছোট। বাবা মৃত হায়াত আলী। বড় ভাই ঠাণ্ডু জমিজমা বিক্রি করে দিতেন বলে বাবা বেঁচে থাকতে বছর আটেক আগে বসতভিটার ৫ শতাংশ জমি আলাদাভাবে মজিদ ও শহীদুলের নামে লিখে দেন। কিন্তু এর মধ্যেই বছর সাতেক আগে ঠাণ্ডু ওই ৫ শতাংশ জমি থেকে আড়াই শতাংশ জমি পাশের জমির মালিক নাছিরের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে এ নিয়ে গ্রামে শালিস হয়। শালিসে ওই আড়াই শতাংশের দাম ২৫ হাজার টাকা তাদের ফিরিয়ে দিতে বলা হয়। শহীদুলরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও নাছির রাজি হয়নি। পরে নাছির বাড়ি বানানোর সময় ওই আড়াই শতাংশ জমিতে অবস্থিত শহীদুলদের একটি টিনের ঘর ও গাছপালা সরিয়ে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু শহীদুলরা তাতে রাজি হননি। বছরখানেক আগে এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়ায় শহীদুলকে বেদম মারধর করে নাছিরের ভাগ্নে ইউসুফ। ওই ঘটনায় শহীদুল ঘিওর থানায় অভিযোগও করেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত মামলা তুলে নেন তিনি। এর পরও ইউসুফ হুমকি দেন, শহীদুলকে নির্বংশ করে ওই জমির দখল নেওয়া হবে। কথামতো তারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করছেন শহীদুল। শহীদুল জানান, দুরন্তর লাশের গলায় পেঁচানো ছিল মেয়েদের একটি সুতির জামা। পাশেই পড়ে ছিল একটি সুতির শাড়ি আর এক জোড়া বার্মিজ স্যান্ডেল। মেয়েদের সুতি জামার মতো একটি জামা ইউসুফের স্ত্রী লিপিকে, ওই শাড়ির মতো একটি শাড়ি ইউসুফের মা চায়না বেগমকে এবং স্যান্ডেলটির মতো একটি স্যান্ডেল বাঁশবাগানের পাশের বাড়ির শুকুর আলীকে পরতে দেখেছেন তারা।

জানা গেছে, এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি আনোয়ার হোসেন ও চায়না বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে পলি বেগম ও শুকুর আলীকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন লাশের সঙ্গে পাওয়া শাড়িটি হাফেজ উদ্দিনের স্ত্রী জাবেদা বেগমের এবং মেয়েদের জামাটি হচ্ছে তার পুত্রবধূ সুমি আক্তারের। লাশের পাশে শাড়ি, মেয়েদের জামা ও স্যান্ডেল পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে এসআই সুনিল বলেন, ‘এগুলো বড় ধরনের ক্লু। ’ তবে তদন্তের স্বার্থে আর কোনো তথ্য দিতে তিনি রাজি হননি।

ঘিওর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শিশু হত্যার মামলা হওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow