Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০৩
কোনো বাধা পেরোনোই আমাদের কঠিন নয়
------- রেহমান সোবহান
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশবরেণ্য প্রবীণ অর্থনীতিবিদ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, কোনো বাধা পেরোনোই আমাদের জন্য কঠিন নয়। আমরা ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উঠে এসেছি।

সব মিলিয়ে আমাদের হাতে এখন ১০ বছর সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। গতকাল রাজধানীর লেকসোর হোটেলে সিপিডি আয়োজিত এক সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

রেহমান সোবহান বলেন, এটা মনে রাখতে হবে আমরা এলডিসি থেকে বেরিয়ে তখনই সুবিধা আদায় করতে পারব যখন আমরা দরকষাকষিতে এগিয়ে থাকব। এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসার আগে আমাদের হাতে যে সময় রয়েছে সেই সময়ের মধ্যে আমাদের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। কারণ আমাদের রপ্তানি দু-একটি পণ্যের মধ্যে আটকে রয়েছে।

এ জন্য বেসরকারি খাতের ব্যর্থতাও রয়েছে। শুধু গার্মেন্ট শিল্পে উৎপাদন রাতারাতি চারগুণ বেড়ে যাবে, আমি সেটি মনে করি না। তাই আমাদের নতুন বাজার খুঁজে বের করার পাশাপাশি নতুন পণ্য রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করতে হবে। কৃষি খাতেও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এমনকি চায়নাও বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলেছে। তাই আমাদের মানসম্পন্ন শিক্ষার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও মানব উন্নয়ন সূচকে সক্ষমতা তৈরি করতে পেরেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় সূচক, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে উন্নতি করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, আমাদের পণ্য ও রপ্তানির বাজার বহুমুখীকরণের প্রতি জোর দিতে হবে। নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞানের প্রসার বাড়াতে হবে, উদ্ভাবনী মেধাস্বত্ব অধিকারের বিষয়েও কাজ করতে হবে। আরেক প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তিনটি বড় সূচকের মধ্যে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দুটিতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার সূচকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মালদ্বীপ, ভানুয়াতুর মতো দেশ সক্ষমতা অর্জন করলেও তারা এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় না। বাংলাদেশও এলডিসি থেকে বেরিয়ে এলে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। কিন্তু  আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। বিশেষ করে এলডিসির বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সুবিধা পেতে হলে দরকষাকষি করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভারত এলডিসি থেকে বেরিয়ে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়েছে। ফলে এর মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের দেশ থেকে ২০-৩০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, যে দেশের জনসংখ্যা বেশি, জমির সংকট রয়েছে তাদের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে এগোনো অনেক কঠিন। অবশ্য এর সুবিধাও রয়েছে। নিজেদের দেশেরই বড় বাজার রয়েছে। সেই সঙ্গে সস্তা শ্রমের ভিত্তিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ রয়েছে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে জাতিসংঘের কমিটিতে যে রিভিউ হবে তাতে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অবস্থান থেকে সেখানে যেতে পারবে। তিনি বলেন, হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২৪ সালে একটা শক্তিশালী অবস্থান থেকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। তবে এটার মধ্যে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাংলাদেশ যে বাজার সুবিধা পায় সেগুলো ২০২৭-এর পর আর থাকবে না। যেসব বৈদেশিক সহায়তা পায় সেগুলোর শর্তও কঠিন হতে থাকবে। এ জন্য আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাজার এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ করতে হবে। বৈদেশিক সাহায্যে বেশি সুদ হার বেড়ে যাবে। তাই এখন থেকেই  বৈদেশিক সহায়তার ব্যবহার আরও দক্ষতার সঙ্গে করতে হবে। আমাদের বর্তমান অর্থনীতির কাঠামোকে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করে একটি উন্নততর কাঠামোতে যেতে হবে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ এমন একটা অবস্থায় থাকবে যেখানে একই সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াসহ এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। এটা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। কিন্তু এ জন্য একটা মসৃণ কৌশল নিতে হবে। যেখানে সরকার, ব্যক্তি খাত ও সুশীল সমাজ সবারই একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow