Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৪
সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানা
চারজন আত্মীয়, দুজন মিরপুরের নিখোঁজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডের দুই জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেফতার দুজন এবং নিহত চারজনের মধ্যে দুজন পরস্পরের আত্মীয়। নিহত বাকি দুজন মিরপুর থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই যুবক।

গ্রেফতার দুই জঙ্গিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে এ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুর এ আলম মিনা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি লামার বাজারের সাধন কুটির থেকে গ্রেফতার জসিমের বোন ছায়ানীড় অভিযানে নিহত হয়েছেন। তার নাম জোবাইদা। একই অভিযানে জোবাইদার স্বামী কামাল উদ্দিনও নিহত হয়েছেন। প্রেমতলা অভিযানে নিহত বাকি দুজন ঢাকার মিরপুর থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই যুবক বলে ধারণা করছি। এদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ টেস্ট করা হবে। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ’ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের লামার বাজারের সাধন কুটির এবং প্রেমতলার ছায়ানীড় ভবনে ছয় জঙ্গি ছিল। এদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয় জঙ্গি দম্পতি জসিম উদ্দিন ও আরজিনা আকতারকে। গ্রেফতার জসিমের বোন ছায়ানীড় ভবনে নিহত নারী জোবাইদা। একই অভিযানে নিহত হন জোবায়দার স্বামী কামাল উদ্দিন। গ্রেফতার দুজন নিজেদের জসিম ও আরজিনা দাবি করলেও এটি তাদের সাংগঠনিক নাম বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাদের আসল নাম জহিরুল ইসলাম ও রাজিয়া সুলতানা। তাদের বাড়ি পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি গ্রামে। তবে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি সূত্র জানায়, গ্রেফতার আরজিনা এবং নিহত জোবাইদা দুই বোন। জসিম ও কামাল পরস্পর ভায়রা। পুলিশ সুপার নুর এ আলম মিনা বলেন, ‘যা তথ্য পেয়েছি সেটি যে একেবারে সঠিক তা বলা যাচ্ছে না। বিষয়গুলো জানতে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ’

দুই জঙ্গি আস্তানার ঘটনায় চার মামলা : সীতাকুণ্ডের দুই জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারটি মামলা করেছে। মামলায় লামার বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার জঙ্গি জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী আরজিনা আকতারসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। শুক্রবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা চারটি করে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুর এ আলম মিনা বলেন, দুটি জঙ্গি আস্তানা সন্ধানের ঘটনায় চারটি মামলা করা হয়। সন্ত্রাস দমন, হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের ধারায় মামলাগুলো করা হয়। প্রতিটি মামলায়ই পুলিশ বাদী। দুই ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। তাই প্রতিটি মামলায় জসিম ও তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। ’

পাঁচজনের লাশ মর্গে : ছায়ানীড় ভবনের জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার জঙ্গিদের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের লাশ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার লাশগুলোর মধ্যে শিশু ছাড়া সবার লাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। শুধু নারী ও একজন পুরুষের চেহারা কিছুটা বোঝা যাচ্ছে। বাকি দুজনের দেহের টুকরোগুলো পাওয়া গেছে। এগুলোর ডিএনএ টেস্ট করা হবে।

১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন : সীতাকুণ্ডের লামার বাজার এলাকার সাধন কুটির থেকে গ্রেফতার জঙ্গি দম্পতি জসিম উদ্দিন ও আরজিনা আকতারের ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। গতকাল বিকেলে রিমান্ড আবেদন করে তাদের চট্টগ্রাম আদালতে পাঠিয়েছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামিদের নিয়ে পুলিশ আদালতে পৌঁছায়নি। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুর এ আলম মিনা বলেন, ‘জসিম ও আরজিনাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পেয়েছি। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তাই তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ’ সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান বলেন, ‘একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জসিম ও আরজিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জন্য ১৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ’

up-arrow