Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৫
শিশুদের সঙ্গে অন্যরকম দিন শেখ রেহানার
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশুদের সঙ্গে অন্যরকম দিন শেখ রেহানার

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে শিশুদের সঙ্গে অন্যরকম দিন কাটালেন জাতির জনকের ছোটকন্যা শেখ রেহানা। বাবার জন্মদিনে শিশুদের সঙ্গে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তিনি।

শিশুরাও বঙ্গবন্ধুকন্যাকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। গতকাল দিনভর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শিশু-কিশোরদের নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। শিশুদের কাছে বঙ্গবন্ধুর শৈশবকাল, রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রামের কথা তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শেখ রেহানা তার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে আগত বাচ্চাদের সঙ্গে বসে বাবার সঙ্গে তার বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন।

শেখ রেহানা বাচ্চাদের বলেন, আমি যখন তোমাদের মতো ছোট ছিলাম, আমার বাবা বেশির ভাগ সময় জেলেই থাকতেন, দেশের জন্য লড়ার কারণে। তিনি বলেন, বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য তার হয়নি। বেশির ভাগ একাই যেতেন, না হয় তার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা তাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। বঙ্গবন্ধু বাসায় থাকলে শেখ রেহানা বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার বায়না ধরতেন।

তাই বঙ্গবন্ধু অফিস থেকে ফেরার সময় রেহানাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন। তিনি বলেন, ‘এ সময় ঈদের আনন্দের মতো আনন্দ হতো। ’

ধানমন্ডি ৩২ এর বাড়িতে তাদের জীবনের বিভিন্ন ঘটনাও বাচ্চাদের বলেন শেখ রেহানা। বয়স যখন ৩-৪ তখন তারা এই বাড়িতে এসে ওঠেন। বাড়ির উঠানে বাস্কেটবল খেলতেন, বাবা মুক্ত থাকলে বাসায় থাকতেন আর তখন পরিবারের সবাই মিলে ব্যাডমিন্টন খেলতেন। বিভিন্ন রকমের ফুলে ভরে থাকত বাসার বাগান, বারান্দা। সকালের খবরের কাগজ পড়ে স্কুলে যাওয়ার আগে ফুল কুড়িয়ে মালা বানাতেন। তিনি বলেন, ‘বাবা সকালে পুরো ধানমন্ডিতে হাঁটতেন, আমি আর ভাইয়েরা শুধু ৩২ নম্বরেই তার সঙ্গে হাঁটতাম, কিন্তু বোঝাতাম আমরাও পুরোটা হেঁটেছি। উনাকে তো আমরা সব সময় কাছে পেতাম না, তাই যখনই তিনি বাসায় থাকতেন, বাচ্চারা সবাই তার সঙ্গে খেলত, তার কারাগারে থাকার গল্প শুনত, তার হাতে ভাত খেত। ’ তিনি বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেন তারা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনেছে কিনা। তখন বাচ্চারা সবাই শেখ রেহানার সঙ্গে উচ্চারণ করে, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ’

বঙ্গবন্ধু কোথায় জন্মেছিলেন, তার বাবা-মার নাম কি?— শেখ রেহানা এ প্রশ্নগুলো করলে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয় বাচ্চারা। বাবা কেমন শাসন করতেন, একজন শিশুর এমন প্রশ্নে শেখ রেহানা বলেন, ‘মারধর তো দূরের কথা কখনো বকাও দিতেন না। শুধু এমনভাবে তাকাতেন যে আমরা বুঝে ফেলতাম, কোনো ভুল করে ফেলছি। ’ শেখ রেহানা বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশুদের অনেক ভালোবাসতেন। তিনি হেসে বলেন, বাবার চেয়ে মা বেশি শাসন করতেন।

তাদের পড়াশোনায় বঙ্গবন্ধুর ছিল কড়া নজর, সবার পড়ালেখার খোঁজখবর রাখতেন তিনি। তিনি যখনই সুযোগ পেতেন, ছেলেমেয়েদের বাংলা-ইংরেজি লেখার দক্ষতা, অংকের দক্ষতার পরীক্ষা নিতেন। তখন শেখ রেহানা ও তার ভাইবোনেরা খুব ভয়ে থাকতেন। বাবা যখনই বাসায় আসতেন, যত রাতই হোক, তিনি নিজের হাতে শেখ রেহানাকে খাইয়ে দিতেন। ছোটবেলায় শেখ রেহানা খেতে চাইতেন না, ঘুমের ভান করে পড়ে থাকতেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু  সব সময় বুঝতে পারতেন যে, শেখ রেহানা ঘুমের ভান করছেন। শেখ রেহানা বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে অন্য বাচ্চারা যখন বাবার সঙ্গে মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটার গল্প করত, তখন আমার অনেক মন খারাপ হতো। একবার ঈদের সময় বাবা বাড়িতে ছিলেন, তখন তাকে আমি জোর করে নিউ মার্কেটে নিয়ে যাই। ’ রেহানা বলেন, এখনকার মতো শপিং মল তখন ছিল না, নিউ মার্কেটই ছিল কেনাকাটার সবচেয়ে বড় জায়গা। বঙ্গবন্ধু নিউ মার্কেটে নিয়ে যান আর রেহানাকে একটি জামা ও আইসক্রিম কিনে দেন। সেদিন সন্ধ্যায় তারা সব ভাইবোন খুশিতে আত্মহারা ছিলেন।

 

up-arrow