Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২০
আশকোনায় আটক যুবকের মৃত্যু
হামলাকারী ভাঙ্গার জুয়েল
নিজস্ব প্রতিবেদক
আশকোনায় আটক যুবকের মৃত্যু
জুয়েল রানা

রাজধানীর আশকোনায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পর র‍্যাবের হাতে আটক আবু হানিফ মৃধা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। র‍্যাবের আইন ও

গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, শুক্রবার বিকালে আশকোনা থেকেই তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছিল।

এরপরই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মারা যান। এরপর তার লাশ ওই হাসপাতালেই ছিল। গতকাল বিকালে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তবে শুক্রবার আত্মঘাতী হামলার পর কাউকে আটকের কথা জানায়নি র‍্যাব। গতকাল ঢামেক মর্গে লাশ আসার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। সন্ধ্যার আগেই লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এখন তা মর্গে মরচ্যুয়ারিতে রয়েছে। ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। র‍্যাব বলছে, হানিফের গ্রামের বাড়ি বরগুনার আমতলীতে। তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

নিহত যুবক জুয়েল রানা : রাজধানীর আশকোনায় র‍্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় নিহত যুবকই জুয়েল রানা ওরফে অলিফ (৩২)। গত শুক্রবার রাতে ফরিদপুর ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহা আদমপুরের শেখ বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রবেশ এবং জুয়েলের পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে গতকাল বিকাল ৩টার দিকে জুয়েলের বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের স্থানীয় পাখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেওয়া হয়। জুয়েলের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুয়েল রানার বাবার নাম আলমগীর হোসেন। মায়ের নাম জোহরা পারভীন। আলমগীর-জোহরা পারভীন দম্পতির তিন ছেলের মধ্যে সবার বড় জুয়েল রানা। গত ১০ বছর আগে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করলেও সে প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে ঢাকা জেলা দোহার জয়পাড়ার লাবণ্য আক্তার নামের আরেকজনকে বিয়ে করে। এই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ঢাকার মতিঝিল আইডিয়েল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে জুয়েল। আগে দোহারে একজন দন্ত চিকিৎসকের কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে সে নিজেই চেম্বার খুলেছিল। জুয়েলের বাবা এক বেসরকারি কোম্পানির গাড়ি চালক। জুয়েলের চাচা শেখ মুরাদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা কোথায় ছিলাম জানি না। তবে আমাদের সঙ্গে তারা ভালো ব্যবহারই করেছে। আমরা জুয়েলের ব্যাপারে সব সত্য কথাই বলেছি। তিনি আরও বলেন, জুয়েল গত দুই বছর ধরে বাড়ি আসে না।

তবে রমিজ খাঁ নামের জুয়েলের এক প্রতিবেশী বলেন, ছোট বেলাতেই বখে যাওয়ার কারণে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া হয়েছে। জুয়েল আমাদের এলাকারই ভোটার। সে তো মাঝে মধ্যেই বাড়ি আসত। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাঈদ মিয়াকে কয়েকদফা মুঠোফোনে চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আগমনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছে। তবে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নাই। আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানি না।

সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় নিহত তিনজনের বাড়ি বান্দরবানে : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রেমতলার জঙ্গি আস্তানা ছায়ানীড় নামের বাড়িতে নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। এ ছাড়া সাধন কুটিরে গ্রেফতার ব্যক্তির বাড়িও একই এলাকায়। নিহতরা হলেন নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন, তার স্ত্রী জুবাইরা ইয়াসমিন, তাদের শিশু সন্তান এবং জুবাইরা ইয়াসমিনের ভাই জহিরুল হক জসিম। জুবাইরা ইয়াসমিন ও জসিমের বাড়ি বাইশারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যৌথ খামারপাড়ায়। তারা সেখানে বসবাসকারী নুরুল আলম ও জান্নাত আরার সন্তান। জুবাইরা ইয়াসমিনের স্বামী কামাল হোসেনের বাড়িও যৌথ খামারপাড়ায়। জুবাইরা ইয়াসমিনের মা জান্নাত আরা জানান, তার আট ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের কোনো হদিস নেই। স্বামী কামাল হোসেন জুবাইরা ইয়াসমিনকে নিয়ে যান এবং কিছু দিন পর ছেলে জহিরুল হকও তাদের সঙ্গে চলে যায়। জুবাইরার একটি ছেলে হলে সন্তানের দেখাশোনার কথা বলে তার আরেক মেয়ে মনজিয়ারা পারভিনকে (১৬) চট্টগ্রামে নিয়ে যান। আট মাস ধরে তাদের কোনো খবর পান না বলেও জানান তিনি। জান্নাত আরা আরও জানান, কামাল ও জুবাইরা বেশ ধার্মিক ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে কক্সবাজারের রামুর মো. জসিম উদ্দিন পরিচয়ে প্রথমে প্রেমতলার ‘ছায়ানীড়’-এর নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় জঙ্গিরা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জসিম উদ্দিন পরিচয়ে প্রেমতলা থেকে এক কিলোমিটার দূরে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা আমিরাবাদের ‘সাধন কুটির’-এর ফ্ল্যাটটিও ভাড়া নেওয়া হয়। সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রেমতলা ও আমিরাবাদের দুটি বাসা ভাড়া নিয়েছিল এই জঙ্গিরা। জুবাইরা ও জসিম আপন ভাই-বোন। আরও জানা গেছে, এই জঙ্গিরা ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর সদরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমির ভাণ্ডার রেলগেট এলাকার নুরুল আমিন মুন্সির পাকা ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকত। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাসা ছেড়ে চলে যায়। পরে তারা সীতাকুণ্ডের ওই বাড়ি ভাড়া নেয়। এ ব্যাপারে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ বলেন, শুক্রবার বিকালে পটিয়ায় বাড়ির মালিক নুরুল আমিনকে সীতাকুণ্ডে নিহতদের ছবি দেখালে তিনি তার বাড়িতে নিহতরা ছিল বলে শনাক্ত করেন। আরও জানা গেছে, ৭ মার্চ টঙ্গীতে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানকে প্রিজন ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার পরদিন কুমিল্লায় পুলিশের ওপর বোমা হামলা করে দুই জঙ্গি। যাত্রীবাহী বাসে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জঙ্গি জহির ওরফে জসিম (২৫) ও হাসানকে (২৪) আটক করা হয়। আটক হাসানের বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীর করালিয়ামুরা এলাকায়। তার বাবার নাম নুর হোসেন। এ ব্যাপারে বাইশারী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবু মুসা জানান, ‘সীতাকুণ্ডে নিহত বাইশারীর জুবাইরা ইয়াসমিন, তার স্বামী ও ভাইদের সঙ্গে কুমিল্লায় বাসে জঙ্গি হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হাসানের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। ’

ডাক্তার দেখানোর কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে যান জঙ্গি কামাল : ডাক্তার দেখানো আর স্ত্রীর বড় ভাইকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত রমজানে স্ত্রী, তার বড় ভাই জহিরুল ও শ্যালিকা মনজিয়ারা পারভিনকে নিয়ে যান জঙ্গি কামাল হোসেন। জুবাইরার মা জান্নাত বলেন, গত রমজানে চট্টগ্রামে ভালো চিকিৎসক দেখাবে বলে কামাল হোসেন অন্তঃসত্ত্বা জুবাইরাকে নিয়ে যান। কিছু দিন পর ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জুবাইরার বড় ভাই জহিরুল ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে নিয়ে যান। এর কিছু দিন পর জুবাইরার সন্তানকে দেখভাল করার জন্য শ্যালিকা মনজিয়ারা পারভিনকেও নিয়ে যান। জঙ্গি জুবাইরার বড় ভাই জিয়াবুল হক জানান, ‘কামাল খুব ধার্মিক ছিলেন। তবে বিয়ের কাবিননামায় তিনি বিশ্বাস করতেন না। তাই আমি জুবাইরা আর কামালের বিয়ে মেনে নিতে পারিনি। বিয়ের বিষয়ে লোকজন জিজ্ঞাসা করবে বিধায় কাবিননামা না করে মাগরিবের পরে আমার বোনকে নিয়ে যান। ’ বাইশারীর ইউপি চেয়ারম্যান আলম বলেন, ‘বাইশারীর করালিয়ামুরার হাসান, জহিরুল হক ও কামাল বন্ধু ছিলেন। তারা সারা দিন কাজকর্ম সেরে মাগরিবের পর হাসানের চালের দোকানে বৈঠকে বসতেন। ’ তিনি আরও বলেন, ‘কামাল ও তার স্ত্রী খুবই ধার্মিক ছিলেন।

 তারা যে জঙ্গি হয়ে যাবেন তা কখনো ভাবতে পারিনি। ’ বাইশারী পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা আবু মুসা বলেন, ‘চারজনের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে বলে কেউ কখনো থানায় অভিযোগ করেননি। এদের সঙ্গে আর কোনো পরিবার সম্পৃক্ত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow