Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • কেরানীগঞ্জে বাচ্চু হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন
  • ৩ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন
  • হালদা নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ
  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা
  • কাদেরের বক্তব্যে একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
  • কলারোয়া সীমান্তে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
  • বিএনপি নির্বাচনে না এলেও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে: কাদের
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২২
স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিচ্ছে ওষুধশিল্প
সাত বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সম্ভাবনা যাচ্ছে ১০৯ দেশে
নিজস্ব প্রতিবেদক

ওষুধশিল্প সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে। ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে এ শিল্প। এক সময়ের আমদানিকারক বাংলাদেশ এখন ওষুধের রপ্তানিকারক দেশের গৌরব অর্জন করেছে। এ দেশের উৎপাদিত ওষুধ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণসহ বিশ্বের ১০৯টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। পৃথিবীর এলডিসি (লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি) বা অনুন্নত ৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ওষুধশিল্পে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের ওষুধের কাঁচামালের ৩০ শতাংশ তৈরি হচ্ছে স্থানীয়ভাবে, বাকি প্রায় ৭০ শতাংশ আসছে বিদেশ থেকে। তবে দেশেই ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন করতে পারলে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার) ওষুধ রপ্তানি করা সম্ভব। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৫৭টি নিবন্ধনকৃত কোম্পানির মধ্যে ১৯৪টি ওষুধ উৎপাদন করছে। শীর্ষস্থানীয় ১০টি কোম্পানি মোট ওষুধের ৪৫ শতাংশ উৎপাদন করে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তথ্যানুসারে বিদেশ থেকে প্রযুক্তি ও উপাদান এনে এখানে তৈরি বা বাজারজাতকৃত সরকার অনুমোদিত জেনেরিক ওষুধের (এলোপ্যাথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক) সংখ্যা ১ হাজার ২০০টি। প্রায় ২৫ হাজার ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে এসব ওষুধ প্রস্তুত করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এলোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ওষুধের সংখ্যা ২০ হাজার ৫০০। বর্তমানে ২৬৮টি ইউনানি, ২০১টি আয়ুর্বেদীয়, ৯টি হারবাল, ৭৯টি হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো প্রতি বছর আনুমানিক ২০০ কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন করছে। মানুষের ওষুধের পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রের ওষুধ তৈরিতেও সক্ষমতা অর্জন করেছে এ সেক্টর। মানুষের প্রয়োজন এমন সব ধরনের ওষুধ এখন বাংলাদেশের কোনো না কোনো ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। দুরারোগ্য ক্যান্সার, এইডস-এইচআইভি, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হেপাটাইটিসসহ সব চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ তৈরি হচ্ছে দেশেই। সম্প্রতি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল ও উপাদান তৈরিরও উদ্যোগ নিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানিতে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। ওষুধ রপ্তানি হয় ৬ কোটি ৯২ লাখ মার্কিন ডলারের। ২০১০-১১ অর্থবছরে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫ কোটি ৯৮ লাখ মার্কিন ডলারের ওষুধ রপ্তানি হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় সাত কোটি ডলারের ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাত কোটি ২৬ লাখ ডলারের ওষুধ রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

আশার খবর হচ্ছে, রপ্তানি আয়ে বাংলাদেশ এখন শুধু পোশাকশিল্পের ওপরই নির্ভরশীল নয়, ওষুধশিল্প পরিপূরক হয়ে উঠছে। ১৯৯২ সালে ইরান, হংকং, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পেনিসিলিন তৈরির কাঁচামাল রপ্তানি করে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। পরবর্তী বছরে প্যারাসিটামল গ্রুপের নাপাসহ ১৮ আইটেমের ওষুধ রাশিয়ার বাজারে রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। ইউরোপ ও আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশের ওষুধের বাজার ধরতে পারলে ওষুধ রপ্তানি আয় ৪৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ওষুধ উৎপাদনের জন্য ডব্লিউটিও থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্তু মেধাস্বত্ব (পেটেন্ট) আইন মানার বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পেয়েছে। ওষুধশিল্পের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ধরা হচ্ছে কাঁচামাল উৎপাদন। এ কারণে ওষুধশিল্পের সম্ভাবনার সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিল না বাংলাদেশ। তবে সে দুয়ারও খুলে যাচ্ছে। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও ওষুধ বিক্রির পরিমাণ ছিল সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৪ সালে স্থানীয় বাজারে ওষুধ বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশে ওষুধের বাজার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার, যা ২০০৪ সালে ছিল ২ হাজার ৮৭৩ কোটি। ৪২টি কোম্পানির উৎপাদিত ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ইতালি, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সুইজারল্যান্ডসহ ১০৯টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। রাজধানীর মিটফোর্ড পাইকারি ওষুধের বাজারে বছরে বিক্রি হয় ২০০০ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি ওষুধ। মিটফোর্ড ব্যবসায়ীদের তথ্যানুযায়ী, চোরাচালানের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিদেশি ওষুধ আসছে দেশে। এ চোরাচালান ঠেকানো সম্ভব হলে ওষুধের বাজার চাহিদা আরও সম্প্রসারণ হবে। ওষুধ সমিতির তথ্যে দেখা গেছে, সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ওষুধের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ দোকানের সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক। মিটফোর্ড ছাড়াও দেশে আরও পাঁচটি বড় ওষুধের মার্কেট রয়েছে খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। ওষুধ উৎপাদন, বিপণন ও খুচরা বাজারজাতের সঙ্গে ১৫ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি সম্পৃক্ত। সম্প্রতি দেশি ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধের কার্যকর মৌলিক উপাদান উৎপাদনে প্রভূত উন্নতি করেছে। বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো যৌথ প্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ওষুধের কাঁচামাল তৈরিতে এগিয়ে আসছে। এ রকম ২১টি কোম্পানির আনুমানিক ৪১টির মতো ওষুধের কার্যকর মৌলিক উপাদান তৈরি ও বাজারজাত করছে বলে জানা গেছে। ওষুধশিল্পের কাঁচামালের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একটি ওষুধশিল্প পার্ক গড়ে তোলার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাউশিয়া ও লক্ষ্মীপুর মৌজায় ওষুধশিল্প পার্ক স্থাপন প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা পালন করবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow