Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২৪
রোহিঙ্গা নিয়ে জাতিসংঘের বিবৃতি আটকে গেল
প্রতিদিন ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনীর নিপীড়নের বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে সদস্য দেশের ভেটোতে আটকে গিয়েছে। মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ চীন নিরাপত্তা কাউন্সিলের অপর সদস্য রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে বিবৃতিটি আটকে দিয়েছে।

মার্কিন সময় অনুসারে শুক্রবার নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১৫ সদস্য দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর এ বিবৃতি দেওয়ার কথা ছিল। ব্রিটেনের প্রস্তাব অনুসারে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে নিরাপত্তা কাউন্সিলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর রয়টার্স। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যে চলা অভিযানে মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত এবং তারা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। মিয়ানমার সেনাদের এ ধরনের আচরণ মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সম্ভাব্য জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছিল জাতিসংঘের সংস্থাটি। এ কারণে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা ব্রিটেনের পক্ষ থেকে কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে জাতিসংঘের রাজনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক প্রধান জেফরি ফেল্টমেন রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিরাপত্তা কাউন্সিলকে অবহিত করেন। আলোচনার পর সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে নিয়েছিল নিরাপত্তা কাউন্সিল। বিবৃতির খসড়ায় মিয়ানমারের কিছু অংশে নতুন করে লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি দেশটির আক্রান্ত সব এলাকায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু বিবৃতিটি প্রকাশের ব্যাপারে বৈঠকে ঐকমত্য না হওয়ায় তা আর প্রকাশ করা হয়নি বলে সাংবাদিকদের জানান নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রফ্ট। সাধারণত এ ধরনের বিবৃতি দিতে হলে নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্যদের সবার সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। সূত্রের খবর, মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ চীন বৈঠকে বিবৃতির বিষয়ে আপত্তি জানায়। চীনকে সমর্থন দেয় রাশিয়া। এদিকে, মিয়ানমারে জরুরি ভিত্তিতে একটি আন্তর্জাতিক সত্যানুসন্ধান মিশন পাঠিয়ে দেশটির সেনারা রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণসহ যে অত্যাচার চালিয়েছে তা তদন্ত করার জন্য জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরুর পর প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা-ধর্ষণ গ্রেফতার করে বলে শরণার্থীরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow