Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০৭
কুমিল্লায় জয় চায় দুই দলই
জয়ের ধারাবাহিকতার লক্ষ্যে মাঠে আওয়ামী লীগ নেতারা
সিটি করপোরেশন নির্বাচন
নিজস্ব প্রতিবেদক ও কুমিল্লা প্রতিনিধি
জয়ের ধারাবাহিকতার লক্ষ্যে মাঠে আওয়ামী লীগ নেতারা

নারায়ণগঞ্জের জয়ের ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সে কারণে আইভীর মতো কুমিল্লায়ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার পক্ষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তারা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সর্বস্তরে সুষম উন্নয়নে ৩০ মার্চ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে সীমাকে বিজয়ী করতে ভোট প্রার্থনা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা। কুমিল্লা সিটিকে কীভাবে দেখতে চান তুলে ধরবেন সেসব পরিকল্পনা।

দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন দলের হাইকমান্ড। এজন্য অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে সর্বপ্রথম দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ডেকে কথা বলেছেন সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহারউদ্দিন বাহারের সঙ্গে। সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এরপর প্রেক্ষাপট পাল্টে যেতে শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই মাঠে রয়েছেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচনী টিমের সদস্যসচিব এনামুল হক শামীম। ২৭ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। মূল সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতারা। প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। গতকালও সকালে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে সঙ্গে নিয়ে দিনভর প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। গতকাল সকাল থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা নগরীর দক্ষিণের ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি ওয়ার্ড তিনটিতে তিনটি উঠান বৈঠকও করেন। ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করে নৌকার পক্ষে ভোট চান। তার সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনার টিম সমন্বয়ক এনামুল হক শামীম ও পরিকল্পনামন্ত্রীর মেয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের চেয়ারম্যান নাফিসা কামাল, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ওমর ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী আবদুস সবুর, আমিনুল ইসলাম আমিন, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, কৃষক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার চন্দ্র চন্দ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সরোয়ার হোসেন, আবু তাহের, আবদুল হাই বাবলু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাবিনা আক্তার শিউলীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় শত শত নেতা-কর্মী। নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টিম সমন্বয়ক কাজী জাফর উল্লাহ, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন প্রমুখ। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। গণসংযোগ করেন কেন্দ্রীয় নেতা অসীম কুমার উকিল, শামসুন্নাহার চাঁপা, সুজিত রায় নন্দী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গোলাম সরোয়ার কবির, ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা চালান কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পনিরুজ্জামান তরুণ। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সদস্য মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সবাই স্থানীয় নেতাদের নিয়ে নৌকার পক্ষে পৃথকভাবে গণসংযোগ করে উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া অন্যান্য ওয়ার্ডেও গণসংযোগ করে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় টিম। কেন্দ্রীয় যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আতাউর রহমান, আজহার উদ্দিন, মিজানুর রহমান মিজান, মোহাম্মদ ইসলাম, তারেক হাসান লিউ, জামাল উদ্দিন প্রমুখও গতকাল গণসংযোগ করেন। প্রচারণায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘সর্বস্তরে উন্নয়নের জন্য দরকার সরকারি দলের জনপ্রতিনিধি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারবেন নগরবাসী। অন্যদিকে অন্য দলের প্রার্থী নির্বাচিত হলে তারা বলবেন, সরকার বরাদ্দ দেয়নি। অথচ সরকারি বরাদ্দ নিজেরা লুটেপুটে খাবে।

উন্নয়ন করবে না। কাজেই কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। ’ প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধ। আর আওয়ামী লীগ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই পরাজিত করতে পারে। জয় আমাদের সুনিশ্চিত ইনশা আল্লাহ। ’

আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, ‘আমি নগরবাসীর সেবা করতে চাই। অতীতেও আমি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি ন্যায়নীতি ও সততার সঙ্গে। এখন নগরবাসীর সেবা করতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে সবার জন্য আমার দ্বার উন্মুক্ত থাকবে। কেউ কমিশন নিতে পারবে না। কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। আমার কাছে চাইতে হবে না। কোথায় কী করতে হবে তা আমার জানা আছে। একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নগরী গড়তে আপনাদের ভোট, দোয়া ও ভালোবাসা চাই। আমি আপনাদের মেয়ে। সেবা করতে চাই। এজন্য ৩০ মার্চ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করুন। কথা দিচ্ছি, জীবন দিয়ে হলেও আপনাদের পাশে থাকব। ’

এ সময় কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় টিম সমন্বয়ক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিলে উন্নয়ন হয়। নৌকায় ভোট দিলে মানুষ শান্তি পায়। নৌকায় ভোট দিলে বাংলাদেশ বিশ্বমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। ’

প্রচারণায় অংশ নিয়ে নাফিসা কামাল বলেন, ‘কুমিল্লার সন্তান হিসেবে ওয়াদা করতে পারি, নৌকার প্রার্থী সীমা বিজয়ী হলে সুন্দর একটি সিটি উপহার পাবেন। ’ তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই নারায়ণগঞ্জের পর কুমিল্লা সিটিতে একজন নারীকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। কুমিল্লাবাসীর কাছে আমার দাবি, উন্নয়নের স্বার্থে, নিজেদের স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সীমাকে বিজয়ী করুন। ’

up-arrow