Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১১
পুতিনই সেরা
প্রতিদিন ডেস্ক
পুতিনই সেরা

তিনি দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন। একটু দুপুরের দিকে প্রথম খাবার খান। ‘কটেজ চিজ’ নামে পনির থাকা চাই সকালের নাস্তায়। এ ছাড়া তিনি কোয়েলের ডিম ও ফলের রস খেতে পছন্দ করেন। দুপুরের দিকে তার অফিশিয়াল কাজ শুরু হয়। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি যে ক্ষমতাবান সেই সনদ কিন্তু দিয়েছে বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। সাময়িকীটিতে গত চার বছর ধরে তিনিই শীর্ষস্থানে। রাশিয়া আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ। কিন্তু অর্থনীতি ও সমর নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন অনেক এগিয়ে। তারপরেও মার্কিন বা চীনা প্রেসিডেন্টের চেয়ে তিনি বেশি ক্ষমতাবান। কিন্তু কেন এই প্রশ্নের উত্তর মেলানোর চেষ্টা করেছেন মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক ফরিদ জাকারিয়া। গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ফরিদ জাকারিয়ার ‘দ্য মোস্ট পাওয়ারফুল ম্যান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের তথ্যচিত্রে পুতিনের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে। এক ঘণ্টার তথ্যচিত্রটি সিএনএনে প্রচারিত হয়েছে। তাতেই দেখা গেছে তিনি ‘বস অব দ্য বসেস’। ২০০০ সালে প্রথম রুশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন পুতিন। এরপর আট বছর সেই দায়িত্ব পালন করেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় অর্থাৎ পরপর দুই বার প্রেসিডেন্ট থাকার পর আর সেই পদে কোনো ব্যক্তি থাকতে পারেন না। এই বাধ্যবাধকতায় তিনি ২০০৮ সালে শেষটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বাধ্যবাধকতা শেষে ২০১২ সাল থেকে আবার প্রেসিডেন্ট হন পুতিন। গত ১৭ বছর ধরে রাশিয়া শাসন করছেন দেশটির এক সময়ের গোয়েন্দা প্রধান পুতিন। পুতিন রাশিয়ায় ক্ষমতার এমন এক কাঠামো গড়ে তুলেছেন, যেখানে তিনিই সর্বেসর্বা। রুশ প্রেসিডেন্টের ঘোর সমালোচক দেশটির দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার গ্যারি ক্যাসপারভের ভাষ্য, রাশিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতার পুরো কাঠামোটি এক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল। আর তিনি পুতিন। পরিস্থিতি এমন যে পুতিনের মৃত্যুর পর কী হবে, কে ক্ষমতায় আসবেন, তা কেউ জানেন না। ফরিদ জাকারিয়ার মতে, পুতিনকে বোঝার জন্য রাশিয়াকে বুঝতে হবে।

৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর রাশিয়া অনেক চড়াই-উত্রাই দেখেছে। দেশটির জনগণ অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী। রাশিয়াকে স্থিতিশীলতার ধারায় নিয়ে আসার দৃঢ়প্রত্যয়ে বরিস ইয়েলিসনকে অনেকটা হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন পুতিন। এরপর সব ক্ষেত্রে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে তিনি। এরমধ্যে অর্থনীতিতে তলানিতে যাওয়া রাশিয়া পুনর্গঠন করছেন। এসেছেন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। জনগণের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। বিশ্বমঞ্চে রাশিয়া নামডাক ও সম্মান বেড়ে চলছে। রাশিয়ায় পুতিনের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এক রুশ সাংবাদিকের বরাত দিয়ে ফরিদ জাকারিয়া জানান, পুতিন এমন এক ব্যক্তি রাশিয়ানরা শুধু তাদের দেশের প্রেসিডেন্ট নন একই সঙ্গে আমেরিকারও প্রেসিডেন্ট। (কারণ রাশিয়ানরা ধারণা করেন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্টের হাতের পুতুল)। মার্কিন নির্বাচনী প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প অকপটে বলেছিলেন, বারাক ওবামার চেয়ে পুতিন অনেক বড় ও শক্তিমান নেতা। তিনি দারুণ করছেন। পুতিনের মতো শক্তিশালী নেতা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ফরিদ জাকারিয়ার মতে, পুতিন তার দেশ রাশিয়াকে বোঝেন। তিনি এই বিশ্বব্যবস্থাকেও বোঝেন। কীভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করতে হয়, তা জানেন পুতিন। কারা তার জন্য হুমকি সেটাও জানেন। কীভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ বা হুমকি ভেস্তে দেওয়া যাবে গোয়েন্দা হিসেবে তা ভালোভাবেই মুখস্থ। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রতিষ্ঠানের ভঙ্গুরতা ও জাতিসংঘের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও জানেন। সবশেষে ফরিদ জাকারিয়া বলছেন, পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুব ভালোভাবেই বোঝেন। কিন্তু তার চেয়ে বড় প্রশ্ন  মার্কিনিরা ও তাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি সত্যিই তাকে (পুতিন) বোঝেন?

এই পাতার আরো খবর
up-arrow