Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০১
তারেকের শাশুড়ির বিরুদ্ধে পরোয়ানা, স্ত্রীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার দুটি আদালত এ আদেশ দেয়। বিচারিক আদালতে জোবায়দাকে আট সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ। আর সম্পদের হিসাব দাখিল না করার মামলায় তারেকের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত। সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা বাতিলে জোবায়দার আবেদনে দেওয়া রুল খারিজ করে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চ রায় দিয়েছে। শুনানি শেষে ১০ জানুয়ারি থেকে মামলাটি হাই কোর্টে রায়ের অপেক্ষায় ছিল। এ মামলায় জোবায়দা রহমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, কায়সার কামাল ও রাগিব রউফ চৌধুরী। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ আদালত রুল খারিজ করে জোবায়দা রহমানকে আট সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। এখন বিচারিক আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলবে। অন্যদিকে জোবায়দার আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, জোবায়দা রহমান যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, তাই কোনো বাধাবিঘ্ন ছাড়াই যাতে তিনি বিচারিক আদালতে গিয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য আদালত তাকে আট সপ্তাহ সময় দিয়েছে। এটি আত্মসমর্পণের নির্দেশ নয়। ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ এ মামলার রুল শুনানিতে বিব্রত বোধ করে। পরে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাই কোর্টের এই বেঞ্চে পাঠান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ২০০৮ সালে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তারা সেখানেই রয়েছেন। আইনজীবী কায়সার কামাল জানান, ২০০৭ সালের ২৯ মে সম্পদের হিসাববিবরণী চেয়ে তারেক রহমানকে নোটিস দেয় দুদক। ওই বছরের ৭ জুন তারেক রহমান সম্পদের হিসাববিবরণী দুদকে জমা দেন। সম্পদের হিসাববিবরণী তদন্ত করতে গিয়ে তারেকের স্ত্রী জোবায়দার নামে ৩৫ লাখ টাকার দুটি এফডিআরের সন্ধান পায় দুদক। দুদকের দাবি, এই ৩৫ লাখ টাকা তারেকের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের অংশ। এ কারণে তারেক, তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ও স্ত্রী জোবায়দার নামে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় মামলা করে দুদক। পরে জোবায়দা রহমান আদালতকে জানান, ওই ৩৫ লাখ টাকা তিনি তার মায়ের কাছ থেকে ২০০৫ সালে উপহার বাবদ পেয়েছেন এবং সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলেও বিষয়টি প্রদর্শিত হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে ২০০৮ সালে মামলা বাতিল চেয়ে তিনি আবেদন করলে ওই বছরের ৮ এপ্রিল হাই কোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে। এদিকে সম্পদের হিসাববিবরণী মামলায় দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ইকবাল মান্দ বানুকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছে। দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম সাংবাদিকদের জানান, এ মামলায় ইকবাল মান্দ বানু কখনো আদালতে আসেননি, আত্মসমর্পণ করে জামিনও নেননি। তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৪ মে দিন ধার্য হয়েছে। সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু সাবেক নৌবাহিনীপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের স্ত্রী। তাদের মেয়ে জোবায়দার সঙ্গে ১৯৯৩ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিয়ে হয়। সম্পদের হিসাববিবরণীর এ মামলা বাতিল চেয়ে ইকবাল মান্দ বানুর করা রিট আবেদন ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে হাই কোর্ট। সম্পদের বিবরণী চেয়ে নোটিস জারির পর নির্দিষ্ট সময়ে কমিশনে হিসাব না দেওয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দুদক ঢাকার রমনা থানায় ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে এ মামলা করে। এর আগে ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য ইকবাল মান্দ বানুকে নোটিস দেয় দুদক। এরপর হাই কোর্টে রিট আবেদন করে স্থগিতাদেশ পান তারেকের শাশুড়ি। দুদক আপিলে গেলে হাই কোর্টের ওই আদেশ স্থগিত হয়। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেয় দুদক। ওই বছরের ১৯ জানুয়ারি দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

up-arrow