Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:১১
নানামুখী তদন্তে বাকশক্তি হারালেন সেই মূসা বিন শমশের
নিজস্ব প্রতিবেদক
নানামুখী তদন্তে বাকশক্তি হারালেন সেই মূসা বিন শমশের

একের পর এক নানামুখী তদন্তে বাকশক্তি হারিয়েছেন ‘বিতর্কিত’ ব্যবসায়ী মূসা বিন শমশের। কথিত ধনকুবের মূসা বিন শমশেরের সম্পদের খোঁজে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা।

সর্বপ্রথম তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তের চিন্তাভাবনা করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও (এনবিআর) তার সম্পদের খোঁজে তদন্ত করছে।

একের পর এক তদন্তে দিশেহারা মূসা বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। এ নিয়ে তিনি ‘বাকশক্তি লোপ পাওয়ায়’ এবং বিভিন্ন অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিন মাসের সময় চেয়েছেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে গতকাল তার হাজির হওয়ার কথা থাকলেও একদিন আগে অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খানের কাছে মূসা বিন শমশের এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, তিনি বর্তমানে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। তার বাকশক্তিও লোপ পাওয়ায় সঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে তাকে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ কারণে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিন মাস সময় চেয়েছেন মূসা বিন শমশের। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, তার মুখের একপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তিনি ভালোভাবে কথা বলতে পারছেন না। সে কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ পর্যুদস্ত। ডাক্তার তাকে বিশ্রাম নিতে বলেছেন। ২১ মার্চ শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মূসা বিন শমশেরের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল  রেঞ্জ  রোভার গাড়ি আটক করেন। শুল্ক ফাঁকি ও মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত তদন্তের সূত্রে গতকাল মূসা বিন শমসেরের শুল্ক  গোয়েন্দা দফতরে হাজির হওয়ার কথা ছিল। এর একদিন আগেই তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে সময় চেয়ে চিঠি পাঠান।

একটি দৈনিকে সুইস ব্যাংকে মূসা বিন শমশেরের ৫১ হাজার কোটি টাকা থাকার খবর ছাপা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারের জন্য পাঁচ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। অবশ্য দুদক অনুসন্ধান শুরুর পর গত বছর মূসা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাংলাদেশে বসে  কেউ এত অর্থ উপার্জন করতে পারবে না। এ ছাড়া তার গাজীপুর ও সাভারে বিশাল সম্পত্তি থাকার কথা বলা হলেও এর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তিনি থাকেন বনানীর একটি ভাড়া বাসায়। গুলশানে একটু জমি থাকলেও তা ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়ে তার বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ : বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী মূসা বিন শমশেরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সদস্য এম সানাউল হক। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে মূসার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না। জানা গেছে, সম্প্রতি মূসা বিন শমশেরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া মূসার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে তদন্ত সংস্থার কাছে আরও তথ্য-উপাত্ত এসেছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই তদন্ত সংস্থা মূসার বিরুদ্ধে তদন্তে নামবে। মূসা বিন শমশের সত্তর ও আশির দশকে আন্তর্জাতিকভাবে অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম শুরুর পর বিভিন্ন পর্যায় থেকে তার বিচারের দাবি ওঠে।

কে এই মূসা : ফরিদপুর শহরের সাধারণ একটি পরিবার  থেকে রহস্যময়ভাবে ধনকুবের হয়ে ওঠা মূসাকে তার এলাকার মানুষ ‘নুলা মূসা’ নামেই  চেনে। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর বিভিন্ন পর্যায় থেকে তার যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবি ওঠে। মূসার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানের কথা বললেও তাতে কোনো অগ্রগতির খবর দিতে পারছিল না ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এই প্রেক্ষাপটে অভিযোগ ওঠে, সরকারি দলের এক প্রভাবশালী নেতার বেয়াই হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছেন জাঁকজমকপূর্ণ চলাফেরার জন্য বিদেশি সংবাদমাধ্যমে ‘বাংলাদেশের প্রিন্স’ পরিচয় পাওয়া মূসা বিন শমশের। এখন তার নাম প্রিন্স ড. মূসা বিন শমশের হলেও সার্টিফিকেটে নাম এডিএম মূসা। মূসা বিন শমশের কিংবা এডিএম মূসা কোনো নামেই ফরিদপুরের মানুষ তাকে  চেনে না। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বাকপটু মূসা ইংরেজি ও উর্দু কথোপকথনেও পারদর্শী। একে পুঁজি করেই তিনি একাত্তরে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। জনশক্তি রফতানির ব্যবসা শুরু করা মূসার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রথমে ছিল শাহবাজ ইন্টারন্যাশনাল। পরে নাম হয় ড্যাটকো। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মূসার অস্ত্র ব্যবসার কথাই আগে বলা হয়। জাঁকালো জীবন যাপন, সোনার জুতার জন্য তাকে বিদেশি গণমাধ্যমে বলা হয় ‘প্রিন্স অব বাংলাদেশ’।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow