Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ মে, ২০১৭ ২৩:১১
রিকশায় চড়ে হাওরের মানুষের কথা শুনলেন শেখ হাসিনা
প্রতিদিন ডেস্ক
রিকশায় চড়ে হাওরের মানুষের কথা শুনলেন শেখ হাসিনা
নেত্রকোনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে গিয়ে গতকাল রিকশায় চড়ে প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে রিকশায় চড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ওই এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে গিয়ে রিকশায় ওঠেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর রিকশায় চড়ার এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এর আগে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ পরিদর্শন শেষে সৌধ থেকে খানিকটা দূরে নিজেদের নতুন   বাড়িতে ভ্যানে চড়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পরে তাকে ভ্যানে ঘোরানো চালক ইমাম শেখকে বিমান বাহিনীতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। শেখ হাসিনা ত্রাণ বিতরণ শেষে খালিয়াজুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে যান। সেখান থেকে তিনি রিকশায় চড়ে ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত যান। এতে ১০ মিনিটের মতো সময় লাগে। দুপুরের তপ্ত রোদের মধ্যে হুড খোলা রিকশায় চড়ার পথে তিনি অনেকের সঙ্গে কথাও বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে পুরো দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি খালিয়াজুড়ী কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি জনগণের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ১ হাজার ২০০ মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২০ জনের প্রত্যেককে ৩৮ কেজি চাল এবং এক হাজার টাকা করে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রিকশার চালকের নাম টিপু সুলতান। তার বাড়ি নেত্রকোনার দক্ষিণ বিশুহুরা এলাকায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার নাম পরিচয় জানতে চান। পড়াশোনা কত দূর পর্যন্ত করেছেন তা-ও তিনি খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রীকে টিপু সুলতান জানান, তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাবা-মা এবং পাঁচ ভাই-বোন নিয়ে তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১২ জন। প্রধানমন্ত্রী টিপু সুলতানকে তিন হাজার টাকা উপহার দেন। রিকশা চালক টিপু সুলতান যে রিকশাটি চালিয়েছেন, সেটিসহ তিনটি রিকশা জেলা প্রশাসন এনেছিল। এর একটি রিকশায় টিপু সুলতান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে খালিয়াজুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে ডাকবাংলো পর্যন্ত যান। রিকশাটি টিপু সুলতানকে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এ বছর মার্চ মাসের আগাম বৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আগাম বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক ফসলহানি হয়। মৎস্য সম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ে। ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্পিড বোটে করে নগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাওর এলাকা বল্লভপুর পরিদর্শন করেন। ওই সব এলাকা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত ১২০টি পরিবারের মধ্যে তার নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। বেলা সোয়া ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে নেত্রকোনা ছেড়ে আসেন।

ফসলহারা কৃষকদের সহায়তা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে। একজন মানুষও এ দেশে না খেয়ে মরবে না। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাংক ঋণ আদায় স্থগিত ও সুদ মওকুফ করা হয়েছে। কৃষকরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করা হবে। গতকাল নেত্রকোনার খালিয়াজুরী কলেজ মাঠে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তিনি ত্রাণসামগ্রীও বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ দেওয়া হবে। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের কেবল ধানের ওপর নির্ভর না করে সবজি চাষ, মাছ চাষ ও হাঁস-মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, হাওরের ফসল রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নদীনালা খনন করা হবে। কেউ যাতে গৃহহীন না থাকে, সে জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ এলাকায় একেকটা বিশাল হাওর। এ হাওরের সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে কোনো অভাব থাকবে না। গোপালগঞ্জে বাঁওড় রয়েছে। ঢাকা থেকে সেখানে যেতে এক সময় ২৪ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হতো। এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় আসা-যাওয়া করা যায়। এই হাওরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাটসহ যা করা দরকার সব করা হবে। কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন না ঘটলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, পঁচাত্তরে ঘাতকরা কেবল জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, নিষ্পাপ শিশু রাসেলসহ পরিবারের সবাইকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিল। আমরা দুই বোন বিদেশে অবস্থান করায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই। তিনি বলেন, ঘাতকরা এখনো থেমে নেই। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুব সমাজসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা। তাই তাদের শাসনামলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। আমরা দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়নে যখন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি, তখন বোমাবাজি ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তারা দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন না করে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছে। দেশের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ হাওরাঞ্চলের বাবরকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করে দেশে সন্ত্রাস কায়েম করা হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি স্বপন জোয়ারদারসহ ১২ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তিনি বলেন, নৌকা উন্নয়নের প্রতীক। দেশের উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখতে আগামীতেও নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি এখন আন্দোলনের গতি হারিয়ে শুধু ঢাকায় বসে ড্রয়িং রুমের রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই তারা রাজপথ ছেড়ে মিডিয়ার সামনে বড় বড় কথা বলেন। আর বিবৃতি প্রদান করেন।  

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও  স্থানীয় এমপি রেবেকা মমিন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow