Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২০ মে, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ মে, ২০১৭ ০০:০৯
সাফাতের উপদেষ্টা ছিল নাঈম তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাফাতের উপদেষ্টা ছিল নাঈম তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা

বনানীর অভিজাত হোটেল দ্য রেইনট্রিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের উপদেষ্টা ছিল গ্রেফতার নাঈম আশরাফ ওরফে হালিম। নাঈমের পরামর্শমতোই চলত সাফাত।

তবে সাফাতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে থেকেই তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিল নাঈম। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ছয় মাস ধরে সাফাতের রিমোট কন্ট্রোল ছিল নাঈমের কাছে। রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক  চাঞ্চল্যকর      তথ্য দিচ্ছে নাঈম। তবে তদন্তের স্বার্থে সবকিছুই তারা প্রকাশ করছেন না। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার বক্তব্যের। পিয়াসা গতকাল এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাফাতকে নষ্ট করেছেন তার বাবা। তার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছেন নাঈম আশরাফের মতো লম্পটকে। নাঈম আশরাফই মেয়ে সরবরাহ করত সাফাতকে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে পরিচয় হলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নাঈম খুব ঘনিষ্ঠ হয় সাফাতের। ’ সূত্র বলছে, ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতের সংগীতশিল্পী আরজিৎ সিংয়ের কনসার্টকে কেন্দ্র করে সাফাতের সঙ্গে পরিচয় হয় নাঈম আশরাফের। নাঈম আশরাফের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ‘ইমেকার্স’ ওই কনসার্টের আয়োজন করে। কনসার্টের স্পন্সর ছিল আপন জুয়েলার্স। তবে এর আগে থেকেই সাফাতের বাবা দিলদার আহমেদ সেলিমের সঙ্গে বিশেষ সখ্য তৈরি হয় নাঈমের। মিডিয়ায় কাজ করে এমন অনেক সুন্দরী মডেলের সঙ্গে দিলদারকে পরিচয় করিয়ে দেয় নাঈম। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ‘আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে থাকা আসামি নাঈম, বিল্লাল ও রহমত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাঈম আশরাফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। ’ তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাদীর তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আমাদের ধারণা সাফাত, সাকিফ গং ভিডিওচিত্রটি দেখিয়ে ওই ভুক্তভোগীকে দিনের পর দিন ভোগ করতে চেয়েছিল। ভিডিওচিত্র ধারণের জন্য সাফাতকে পরামর্শ দিয়েছিল নাঈম ও সাকিফ। রেইনট্রি হোটেলের কর্মকাণ্ডের পর থেকেই সাফাতরা বিভিন্ন সময় ধর্ষিতাদের ফোন করে তাদের কাছে আসতে বলত। এক পর্যায়ে ধর্ষকদের নম্বর ভুক্তভোগীরা ব্লক করে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা টেক্সট মেসেজ পাঠাত। ’ ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র বলছে, দুই ছাত্রী ধর্ষণের ভিডিওর বিষয়টি জানার পর তা মুছে ফেলার জন্য সৌরভ ও পাপ্পু নামে তাদের দুই বন্ধুকে সাফাত, সাকিফ ও নাঈমের কাছে পাঠিয়েছিল। সম্প্রতি একটি ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন ধর্ষিতার ছবি আপলোড করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ডিসি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা কতগুলো অ্যাকাউন্ট ডিলিট করব? ছবিগুলো অন্যের কাছে যায় কীভাবে? আমরা আমাদের মতো কাজ করছি। ’ নাঈম, বিল্লাল ও রহমতকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সেখানে উপস্থিত ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, বিল্লাল আগেই দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে। নাঈমের সামনে ফের একই ধরনের বক্তব্য দেয়। এ সময় নাঈমের কাছে জানতে চাওয়া হয় বিল্লাল যা বলছে তা ঠিক কিনা, তখন নাঈম ঠিক বলে সম্মতি দেয়। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাঈমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাফাতের সঙ্গে তার কীভাবে পরিচয়, দুই শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্য কাউকে ধর্ষণ করেছে কিনা, গুলশান এলাকার ইয়াবা, সিসা বারগুলোয় কীভাবে অনৈতিক কাজ করত তারা; সাফাত, সাদমান ছাড়াও তার সঙ্গে আর কার কার পরিচয় আছে। বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতারের পর নাঈম আশরাফ ওরফে হাসান মোহাম্মদ হালিমের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এর আগে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদকে পর্যায়ক্রমে চার দিন ও তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আজ আজাদের রিমান্ড শেষ হচ্ছে। বিল্লালের রিমান্ড শেষ হবে কাল। এরা দুই তরুণীকে ধর্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। ২৮ মার্চ ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও প্রভাবশালী আসামিদের হুমকির কারণে মামলা করতে এক মাসের বেশি সময় দেরি করার কথা বাদী নিজেই এজাহারে বলেছেন। পুলিশ সেই মামলা নিতে গড়িমসি করেছিল বলে অভিযোগ ওঠায় ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার নির্দেশে তদন্ত সহায়ক চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। ঘটনার পর বনানী থানায় মামলা গ্রহণে গড়িমসি ও তরুণীদের হয়রানির অভিযোগ বিষয়েও একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান। ইতিমধ্যে কমিটি বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই কমিটিও ইতিমধ্যে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এর মধ্যে একটি কমিটি মামলা নিতে গড়িমসি, প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ পেয়ে বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বনানী থানার ওসি অভিযোগের মৌখিক ও লিখিত জবাব দিয়েছেন তদন্ত কমিটিকে।

প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই দুই তরুণী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow