Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৫১
মাদক ব্যবসা করলে চাকরি ছাড়ুন
------- ডিএমপি কমিশনার
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদক ব্যবসা করলে চাকরি ছাড়ুন

কোনো পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে তত্ক্ষণাৎ চাকরি ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে যেতে বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের লাইসেন্স পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমপি।

সিদ্ধান্ত এসেছে হাইড্রোলিক হর্ন বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জোর অভিযান চালানোরও। গতকাল ডিএমপি সদর দফতরে মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা এলাকার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে র‌্যাব-১-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভুয়া লাইসেন্সের চারটি শটগানসহ চারজন নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মধ্যে। ক্রাইম কনফারেন্সে উপস্থিত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডিএমপি কমিশনারের হুঁশিয়ারির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সভায় কমিশনার ডিএমপির থানাগুলোতে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন কমিশনার। কমিশনারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের জড়িত থাকা অথবা মাদক ব্যবসায়ীদের মদদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটি কোনোভাবেই বরদাস্তযোগ্য নয়। কেউ যদি সংশ্লিষ্ট থাকে তা হলে আমি তাদের পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিতে বলছি। ’ গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিএমপি সদর দফতরে গত আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি), ডিএমপির সব বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও সহকারী কমিশনার (এসি) এবং ডিএমপি সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ক্রাইম কনফারেন্সে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিন আগে রংপুরে ডিসির সই জাল করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত অফিস সহকারী শামসুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, এ ঘটনার সঙ্গে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার আরও অনেক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে অনেক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র কেনাবেচা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ অস্ত্রের হদিস মিলছে না। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীরা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেন, সেগুলোর লাইসেন্স সঠিক কি না তা যাচাই-বাছাই করা উচিত। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে নিহতদের পোস্টমর্টেম করা হবে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো, পুলিশের তদন্তে গতি আনাসহ আরও বিভিন্ন কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আরও কঠোর হবে পুলিশ। আর যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসব হাইড্রোলিক হর্ন বিক্রি হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকালের ক্রাইম কনফারেন্সে ডিএমপির প্রতিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার। এর বাইরেও ঈদুল আজহা ও শোকাবহ আগস্ট মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর রাখার জন্য ডিএমপির সব পুলিশ সদস্যকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow